সাত রঙের চায়ের আসল \`রহস্য\`

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৩ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৯ ১৪২৬,   ১৮ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

সাত রঙের চায়ের আসল 'রহস্য'

ফিচার প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ১৭:৫৬ ৫ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৭:৫৬ ৫ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নীলকণ্ঠ চা কেবিন। দোকানের নামের মধ্যে লুকিয়ে আছে এক ধরণের মাধুর্য। আর এই দোকানেই পাওয়া যায় দেশের সবচেয়ে বিখ্যাত 'সাত রঙের চা'। গ্রীন চা, ব্লাক চা, লেবু, আদা ,দুধ মিশ্রনেই তৈরী হয় এই চা। সাত রঙের চায়ের মধ্যে কোনো ক্যামিকেল নেই। চায়ের সাতটা রং পরিস্কার কোঝা যায়। এই চা নিয়ে লোকমুখে নানা গল্প শোনা যায়, তবে আমরা জানবো এই চায়ের আসল রহস্য।

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার আটানিবাজারে যৌথভাবে ব্যবসায় নেমেছিলেন রমেশ রাম গৌড়। ব্যবসার দুবছর না যেতেই এক অংশীদার পুরো টাকা আত্মসাৎ করে নেয়। পরে তিনি ভাগ্য বদলের জন্য ২০০০ সালের মার্চে পরিবার নিয়ে শ্রীমঙ্গলে চলে আসেন। সঙ্গে ছিলো মাত্র দেড় হাজার টাকা। রামনগর মণিপুরী বস্তিতে ঘর ভাড়া নিয়ে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকায় একটি চায়ের দোকানে চাকরি নেন।

কয়েক মাস যেতে না যেতেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিটিআরআই) সংলগ্ন ফিনলে টি কোম্পানির কাকিয়াছড়া চা বাগানে একটি চায়ের দোকান খুলে বসেন। এরপর নিজে গবেষণা করে ২০০২ সালে এক গ্লাসে দুই-রঙা চা আবিষ্কার করেন। ধীরে ধীরে চায়ের স্তর বাড়াতে শুরু করেন। এ পর্যন্ত তার চায়ের কাপ সাত কালারের সাত স্তরে এসে দাঁড়িয়েছে। রমেশের রাম গৌড়ের সুনাম সারা বিশ্বে।  

বর্তমানে সাত স্তরের চা ৭০ টাকা, ছয় স্তরের ৬০ টাকা, পাঁচ স্তরের ৫০ টাকা, চার স্তরের ৪০ টাকা, তিন স্তরের ৩০ টাকা, দুই স্তরের চা ২০ টাকা, হাই স্পেশাল চা ২০ টাকা, স্পেশাল দুধ চা ১০ টাকা, গ্রিন চা ৫ টাকা, আদা চা ৫ টাকা, লাল চা ৫ টাকা এবং লেবু চা ৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রমেশের আবিস্কৃত এ চায়ের মতো অবিকল চা এখন পাওয়া যায় অনেক স্থানেও। তবে তার চায়ের মতো স্বাদ নেই। রহস্য জনক এই সাত রংঙের চা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে ভাবনীয় বিষয়। কিভাবে একটি গ্লাসে সাতটা রংঙের স্তর। এক লেয়ার অপর লেয়ারের সাথে মিশে না, কিভাবে এ চা তৈরি করা হয়। এই রহস্যময় চা পযটকদের আরও আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়। চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে আসা মানে সাত রংঙের বা সাত লেয়ারের চায়ের সাথে পরিচিত হওয়া। 

শ্রীমঙ্গলের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া উদ্যানের পাশেই চা দোকানটি অবস্থিত। ঢাকা,চট্রগ্রাম কিংবা অন্য শহর থেকে সিলেটগামী ট্রেনযোগে বা সড়ক পথে শ্রীমঙ্গলে বা কমলগঞ্জে আসতে পারবেন। তারপর রিকশা বা যে কোন বাহনযোগে শহরের শ্রীমঙ্গলে চা বাগানে অথবা মণিপুরী অধ্যুষিত রামনগর ও কালিঘাট রোডের ১৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ক্যান্টিনে রমেশের নীল কন্ঠ-এ আসতে পারেন। 

ডেইলিবাংলাদেশ/এনকে

Best Electronics