Alexa সাজেক এখন ‘স্বর্গ’

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৬ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ২ ১৪২৬,   ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪০

সাজেক এখন ‘স্বর্গ’

ভ্রমণ প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৫৮ ১৪ জুন ২০১৯   আপডেট: ১৫:১৩ ১৪ জুন ২০১৯

আদ্রিকা ইকো রিসোর্টের বারান্দা থেকে তোলা

আদ্রিকা ইকো রিসোর্টের বারান্দা থেকে তোলা

ভাবুন তো, শুভ্র সাদা বিছানা থেকে ঘুম ভাঙলো আপনার। চোখ মেলে দেখলেন, চারপাশ মেঘে মেঘে ধূসর! হাত বাড়ালেই তুলো ছেঁড়া মেঘ চলে যায় আঙ্গুলের ফাঁক গলে! তখন তো নিশ্চয়ই মনে হবে, আমি আর পৃথিবীতে নেই। যেন একেবারে ‘স্বর্গের ছোঁয়া’। এই ‘স্বর্গ’ কিন্তু খুব দূরে নয়, সাজেক ভ্যালিতেই।

সকালটা একটু পুরোনো হয়ে গেলেই যোগ হবে সূর্যের সোনালি রঙ। তখনই আকাশের নীলাভ আভা যোগ করে অপরূপ মায়া। এমন দৃশ্যে সারা দিন তাকিয়ে থাকলেও ক্লান্তি আসবে না চোখে মুখে। শুভ্র মেঘে হারিয়ে যেতে যেতে কখন যে দুপুর গড়াবে, টেরই পাওয়া যায় না! দুপুর-বিকেল-সন্ধ্যায়ও মেঘ ধরা দেয় ভিন্ন ভিন্ন রূপে। ডুবন্ত সূর্যের পড়ন্ত বেলায় মেঘের রূপ দেখতে হলে যেতে হবে সাজেকে। দিনের পুরোটা সময়ই দেখা যায়, উঁচু-নিচু, ছোট-বড় পাহাড়ের সারি প্রিয় সবুজ চাদরে মোড়ানো, আর তার ওপর দিয়ে ভেসে বেড়ায় মেঘবালিকাদের দল।

এই সময়ে এমনও হতে পারে, পাহাড়ে উঠতে উঠতে ঘিরে ধরলো মেঘ, নামলো বৃষ্টি। আবার খটখটে রোদ! আস্তে আস্তে বিকেল। উপরে উঠতে উঠতে পেছনে তাকিয়ে দেখবেন অপূর্ব পাহাড়ের নীল সারি। মনে হবে, এক্ষুণি কোনো এক পাহাড়ের সবুজ বিছানায় ঘুমিয়ে যাই! তারপর নাহয় হ্যালিপেডে গেলেন। দেখবেন দূর পাহাড়ের পেছনে আস্তে আস্তে ডুবছে সূর্য। সঙ্গে সঙ্গেই রং বদলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়বে আকাশ, পাহাড় ও মেঘের দল। বদলাতে পারে আপনার মনও।

সাজেকে ঘণ্টায় ঘণ্টায় দৃশ্য পাল্টে

মূলত দুটো পাহাড়ের সমন্বয়ে গঠিত এই সাজেক। দীঘিনালা থেকে উঠে পড়া জিপে যেখানে নামিয়ে দেবে সেটা রুইলুই পাড়া। সেটা ছাড়িয়ে পাহাড়ের উপরে আছে কংলাক পাড়া। এখানে পাহাড়ের চূড়া থেকে উপভোগ করা যায় মেঘের দেশের আদিগন্ত রুপ। সাজেকে যাবার সময় অন্তত একটা রাত সেখানে থাকার পরিকল্পনা করে যেতে হবে। সাজেকের রাত অপূর্ব সুন্দরী। বিশাল আকাশ জুড়ে অগুণতি তারার মেলা, অবাধ্য বালিকার মতো হঠাৎ হঠাৎ উল্কাপতন, নিশ্চুপ চার দিগন্ত, মেঘের মাঝে বজ্রের খেলা সব মিলিয়ে আপনাকে নিয়ে যাবে অন্য এক জগতে। পূর্ণিমা রাতে চাঁদের আলোয় ভাসতে চাইলেও সাজেকের বিকল্প নেই।

ঢাকা থেকে সরাসরি খাগড়াছড়ির বাস রয়েছে। রাতের বাসে রওনা দিলে সকালে পৌঁছবেন। সকালে খাগড়াছড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে পাবেন চান্দের গাড়ি। এসব গাড়ি সরাসরি সাজেক যায়। ভাড়া পড়বে ৭ হাজার টাকার মতো। এক গাড়িতে যেতে পারবেন ১২ জন। সেক্ষেত্রে জনপ্রতি ভাড়া কমে যাবে অনেকটাই। সকাল সাড়ে দশটা এবং বিকেল সাড়ে তিনটার এস্কোটে সাজেকে প্রবেশের সুযোগ মিলবে। সাজেকে প্রচুর রিসোর্ট রয়েছে, মানভেদে ভাড়া ১৫০০ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। বুকিং দিয়ে যাওয়াই ভালো। খাবারের হোটেলেও পেয়ে যাবেন হাতের কাছেই। একটা আবদার রইল, সাজেককে সম্পূর্ণ রূপে দেখতে অন্তত ২ টি বিকেল থাকুন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে