ঢাকা, শনিবার   ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৩ ১৪২৫,   ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪০

সাগর-রুনি হত্যার সাত বছর, তদন্তে ধীরগতি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০০:৪৫ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১২:২৫ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সাত বছরেও উদঘাটিত হয়নি সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা রহস্য। তদন্ত কবে নাগাদ শেষ হবে, সে বিষয়েও মিলছে না সদুত্তর। তদন্ত কর্মকর্তারাও সুর্নিদিষ্ট করে বলতে পারছেন না কিছুই।

আলোচিত এ হত্যা মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন র‍্যাবের এএসপি মো. শহিদার রহমান। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত, ডিএনএ পরীক্ষাসহ তদন্তের প্রয়োজনে যেসব পরীক্ষা করা হয়েছিল, সবগুলোর ফলাফল আমরা পেয়েছি। যুক্তরাষ্ট্রের দুটি অত্যাধুনিক ল্যাবে করা পরীক্ষার ফলাফলও হাতে এসেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এসব পরীক্ষায় কী ফলাফল এসেছে, তা জানাতে অপারগতা জানান র‍্যাবের এই কর্মকর্তা।

মামলার অভিযোগপত্র কবে নাগাদ দিতে পারবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি চলমান প্রক্রিয়া। চার্জশিট দেয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করে দিনক্ষণ দেয়ার সুযোগ নেই। সময় হলে চার্জশিট দেয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন শহিদার রহমান।

এদিকে, আদালতের নিয়ম অনুযায়ী আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার দিন রয়েছে। এখন সময়ই বলে দেবে সাগর-রুনী হত্যা রহস্য ঠিক কবে নাগাদ জনসমক্ষে উন্মোচিত হবে।  

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত আদালত থেকে মোট ৬৩ বার সময় নিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। এর ফাঁকে সময়ে সময়ে তারা দিয়ে গেছেন তদন্তের অগ্রগতিমূলক প্রতিবেদন।

২০১৭ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা র‍্যাবের ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড ফরেনসিক উইংয়ের সহকারী পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন আহমেদ একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন আদালতে।

তিনি বলেন, গতানুগতিক তদন্তের বাইরে অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এ মামলার তদন্ত হচ্ছে। তথ্য-প্রমাণ প্রাপ্তির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি অত্যাধুনিক ল্যাবে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলও এরই মধ্যে পাওয়া গেছে। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় এ মামলায় সবমিলিয়ে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিবেদনের ফলাফল তীক্ষ্ণভাবে পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মামলায় আটজনকে গ্রেফতার দেখানো হলেও বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন ছয়জন। তারা হলেন- হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হওয়া সেই বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুণ ও আবু সাঈদ। আর বাকি দুজন রয়েছেন জামিনে। তারা হলেন- রুনির কথিত বন্ধু তানভীর রহমান ও বাড়ির দারোয়ান পলাশ রুদ্র পাল।

ঘটনাক্রমে জানা যায়, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। এরপরই দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয় এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে। প্রশাসনও খুব শিগগিরই এ হত্যায় দোষীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সাত বছরেও হয়নি এ হত্যাকাণ্ডের রহস্যের উম্মোচন।

হত্যাকাণ্ডের পর রুনির ভাই মো. নওশের আলম রোমানের করা মামলাটি প্রথমে তদন্ত করেন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই জহুরুল ইসলাম। পরে তার কাছ থেকে তদন্তের ভার যায় ডিবির পরিদর্শক রবিউল আলমের কাছে। ২০১২ সালের এপ্রিলে হাইকোর্ট মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয় র‍্যাবকে। এরপর র‍্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তার হাত ঘুরে তদন্তের দায়িত্বে আসেন এএসপি শহিদার রহমান।

গত সাত বছরে সাগর-রুনি হত্যা মামলা নিয়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকেও আন্দোলন, প্রতিবাদ, সভা-সমাবেশ এবং মানবন্ধন হয়েছে। এতো কিছুর পরও কেন এই হত্যার রহস্য উদঘাটন বা খুনিদের আটক করতে পারছে না? জনমনে এ প্রশ্নের কোনো উত্তর মিলছে না। 

সাগর-রুনির মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই কিছু বিষয় বির্তকের জন্ম দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়া কেন এত সাংবাদিক বা লোকজনকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়েছিল? যা আলামত নষ্টে সহায়ক হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এছাড়া সাগর-রুনি যে ফ্ল্যাটে থাকতেন, তার ভিজিটর খাতা আছে, নাইট গার্ড আছে, নামের তালিকা আছে। কারা কখন কোন ফ্ল্যাটে, কার কাছে আসে-যায়, সব লিপিবদ্ধ থাকার কথা।

দীর্ঘদিনেও খুনিদের চিহ্নিত করতে না পারায় স্বজনদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সময় সাগর-রুনির একমাত্র ছেলে মেঘ বাসায় উপস্থিত ছিল। তবে সে হত্যাকাণ্ড নিয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেনি।

অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করেন, যেখানে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ‘ক্লু লেস’ হত্যারহস্য উদঘাটন করে আসামি আটকের গৌরব রয়েছে, সেখানে এমন একটি আলোচিত মামলার রহস্য উদঘাটন বা খুনিদের আটক করতে না পারাটা অবাক করা বিষয়। বিষয়টি আরো গভীরে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেও তারা মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইকে/এস/জেডআর/এসআইএস/টিআরএইচ