Alexa সাংবাদিক ফাগুন হত্যার মামলার অগ্রগতি নেই

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৩ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৮ ১৪২৬,   ১৯ জ্বিলকদ ১৪৪০

সাংবাদিক ফাগুন হত্যার মামলার অগ্রগতি নেই

জামালপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫৯ ২৭ জুন ২০১৯  

ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি বাংলাদেশ

জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনার অদুরে রানাগাছায় রেল লাইনের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া সাংবাদিক ইহসান ইবনে রেজা ফাগুন হত্যার একমাস পেরিয়ে গেছে। কিন্তু ফাগুন হত্যা কোনো অগ্রগতি নেই।

মামলার বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা জামালপুর রেলওয়ের থানার এসআই রকিবুল হক জানান, ইসলামপুর এলাকা থেকে পাংখা নামে একজন এবং ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে তানজিল নামে একজনসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা মূলত অজ্ঞান পার্টির সদস্য। প্রথম দফায় দুদিন করে রিমান্ডে নেয়ার পরও এদের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তানজিলের জন্য আরো ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

এসআই রকিবুল হক বলেন, মূলত আমরা ছিনতাইয়ের বিষয়টি মাথায় রেখেই এগুচ্ছি। যেহেতু নিহত সাংবাদিক ফাগুনের কাছে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন ছিলো এজন্যও অজ্ঞানপার্টির লোকজন তাকে টার্গেট করতে পারে। কারণ ছিনতাইকারীরা সাধারণত ছিনতাইয়ের পরে ট্রেনে থেকে ভিকটিমকে ফেলে দেয়। এতে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন থাকে। কিন্তু ইহসান রেজার গায়ে সে রকম কোনো চিহ্ন ছিল না। সুতরাং এটাকে কোনো সাধারণ ছিনতাইয়ের ঘটনা হিসাবে গণ্য করাও সম্ভব নয়।

স্থানীয় দোকানি রমজান মেম্বার বলেন, ট্রেন থেকে কেউ পড়ে গেলে সাধারণ ট্রেনের যাত্রীরা চিৎকার করে। কিন্তু সেদিন ট্রেন যাবার সময় এ ধরনের কোনো চিৎকার আমাদের কানে আসেনি। আমার দোকান থেকে দুইশ মিটারের মধ্যে ওই সাংবাদিকের মরদেহ পড়ে ছিল। যদি ট্রেন থেকে পড়ত, তাহলে আমরা অবশ্যই টের পেতাম। ট্রেন থেকে না পড়লে কীভাবে এখানে ফাগুনের মরদেহ এলো, এমন প্রশ্নে রমজান মেম্বারের দোকানে জমায়েত লোকজন সন্দেহ করেন, এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জামালপুর রেলওয়ে থানার ওসি তাপস চন্দ্র পন্ডিত জানান, ঘটনার দুদিন পর ২৩ মে কমিউটার ট্রেনের সহকারী ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট (এটিএস) দুলাল হোসেন তাকে জানান। দুলাল বিষয়টি নান্দিনা স্টেশন মাস্টারকে জানিয়েছিলেন কি না এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য দিতে পারেননি এ পুলিশ কর্মকর্তা। তবে এ প্রতিবেদককে দুলালের মুঠোফোন নম্বরটি দেন তিনি। বিষয়টি জানতে গত ১০ দিন ধরে দুলালের মুঠোফোন নম্বরে ফোন দেয়া হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

কমিউটার ট্রেনের জামালপুরের দায়িত্বে থাকা বাচ্চু মিয়া জানান, দুলাল ঈদের আগে ছুটি নিলেও এখনো কাজে যোগ দেয়নি। জামালপুর রেলওয়ে থানার ওসির ভাষ্যমতে, দুলাল জানিয়েছিলেন সেদিন ট্রেনের ছাদ থেকে একজন পড়ে গিয়েছিল।

এদিকে ফাগুন হত্যার বিষয়টি নিয়ে ছায়া তদন্ত করছে র‌্যাব-১৪। জামালপুরের দায়িত্বে থাকা র‌্যাব-১৪-এর পুলিশ সুপার পর্যায়ের কমান্ডিং অফিসার নিহত সাংবাদিক ইহসান রেজা ফাগুনের হত্যাকান্ডের ব্যাপারে কথা বলেছেন, এমনটা জানিয়েছেন ফাগুনের বাবা সাংবাদিক কাকন রেজা। এছাড়াও পিবিআইর জামালপুরের প্রধান সীমা রানী সরকার জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে। তবে এতগুলো সংস্থার নজরে থাকা এবং রেলওয়ে পুলিশের কার্যক্রম সত্ত্বেও একমাস হলে গেলেও মামলাটির তেমন কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশ হয়েছেন ফাগুনের পরিবার ও তার সহকর্মীরা। তাদের ভাষ্য, অনেক বড় ঘটনাই অল্প সময়ের মধ্যে সব তথ্য উদঘাটন করার উদাহরণ রয়েছে আমাদের সামনে। আইনশৃংখলা বাহিনী চেষ্টা করলে এই রহস্যও দ্রুত সময়ের মধ্যে উদঘাটন করা সম্ভব।

ইহসান রেজা ফাগুন অনলাইন পোর্টাল প্রিয় ডটকমের ইংরেজি বিভাগের সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করতেন। কিছুদিন আগে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়েছিলেন তিনি। আরেকটি নিউজ পোর্টাল জাগো নিউজের ইংরেজি বিভাগের সহ-সম্পাদক হিসেবে যোগ দেয়ার কথা ছিল। জাগো নিউজের অফিসে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে গত ২১ মে ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন ফাগুন। কিন্তু সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর থেকেই বাড়ির সাথে ফাগুনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে রাতে  জামালপুরের রানাগাছা নামক স্থানে ঢাকা-জামালপুর রেল লাইনের পাশে তার মরদেহ পাওয়া যায়।

গত ২১ মে ফাগুনকে হত্যা করে নান্দিনার অদুরে রানাগাছা এলাকায় রেল লাইনের পাশে ফেলে রাখা হয়। সেদিন মধ্যরাতে ফাগুনের মরদেহ উদ্ধার করে জামালপুর  রেলওয়ে পুলিশ। এরপর ২৪ মে ফাগুনের বাবা সাংবাদিক কাকন রেজা জামালপুর রেলওয়ে থানায় একটি মামলা করেন। এই মামলার একমাস পার হলেও আসামিদের গ্রেফতারে কোনো অগ্রগতি নেই।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম