Alexa সাঁওতাল পল্লীতে ঋতুরাজকে বরণ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৬ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ২ ১৪২৬,   ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪০

সাঁওতাল পল্লীতে ঋতুরাজকে বরণ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৩৪ ১২ মার্চ ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বসন্ত ঋতু আসলেই গাছে গাছে নতুন ফুলের সমারোহ প্রকৃতি প্রিয় মানুষের দৃষ্টি কাড়ে। শিমুল, পলাশে শোভায় প্রকৃতি নিজেকে নতুন রূপে প্রকাশ করে। আদিবাসী সাঁওতালরাও বসন্তকে বরণ করে নেয় তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য দিয়ে।

এ সময় সাঁওতাল তরুনীরা নতুন নতুন ফুল তাদের খোঁপায় গেঁথে আনন্দে নাচে-গানে মেতে ওঠে। সাঁওতাল গ্রামে গ্রামে চলে আনন্দ উৎসব। বাড়ি বাড়ি তৈরি হয় হাঁড়িয়া। সবাই হাঁড়িয়া খেয়ে আনন্দে বিভোর হয়ে মাদলের তালে তালে গাইতে থাকে, নাচতে থাকে। আর সেই আনন্দ-উৎসবের নাম ‘‘বাহা পরব’’। বাহা অর্থ ফুল। তাই বাংলায় বাহা পরবকে ‘‘ফুল উৎসব’’ বলা হয়।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল সম্প্রদায় মঙ্গলবার নিজস্ব ঐতিহ্যে নেচে-গেয়ে বরণ করে নিলেন ঋতুরাজ বসন্তকে। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লী বাগদা বাজার কাটাবাড়ী মাঠে বাহা পরব বা বসন্ত উৎসবে মেতে ওঠে আদিবাসী সাঁওতালরা। বাহা পরব উদযাপন কমিটি ও অবলম্বন এর আয়োজনে উৎসবে ইউএনডিপি-হিউম্যান রাইটস্ প্রোগ্রাম পৃষ্ঠপোষকতা করে। 

দিনভর ধর্মীয় পূজা-অর্চনা ও উত্তর জনপদের জনপ্রিয় সাঁওতাল সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনায় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক সাঁওতাল নারী-পুরুষ-কিশোরী অংশ নেন। বিভিন্ন বর্ণের আদিবাসী-বাঙালিদের আগমনে মিলন মেলায় পরিণত হয় গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লী। পরে স্থানীয় আদিবাসী শিল্পীদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত সাঁওতাল সাংস্কৃতিক দলের সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। এতে সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্কৃতিক দল অংশগ্রহণ করে। 

দীর্ঘদিন পর এ ধরনের উৎসবের সুযোগ পেয়ে সাঁওতালরা সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত উৎসবের মহড়া দিতে থাকে। উৎসবের জন্য কেনা হয় নতুন কাপড়। উৎসবস্থল আদিবাসীদের বিভিন্ন দাবি দাওয়া সম্বলিত ফেস্টুনে সুসজ্জিত করা হয়। এতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর দাবী দাওয়া সম্বলিত স্মারকলিপি মাননীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন চৌধুরী হাতে তুলে দেন বাহ পরব উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব রুমিলা হেমব্রম। 

সকালে পূজা-অর্চনার পর বাহা পরবের প্রথম অংশে আলোচনা সভা ও পরে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানস্থলের পাশে আদিবাসীদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির তুলে ধরে বিভিন্ন স্টল প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের এমপি প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন গোবিন্দগঞ্জের পৌর মেয়র আতাউর রহমান, ইউএনডিপি হিউম্যান রাইটস প্রোগ্রামের মাইনরিটি এক্সপার্ট শংকর পাল, গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আফজাল হোসেন, গাইবান্ধা জেলা উদীচীর সভাপতি অধ্যাপক জহুরুল কাইয়ুম, আদিবাসী বাঙালি সংহতি পরিষদের আহবায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু, অবলম্বনের নির্বাহী পরিচালক প্রবীর চক্রবর্তী, এনডিএফ এর নির্বাহী পরিচালক ভিক্টর লাকরা, পারগানা পরিষদের সভাপতি নরেন বাস্কে, আদিবাসী গবেষক কেরিনা হাসদা, প্রিসিলা মুরমু, বুধরাই টুডু, সুফল হেমব্রম প্রমুখ। 

এতে সভাপতিত্ব করেন বাহা পরব উদযাপন কমিটির আহবায়ক ফিলিমন বাস্কে।  

মূলত, নববর্ষ হিসেবে ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব পালন করে সমতলে বসবাসকারী আদিবাসী-সাঁওতালরা। উত্তরাঞ্চলে সমতলে বসবাসকারী আদিবাসী জাতি গোষ্ঠীর মধ্যে উড়াও, মুন্ডা, মালো, মাহাতো, মালপাহাড়ী, রাজওয়ারসীসহ মোট ৩৮ টি ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠী এই বাহা উৎসব পালন করে থাকে। বাহা পরবের মূল কথা হচ্ছে এই পরব না করা পর্যন্ত সাঁওতাল মেয়েরা সারজম বাহা (শাল ফুল), ইচাক বাহা, মুরুপ বাহা এগুলো খোঁপায় দিতে পারেনা। এই পরবের মধ্য দিয়েই নতুন বছরের ফুল, ফল, পাতাকে সাঁওতাল আদিবাসীরা ব্যবহার করতে শুরু করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস