Alexa সহশিক্ষা কার্যক্রমে বছরজুড়ে প্রাণবন্ত চুয়েট

ঢাকা, বুধবার   ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ৬ ১৪২৬,   ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

সহশিক্ষা কার্যক্রমে বছরজুড়ে প্রাণবন্ত চুয়েট

চুয়েট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৪৫ ২০ জানুয়ারি ২০২০  

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) আছে নানা সংগঠন। পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে বছরজুড়ে ক্যাম্পাসে সরব থাকে সংগঠনগুলো। আর এসব সংগঠন সম্পর্কে আরো জানাচ্ছেন সাঈদ চৌধুরী। 

জয়ধ্বনি

জয়ধ্বনি চুয়েটের সাংস্কৃতিক সংগঠন। শুরু থেকেই ক্যাম্পাসের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আয়োজন ও পালন করে আসছে। গান, নাচ, মুকাভিনয়, আবৃত্তি, মঞ্চনাটক, থিয়েটার ইত্যাদি প্রতিবছর আয়োজন করে থাকে। 

২০১৭ সালে ধারাভিত্তিক একটি নাটকের মাধ্যমে নাট্য উৎসবে প্রথম স্থান অধিকার করে জয়ধ্বনি। ২০১৬ সালে প্রথম আলো আয়োজিত চুয়েট আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক উৎসবে জয়ধ্বনি প্রথম রানারআপ হয়। এরপর ২০১৭ ও ২০১৮ সালে টানা দুইবার অপ্রতিরোধ্যভাবে জয়ধ্বনি চ্যাম্পিয়ন হয়। তারুণ্য উৎসবেও টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয় জয়ধ্বনি।

সংগঠনের সভাপতি আজহার উদ্দিন ডেইলি বাংলাদেশকে বললেন, সংগঠন নয় এটি একটি পরিবার। সবাই এই পরিবারের সদস্য। এবং এ দাবি করতেই সবাই বেশি ভালোবাসি। শুরু থেকেই ক্যাম্পাসের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আয়োজন ও পালন করে আসছি।   

চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটি 

করতালি: বিতর্ক শাখা, মিছিল: প্রকাশনী শাখা, প্রভাতফেরী: সাংস্কৃতিক শাখা নিয়ে চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটি। প্রত্যেকটি কার্যপরিষদ দায়িত্ব পাবার পর প্রথমেই আন্ত:বিভাগীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার (আইডিডিসি) আয়োজন করে। যেখানে ক্যাম্পাসের নবীনতম ব্যাচ তাদের বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করে। এবারের আইডিডিতে ১০টি বিভাগের ৩২টি দলের হয়ে ৯৬ জন বিতার্কিক বিতর্ক করেছিলো। 

একইসঙ্গে প্রকাশিত হয় ম্যাগাজিন ‘আড্ডারু’, প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় ‘তারুণ্য উৎসব’। একাধারে আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা, আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, থিয়েটার, ফটোগ্রাফি এক্সিবিশন, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসব, মুভি প্রিমিয়ার, কনসার্ট হয়। 

চুয়েট ডিএসের সভাপতি তানভীর আহমেদ লরেল জানান, শুরু থেকেই বিতর্ক এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে আসছে চুয়েট ডিব্টিং সোসাইটি। এ ধরাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। 

চুয়েট সাংবাদিক সমিতি 

সংবাদমাধ্যম একটি দেশের প্রতিচ্ছবি। যে প্রতিচ্ছবির দিকে তাকালে সে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণা পাওয়া যায়। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চুয়েটে ধীরে ধীরে সাংবাদিকতা চর্চা দিনদিন বাড়তে থাকে। 

সাংবাদিকদের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি এবং পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়ায় ২০০৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর কয়েকজন উদ্যমী তরুণ প্রকৌশলী সাংবাদিকের হাত ধরে চুয়েটে সাংবাদিক সমিতির যাত্রা শুরু হয়। 

চুয়েট সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আতাহার মাসুম তারিফ বলেন, শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক, বিতার্কিত, স্বেচ্ছাসেবী কাজকর্ম দেশবাসীর কাছে তুলে ধরতে চুয়েট সাংবাদিক সমিতি নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। প্রকৌশল শিক্ষার মতো ব্যস্ততম শিক্ষা কার্যক্রমে সাংবাদিকতার মতো জটিল পেশা নিতান্তই বিলাসিতা। তবে এ যেনো ‘ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো’ সমপর্যায়ের। তবুও চুয়েট সাংবাদিক সমিতির প্রতিটি সদস্য চুয়েটকে ভালোবেসে তাদের লেখনীর মাধ্যমে দৈনন্দিন নানা সংবাদ দ্রুততর সময়ে প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং টিভি মিডিয়ায় প্রকাশিত করতে নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছে। 

গ্রিন ফর পিস 

চুয়েটের একমাত্র পরিবেশ ও মানবতাবাদী সংগঠন ‘গ্রিন ফর পিস’। ‘সবুজ স্বর্গ’ উপাধিতে খ্যাত এই চুয়েট নামকরণের পথিকৃৎ ও অগ্রদূত এই সংগঠনটি গড়ে উঠে ১৯৮৯ সালে। সামাজিক কার্যক্রম এর অংশ হিসেবে গ্রিন ফর পিস বৃক্ষরোপণ, ক্লিনিং ক্যাম্পেইন, রক্তদান কর্মসূচি নিয়মিতভাবে পালন করে আসছে। 

সংগঠনটির সভাপতি ফয়সাল আহমেদ জানান, চুয়েটের গন্ডি পেরিয়ে এই সংগঠনের কাজের ব্যপ্তি এখন ছড়িয়ে পরেছে দেশের প্রত্যন্ত জেলাগুলোতেও। এছাড়াও প্রকৌশল শিক্ষার সাথে জড়িত এই সংগঠনের মানুষগুলো প্রতিবছর তাদের টাইটেল প্রোগ্রাম ‘গ্রিন ডে’ আয়োজন করে। সঙ্গে থাকে গ্রিন অলিম্পিয়াড, গ্রিন সেমিনার, গ্রিন প্রোজেক্ট। এসব প্রোগ্রামে বিভিন্ন স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে থাকে।

রোবো মেকাট্রনিক্স অ্যাসোসিয়েশন

রোবটিক্স কার্যক্রম নিয়ে ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রোবো মেকাট্রনিক্স এসোসিয়েশন (আরএমএ)। আরএমএ সভাপতি সৌরভ রাজিত রিদন বলেন, রোবো মেকাট্রনিক্স এসোসিয়েশন (RMA) ক্যাম্পাসে রোবোটিক্স চর্চার প্রচার ও প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। এটি বছরের বিভিন্ন সময়ে রোবোটিক্স কম্পিটিশন আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। সংগঠনটির বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রয়েছে রোবোটিক কম্পিটিশন, ওয়ার্কশপ, নবীনদের রিসিপশন। 

অ্যান্ড্রোমিডা স্পেস অ্যান্ড রিসার্চ অরগানাইজেশান (অ্যাসরো) 

অ্যান্ড্রোমিডা স্পেস এন্ড রিসার্চ অরগানাইজেশান (অ্যাসরো) প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১০ সালে। অ্যাসরোর সভাপতি খন্দকার এহসানুল করিম জানান, প্রতি বছরই অ্যাসরোর নানা পরিকল্পনা থাকে। এরমধ্যে রয়েছে, আন্তঃ ও আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক টেকনোলজিক্যাল অনুষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক বিভিন্ন সেমিনার বা ওয়ার্কশপ, সংগঠনটির তৈরি প্রজেক্টসমূহ বিভিন্ন স্কুল কলেজে আউটরিচিং করা। ২০১৯ সালে টেকনোক্রেজ ১৯ ও ২০১৮ সালে 'রোবোরেস সিজন-১ আয়োজন করেছে অ্যাসরো।

চুয়েট ক্যারিয়ার ক্লাব 

ক্রমশ তথ্যের সাগরে ভাসতে থাকা এই প্রজন্মের জন্য নিয়মমাফিক ক্যারিয়ার গাইডলাইনের বিকল্প নেই। সেই প্রেক্ষিতেই ২০১৬ সালের ২৫ মার্চ কয়েকজন উদ্যোগী তরুণদের হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয় চুয়েট ক্যারিয়ার ক্লাব। 

চুয়েট ক্যারিয়ার ক্লাবের সভাপতি মশিউর রহমান মামুন জানান, সদ্য স্নাতক পাস করা প্রকৌশলী কীভাবে তার ক্যারিয়ার গঠন করতে পারেন, তার উপর ভিত্তি করে ক্লাবটি পাঁচটি বিশেষ উইং নিয়ে গঠিত: BCS wing, Higher Study wing, Research wing, Entrepreneurship wing এবং Presentation wing। বছরে দুটি সিগনেচার ইভেন্ট (ট্যালেন্ট হান্ট এবং ক্যারিয়ার ফেস্ট) বাদেও ক্যারিয়ার ক্লাব হাতে নিয়েছে ‘Skill Development Project’।

চুয়েট স্পোর্টস ক্লাব

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি ও মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে চুয়েট স্পোর্টস ক্লাব কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। ২০১৮ থেকে যাত্রা শুরু করে এ পর্যন্ত চুয়েট স্পোর্টস ক্লাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া পরিবেশ আরো সুন্দর করেছে। 

সংগঠনটির সভাপতি আশফাক জাহান তানজীম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, খেলাধুলা পারে একটি সুন্দর সমাজ গঠন করতে। সব ধরনের অন্যায়, অবিচার ও মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টিতে খেলাধুলার প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে। খেলাধুলা পারে ভ্রাতৃত্ব-বন্ধন সূদৃঢ় করতে, খেলাধুলা পারে ছাত্র-শিক্ষক সম্প্রীতি মজবুত করতে। চুয়েট স্পোর্টস ক্লাব বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার আয়োজন করে সব সময়। 

চুয়েট চলচ্চিত্র সংসদ

‘পরিবর্তনের জন্য, গণমানুষের চলচ্চিত্র’ এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করে চুয়েট চলচ্চিত্র সংসদ। চুয়েট চলচ্চিত্র সংসদের সভাপতি একতিয়ার রেজা রিওন বলেন, বিভিন্ন চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি চলচ্চিত্র বিষয়ক কর্মশালা ও চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজন করে থাকে সংগঠনটি। জাতীয় দিবস গুলোতে বিশেষ চলচ্চিত্র প্রদর্শন করে থাকে। এই সংসদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত কার্যনির্বাহী কমিটি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।

ভাষা ও সাহিত্য সংসদ 

ভাষা ও সাহিত্যপ্রেমী শিক্ষার্থীদের হাতধরে সংগঠনটির যাত্রা শুরু চুয়েটে। পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষা, তাদের সাহিত্য চর্চা, ইতিহাস, প্রকাশনা, বইপড়া আন্দোলন এবং সমসাময়িক বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাকে করে নিয়েছে তাদের প্রাত্যহিক কাজের মতোই। বাংলাদেশের বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রকাশনা বিজয় কেতন, বিজয় সমীপে, রবীন্দ্রনাথের জন্মমাসে রবীন্দ্র ভুবন ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে অনলাইন ভিডিও প্রকাশনা তো চলছেই। 

সংগঠনটির সভাপতি ফরহাদ শাহী আফিন্দী জানান, এই সংগঠনের কার্যক্রমসমূহ শিক্ষার্থীদের প্রকৌশল শিক্ষার পাশাপাশি নিজের মাতৃভাষা সহ অন্যান্য ভাষা ও সাহিত্য চর্চার সুযোগ বিকশিত করবে ।

আইইইই চুয়েট স্টুডেন্ট ব্রাঞ্চ 

ইনস্টিটিউট অফ ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারস (আইইইই) চুয়েট স্টুডেন্ট ব্রাঞ্চ ১৪ নভেম্বর ২০১৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। ছাত্রছাত্রীদের ইলেক্ট্রনিক্সের বৈচিত্র্যপূর্ণ দুনিয়ার সঙ্গে পরিচয় করানোর মাধ্যমে তাদের আগ্রহ বিকাশের সুযোগ করে দিচ্ছে। 

আইইইই চুয়েট ডব্লিউআইই অ্যাফিনিটি গ্রুপের চেয়ারপারসন মৌমিতা সেন শর্মা জানান, আইইইই একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে যেমন সাহায্য করে ঠিক তেমনই মানবকল্যানে প্রযুক্তিকে ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে উৎসাহিত করে। এছাড়াও আইইইই এর সদস্যপদ প্রচার এবং সমর্থনে সংস্থাটি কাজ করে যাচ্ছে এবং অন্যান্য সহযোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠনের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ছাত্রছাত্রীদের দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশে ভূমিকা রেখে চলছে।

চুয়েট কম্পিউটার ক্লাব

তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় বিস্ময় হলো কম্পিউটার। এখন এমন কোনো কাজ নেই যা কম্পিউটারে হয় না। তাই এই ক্রমবর্ধমান পৃথিবীতে কম্পিউটারের জ্ঞান ব্যতীত টিকে থাকা মুশকিল। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সমানতালে চুয়েটকে এগিয়ে নিতেই এই ক্লাবের যাত্রা শুরু। সংগঠনটির সভাপতি ফাহাদ আরেফিন সাকিব জানান, ক্লাবটি যে শুধুমাত্র কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করে এমনটা নয়। কম্পিউটার আজকাল সবার একাডেমিক এবং প্রফেশনাল জীবনের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে, তাই সকল বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্যই এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম