সহজেই স্ট্রোক সনাক্তের উপায়

.ঢাকা, শুক্রবার   ২৬ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ১২ ১৪২৬,   ২০ শা'বান ১৪৪০

সহজেই স্ট্রোক সনাক্তের উপায়

 প্রকাশিত: ১৫:৪৯ ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১০:০৪ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মস্তিষ্কে রক্ত ক্ষরণ

মস্তিষ্কে রক্ত ক্ষরণ

মস্তিষ্কে রক্ত ক্ষরণ কিংবা আঞ্চলিকভাবে রক্ত চলাচল বন্ধ হওয়া এই দুই অবস্থাতে স্ট্রোক-এর আওতায় আসে। দুটি অবস্থার লক্ষণগুলো কিন্তু একই। তবে রোগীর অবস্থা কতটা খারাপ তা নির্ভর করে মস্তিষ্কের অঞ্চলসমূহের কোন এলাকায় রক্ত চলাচলে ব্যত্যয় ঘটলো, কতটা এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হল এবং কতো দ্রুত অঘটনটি ঘটে থাকে, তার উপর।

সাধারণত যেসব উপসর্গ দেখা যায়:

১. মাথা ঘুরানো।
২. হাটতে অসুবিধা হওয়া।
৩. ভারসাম্য রক্ষায় অসুবিধা হওয়া।
৪. কথা বলতে সমস্যা হওয়া।
৫. অবশ।
৬. শারীরিক দূর্বলতা।
৭. শরীরের এক পাশ অকেজো হওয়া।
৮. চোখে ঘোলা লাগা।
৯. অন্ধকার লাগা বা ডাবল দেখা।
১০. হঠাৎ খুব মাথা ব্যথা।

মস্তিষ্কে রক্ত ক্ষরণজনিত স্ট্রোক ভয়ানক। তা যদি মস্তিষ্কের অতীব গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ঘটে, তবে তা দ্রুত রোগীর জীবনাবসানের কারণ হয়। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, বহুমূত্র, মাথায় তীব্র আঘাত ছাড়াও কতিপয় জন্মগত কারণ, যেমন ধমনীর দেয়ালের দুর্বল অংশ ফেটে যাওয়া, ধমণী-শিরার ভেতর অস্বাভাবিক সংমিশ্রণ, ইত্যাদি থেকে রক্ত ক্ষরণ সচরাচর ঘটে থাকে। রোগ নির্ণয়ে দ্রুত ব্যাবস্থা অতীব জরুরী। কেননা মস্তিষ্কে রক্ত ক্ষরণের পর কোষগুলো ফুলে উঠতে শুরু করে, মস্তিষ্ক করোটি বা স্কাল চারপাশ থেকে প্রায় বদ্ধ বিধায় আক্রান্ত মস্তিষ্ক দ্রুত জটিলতার শিকার হয়। মস্তিষ্ক হারনিয়েশন হচ্ছে এর অবশ্যম্ভাবী পরিণতি- অর্থাৎ দূর্বল অংশ গলিয়ে মস্তিষ্কের গুরুত্বপর্ণ অংশ বের হয়ে আসে এবং রোগী দ্রুত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। আমরা সবাই-যদি স্ট্রোক এর এই ছোট্ট সাধারণসণাক্ত করণ উপায়টা শিখতে পারি তবে হয়তো আমরা স্ট্রোকের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের প্রিয়জনদের রক্ষা করা সম্ভব।

সত্য ঘটনা: একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে একজন ভদ্রমহিলা টাইলসে জুতোর হীল বেঁধে হঠাৎ হোঁচট খেয়ে পড়ে যান। উঠে দাঁড়িয়ে তিনি বললেন, সবকিছু ঠিক আছে। কেউ একজন অ্যাম্বুলেন্স ডাকার কথা বললেও তিনি তাতে রাজি হননি। পরবর্তীতে তিনি খাবার খেতেও বসলেন। যদিও মনে হচ্ছিলো যেন তিনি একটু কেঁপে কেঁপে উঠছেন। অনুষ্ঠানের সম্পূর্ণ সময় জুড়েই তিনি উপস্থিত থাকলেন। পরদিন দুপুরে ভদ্র মহিলার স্বামী ফোন করে জানালেন, তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সন্ধ্যা ছয়টার সময় তিনি মারা গেলেন।

মূল যে ঘটনা ঘটেছিল তা হলো, তিনি অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় স্ট্রোক করেছিলেন। সেখানে যদি কেউ জানতেন, কিভাবে স্ট্রোক সনাক্ত করা সম্ভব, তাহলে হয়তো ভদ্র মহিলা আজও বেঁচে থাকতেন। সবাই যে মৃত্যুবরণ করে, তা নয়। অনেকের আবার মুমূর্ষ অবস্থায় ঠাঁই হয় বিছানায়। একজন মস্তিষ্ক বিশেষজ্ঞ বলেন, যদি একজন স্ট্রোকের শিকার রোগীকে স্ট্রোক হবার তিন ঘন্টার মধ্যে হাসপাতালে নেয়া যায়, তবে তাকে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ অবস্থায় ফেরত পাওয়া সম্ভব। শুধু জানতে হবে কিভাবে স্ট্রোক চেনা যায়।

স্ট্রোককে চিনুন সহজ উপায়ে: মাঝে মাঝে স্ট্রোকের উপসর্গ সনাক্ত করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। আমাদের অজ্ঞতার কারণেই নেমে আসে যাবতীয় দূর্যোগ। স্ট্রোকের শিকার রোগীর মস্তিষ্কে যখন ভয়ানক রকম ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে, পাশে দাঁড়ানো প্রিয়জনটিই হয়তো বুঝতে পারছে না, কি অপেক্ষা করছে তাদের কাছের মানুষের জীবনে। সহজ উপায়ে স্ট্রোক সনাক্ত করার উপায়।

সহজ তিনটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করুন:

S– Smile রোগীকে হাসতে বলুন।
T– Talk রোগীকে আপনার সঙ্গে একটি বাক্য বলতে বলুন। উদাহরণঃ আজকের দিনটা অনেক সুন্দর।
R– Raise hand রোগীকে একসঙ্গে দুই হাত উপরে তুলতে বলুন। এর কোনো একটিতে যদি রোগীর সমস্যা বা কষ্ট হয়। তৎক্ষণাৎ দেরি না করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এবং চিকিৎসককে সমস্যাটি খুলে বলুন।

আরো কিছু শনাক্তকারী উপায় জেনে নেই-

১. শারীরিক পরিমাপ: ব্লাড প্রেসার মাপা, রক্তে কোলস্টেরল মাপা, ডায়াবেটিস মাপা, আমায়িনো এসিড মাপা।
২. আল্ট্রাসাউন্ড: ঘাড়ের আর্টারির ছবি নিয়ে দেখা যে কথাও রক্তনালী সরু কিংবা বন্ধ হয়ে গেছে কি-না।
৩. আর্টরীয়গ্রাফি: রক্তনালীতে এক ধরনের রং প্রবেশ করিয়ে এক্স-রে করানো, এতে রক্ত চলাচলের একটা ছবি পাওয়া যায়।
৪. সি.টি স্ক্যান: চুম্বকক্ষেত্র তৈরী করে দেখার চেষ্টা করা হয় যে মস্তিষ্ককলার কোন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি-না।

ইকো কার্ডইওগ্রাফিতে আল্ট্রা সাউন্ড ব্যবহার করে হৃদপিন্ডের একটা ছবি তুলে দেখা হয় কোনো জমাট রক্ত, বুদ বুদ কিংবা অন্যকিছু ( রক্ত চলা চল বন্ধ করছে কিনা) রোগী বলতে স্ট্রোকের শিকার সন্দেহ করা ব্যক্তি বোঝানো হয়েছে। সনাক্তকরণের আরেকটি উপায় হচ্ছে, রোগীকে বলুন তার জিহ্বা বের করতে। যদি তা ভাঁজ হয়ে থাকে, বা অথবা যদি তা বেঁকে যে কোনো একদিকে চলে যায়। সেটাও স্ট্রোকের লক্ষণ, তৎক্ষণাৎ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। একজন খ্যাতনামা হৃদ বিশেষজ্ঞ বলেছেন, যদি আমরা সবাই-ই এই সহজ ব্যাপারগুলো জেনে রাখি তবে আমরা একজনের হলেও জীবন বাঁচাতে পারবো।
             
ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস/এসজেড