.ঢাকা, সোমবার   ২২ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৮ ১৪২৬,   ১৬ শা'বান ১৪৪০

সর্বোচ্চ উচ্চতাসম্পন্ন পাঁচ জলপ্রপাত

 প্রকাশিত: ১৯:৪৭ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ২০:০১ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ছবি: সংগৃহিত

ছবি: সংগৃহিত

পাহাড়ের চূড়া বেয়ে নেমে আসছে শুভ্রতা। সৌন্দর্যে ভরপুরা প্রকৃতির আরো একটি উদাহরণ জলপ্রপাত। প্রকৃতির কোল বেয়ে নেমে আসছে পানির স্রোত সেইসঙ্গে পানির ছন্দ। মুহুর্তেই যেন উপস্থিত প্রকৃতিপ্রেমীকে স্বর্গের আস্বাদ বিলিয়ে দেয় পাহাড় থেকে নিঃসৃত হয়ে পড়া জলের চঞ্চলতা। ভূপৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত জলধারা যখন কোন খাড়াপ্রান্তে এসে নিচে পতিত হয় তখন তাকে জলপ্রপাত বলে। হয়তো বিশাল একটা নদী অথবা সরু একটা জলপ্রবাহ পাহাড় বেয়ে নামতে নামতে হঠাত পাহড়ের খাড়া প্রান্ত থেকে নিচে পতিত হলো, আর তখনই একটি দৃষ্টিনন্দন জলপ্রপাতের সৃষ্টি হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দৃষ্টিনন্দন সব জলপ্রপাত রয়েছে। এগুলোর মধ্য থেকে সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন যেগুলো এমন ৫টি জলপ্রপাত সম্পর্কে জেনে নিন-

ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত:

এটি আঞ্চলিকভাবে ‘দ্য স্মোক দ্যাট থান্ডার্স’ নামে পরিচিত। দক্ষিণ আফ্রিকার জাম্বিয়া এবং জিম্বাবুয়ের বর্ডারের কোল ঘেঁষে বয়ে চলা জাম্বেজি নদীর পাশেই ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতের অবস্থান। প্রকৃতির সাতটি অসাধারণ সৌন্দর্যের মধ্যে উঠে আসে এই জলপ্রপাতের নামটি। এটি উচ্চতায় ১০৮ দশমিক ৩ মিটার এবং প্রস্থে ১ হাজার ৭০৩ মিটার। প্রতি সেকেন্ডে এই জলপ্রপাত বেয়ে পড়ে ১ মিলিয়ন লিটার পানি। এই জলপ্রপাতের পানির শব্দ ১ মাইল দূর পর্য৭ন্ত কানে ভেসে আসে। প্রতি বছর আড়াই লাখেরও বেশি পর্য টক এই জলপ্রপাতটি দেখতে ভীড় জমান। জিম্বাবুয়ের ভিক্টোরিয়া ফলস ন্যাশনাল পার্ক এবং জাম্বিয়ার মোজি-ওয়া-তুনিয়া ন্যাশনাল পার্ক ব্যাপক এলাকা নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে। আশেপাশের বনে অ্যান্টিলোপ, হাতি, জিরাফ, জেব্রা, সিংহ, চিতা ইত্যাদি প্রাণীর বসবাস। পাহাড়ের চূড়ায় বাজপাখি, ঈগল আবাস গড়েছে।

ইগুয়াজু জলপ্রপাত:

ইগুয়াসু জলপ্রপাত আকারে নায়াগ্রা জলপ্রপাতের চেয়ে বড়। ইগুয়াজু জলপ্রপাতটি দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার মধ্যে অবস্থিত। এটিতে ১ দশমিক ৬৭ মাইল লম্বা ইগুয়াজু নদী থেকে ২৭৫ টি ধারায় জল পতিত হয়। শক্তিশালী জল পতন সম্বলিত ইউ আকৃতির এ জলপ্রপাতটিকে 'দ্য ডেভিলস থ্রট' বলা হয়। আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের ফলে সৃষ্ট এ জলপ্রপাতটি প্রকৃতির এক অসাধারণ উপহার। তুলনামূলকভাবে এটি খুব বেশি উঁচু নয়। পারানা মালভূমির ঢাল বেয়ে পাহাড়ি ঝর্ণাধারা নেমে এসে প্রায় ৭৩ মিটার নিচে পতিত হয়। এর সবচেয়ে বড় জলপতনের দৈর্ঘ্য ২৬৯ ফুট। সম্প্রতি পৃথিবীর নতুন প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য মনোনয়নের ফাইনাল তালিকায় স্থান পেয়েছে। বর্ষাকালে এটির প্রশস্ততা প্রায় ৪ কিমি-এ গিয়ে দাঁড়ায়। তবে শুষ্ক মৌসুমে এটি প্রায় ৭৩০ মি প্রস্থের দুইটি আলাদা জলপ্রপাত হিসেবে পতিত হয়।

নায়াগ্রা জলপ্রপাত:

উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী এবং পৃথিবীর সুন্দরতম জলপ্রপাত হলো নায়াগ্রা। এটি বিশাল জলরাশি নিয়ে আমেরিকার সবচেয়ে পুরেনা পার্ক, 'দ্য নায়াগ্রা রিজারভেশন পার্কে অবস্থিত যার কিছু অংশ কানাডার ওন্টারিওতে পড়েছে। চারটি বিখ্যাত হ্রদের (সুপিরিয়র, মিশিগান, হারন ও ইরাই) পানি নায়াগ্রা নদীতে পড়ার পর তা ওন্টারিও হ্রদে পতিত হয়। ৫১ মিটার উচ্চতার এই জলপ্রপাত থেকে প্রতি সেকেন্ডে ৩ হাজার ১৬০ টন পানি পতিত হয়। পৃথিবীর ফ্রেস ওয়াটারের পাঁচ ভাগের এক অংশ এখান থেকে সাপ্লাই হয়। ১৮শতকের দিকে নায়াগ্রা জলপ্রপাতে পর্যটকদের আগমন শুরু হয়।

কাইটার জলপ্রপাত:

দক্ষিণ আমেরিকার আমাজোনের গুয়ানা পার্বত্য অঞ্চলে অস্থিত এ জলপ্রপাতটি প্রকৃতির আর একটি সুন্দর উপহার। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী জলপ্রপাত গুলোর একটি  এর রয়েছে অস্বাভাবিক উচ্চতা এবং চিত্তকর্ষক পানির আঁধার। পর্যটকরা এর চারপাশ ঘেরা রেইন ফরেস্টের মধ্যকার বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও বন্য প্রাণী দেখেও মুগ্ধ হয়। এই স্পট থেকে কাইটার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের দূরত্বের সময়সীমা মাত্র ১৫ মিনিট।  

অ্যাঞ্জেল জলপ্রপাত:

পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু এই জলপ্রপাতটির উচ্চতা ৯৭৯ মিটার এবং গভীরতা ৮০৭ মিটার। এই জলপ্রপাতের উপরের অংশে রয়েছে বিস্তৃত ভেনিজুয়েলা রেইনফরেস্ট। প্রতি বছর লাখ লাখ পর্য টক এই জলপ্রপাতের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে ভীড় জমান। জলপ্রপাতটি ১৯৩৭ সালে মার্কিন বিমানচালক জিমি অ্যাঞ্জেল আবিষ্কার করেন। এর পর থেকে তাঁর নামানুসারেই এটির পরিচিতি লাভ করে। স্থানীয় আদিবাসীরা জলপ্রপাতটিকে বলে কেরেপাকুপাই মেরু।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস/এসজেড