জীবন যুদ্ধে হার না মানা সুন্দর আলী

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৩ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৯ ১৪২৬,   ১৭ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

জীবন যুদ্ধে হার না মানা সুন্দর আলী

 প্রকাশিত: ১৯:২৩ ৮ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ১৯:২৮ ৮ অক্টোবর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কড়া রোদ, হাতে ভর করে চলা লাঠি। গায়ে ময়লা পাঞ্জাবী আর লুঙ্গি। ঘাম ঝড়ছে কপাল বেয়ে, ভিজছে গায়ের পাঞ্জাবিও। শরীরের চামড়ায় আর কপালে বয়সের ছাপ। মাথায় বোল ভরা সবজির বোঝা নিয়ে হাটছে, যে যেখানেই ডাকছে সেখানেই বসে মাথার বোল নামিয়ে বিক্রি করছে ফরমালিন মুক্ত টাটকা শাক-সবজি। জীবন প্রায় শেষ। 

লাঠির ভরে ঠুক ঠুক শব্দে চলা জীবন যুদ্ধে হারতে শিখেনি সুন্দর আলী। এ যেন তারুণ্যকে হার মানানো। হার মানিয়েছে প্রতিটি বিবেককে। সুন্দর আলী দেবিদ্বার উপজেলার গুণাইঘর উত্তর পূর্ব-পাড়া গ্রামের মৃত হাজী আবিদ আলীর ছেলে। স্ত্রী নুরজাহান বেগমকে (৬৫) নিয়ে তার ছোট্ট সংসার। 

আশি বছর পার হলেও এ বয়সেই পথে প্রান্তরে বিক্রি করছে নিজের হাতে লাগানো ফরমালিন মুক্ত শাক-সবজি। 

সাংবাদিক পরিচয়ে কথা বলতে গেলে, প্রথমে কথা বলতে চাননি সুন্দর আলী। চেহারায় ভয় আর আতংকের ছাপ। পরে প্রতিবেদকের মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন,‘বাবা আমি সহজ-সরল মানুষ, কোন বিপদ থেকে কোন বিপদে পড়ি, আমাকে বিপদে ফেলো না। প্রতিবেদক নিজেকে সন্তান পরিচয় দেয়ায় তৃপ্তির ঢেকুর নিলো সুন্দর আলী। শেষ বয়সে কেন এমন সবজি বিক্রি করছেন জানতে চাওয়ায়, সুন্দর আলী বলেন, আমার রঙ লাগে বিক্রি করতে। মানুষকে আমার হাতের লাগানো টাটকা শাক-সবজি খাওয়াতে পারি এতেই আমি খুশি। 

বাড়িতে কে কে থাকেন এমন প্রশ্ন করায় সুন্দর আলী বলেন, আমার সবি আছে, শুধু নেই বংশে প্রদীপ জ্বালানোর মত কোন সন্তান। প্রায় ৩৫ বছর আগে মিজান নামে একটি পুত্র সন্তান হলেও অজ্ঞাত এক রোগে মারা যায় সে। এরপর আর সন্তানের মুখ দেখেনি। 

খোঁজ  নিয়ে জানা যায়, নি:সন্তান এই দম্পতির জায়গা জমি থাকলেও তিলে তিলে গড়া সহায় সম্পত্তির এখন আর অবশিষ্ট কিছুই নেই। আস্তে আস্তে সব সম্পত্তি টাকা-পয়সা ছাড়াই মাদ্রাসা-মসজিদ ও ভাতিজাদের নামে লিখে দেন সুন্দর আলী। এখন শুধু ভরসা  মাথা গোজার ঠাই ছোট্ট কুঁড়ের ঘর আর সবজি চাষ করার মত একটু জমি। জমিতে মাথার ঘাম ফেলে নিজের হাতে লাগানো বিভিন্ন প্রজাতির শাক-সবজি বিক্রি করেই চলছে দু’জনের সংসার। হার্ট ও বয়সের কারণে শরীরের বিভিন্ন সমস্যায় প্রতি মাসে প্রায় ৫ হাজার টাকার ওষধ খেতে হয় সুন্দর আলীকে। একই সমস্যায় ভুগছে স্ত্রী নুরজহান বেগমও। তাকে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকার ওষুধ খেতে হয়। শাক সবজি বিক্রি করেই কি ওষধ কিনতে হয়? প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে সুন্দর  আলী জানান, শাক সবজি বিক্রি করে আর কত টাকা পাই ? ভাতিজারা মাঝে মাঝে ওষধ কিনার টাকা দেয়। 

গুনাইঘর উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম  বলেন- সুন্দর আলী ব্যক্তি হিসেবে খুব সহজ সরল জীবন যাপন করছে। সে এ বয়সেও জীবনে হারতে শেখেনি । কারও দয়ায় না বেঁচে পরিশ্রম করছে। এ থেকে তরুণ প্রজন্মের শিক্ষা নেয়া উচিত ।

ডেইলি বাংরাদেশ/জেডএম 

Best Electronics