.ঢাকা, শুক্রবার   ১৯ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৬ ১৪২৬,   ১৩ শা'বান ১৪৪০

সর্বনাশা পদ্মার ‘ভিন্ন রূপ’

সিদরাতুল সাফায়াত ড্যানিয়েল

 প্রকাশিত: ১৫:৩০ ৮ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৬:১৬ ৮ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: মেহেদি হাসান গালিব

ছবি: মেহেদি হাসান গালিব

'সর্বনাশা পদ্মা নদী তোর কাছে শুধাই

বল আমারে তোর কি রে আর

কুল কিনারা নাই, কুল কিনারা নাই

ও নদীর কুল কিনারা নাই।'

বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী আব্দুল আলীমের এই গানটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় পদ্মার চির পরিচিত এক রূপের সঙ্গে- সর্বনাশা পদ্মা নদী। নদী ভাঙনের আতঙ্ক যেনো নতুন কিছু নয় পদ্মা-পাড়ের মানুষদের জন্য। এ পর্যন্ত কতজনের অজস্র স্মৃতি বিজড়িত ভিটেমাটি, কত জমিজমা বিলীন হয়ে গিয়েছে এই নদীর বুকে তার ইয়ত্তা নাই। তারপরও মানুষ বাসা বাঁধে এই সর্বনাশা পদ্মার পাড়ে, স্বপ্ন দেখে এই পদ্মাকে ঘিরেই।

পদ্মার চির পরিচিত এই সর্বনাশা রুপের বাইরেও রয়েছে ভিন্ন কিছু রূপ, রয়েছে ভিন্ন কিছু দৃশ্য। প্রতিদিন সূর্যের আলো শিশিরভেজা ঘাসে পৌঁছাবার আগেই পদ্মার পাড়ে ভীড় জমতে শুরু করে নানাবয়সী মানুষদের। তাদের কেউ বা আসেন হাঁটার জন্য, কেউ বা আসেন ব্যায়াম করতে, আবার কেউ কেউ বা আসেন নদীর তীরের বিশুদ্ধ বাতাসে খানিকটা সময়টা কাটাতে। শুধু কি সকাল, বিকেল ও সন্ধ্যাতেও লোকে লোকারণ্য হয়ে থাকে পদ্মার পাড়। যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ভুলে প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাতে অনেকেই বেছে নেন পদ্মার পাড়কে। শুধুমাত্র বিনোদন কিংবা সময় কাটাতে নয়, অসংখ্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা গড়ে উঠেছে এই নদীকে কেন্দ্র করেই। এই নদী যেমন সর্বহারা করেছে অসংখ্য মানুষ, বিপরীতভাবে এই নদীর কোল ঘেঁষেই গড়ে উঠেছে অসংখ্য মানুষের রোজগারের পথ।

মাছ ধরার জেলে থেকে শুরু করে দর্শনার্থীদের পদ্মার বিভিন্ন স্থান নৌকায় ঘুরিয়ে অর্থ উপার্জন করেন অসংখ্য মাঝি। বিকেলে চটপটি, ফুচকা, বাদাম ও ফলমূলের দোকান দিয়ে বসেন অনেকেই। আবার পদ্মা-পাড়ের বেশ কিছু স্থানে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন ধরণের রেস্টুরেন্ট। মনোরোম প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে তোলা এসব রেস্টুরেন্ট যেমন পরিণত হয়েছে ভোজনরসিকদের প্রিয় স্থানে, তেমনিভাবে সৃষ্টি করেছে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান।

ভাঙা-গড়ার অদ্ভুত এক ভারসাম্যে নিরবধি বয়ে চলে পদ্মা। মনোরোম প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ভয়ংকর রুপের এক বৈচিত্র্যময় মিশেলে পদ্মা যেনো অর্জন করে নিয়েছে স্বতন্ত্র এক স্থান। সর্বনাশা পদ্মার ভিন্ন কিছু রুপের গল্প চিত্রিত হয়েছে আলোকচিত্রে।

ডেইলিবাংলাদেশ/এনকে