Alexa সরকারি হাসপাতালে ফাঁকি দিয়ে ক্লিনিকে ডাক্তার

ঢাকা, রোববার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৭ ১৪২৬,   ২২ মুহররম ১৪৪১

Akash

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল

সরকারি হাসপাতালে ফাঁকি দিয়ে ক্লিনিকে ডাক্তার

মো: মসিউর রহমান জিহাদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৩৯ ২৭ মে ২০১৯   আপডেট: ১৬:৪৮ ২৭ মে ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বৃহৎ স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র আধুনিক সদর হাসপাতাল। প্রতিদিন হাজারো রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন এখানে। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। চিকিৎসকদের রোগী দেখার অনিয়মকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন রোগীরা। সদর হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সরকারি হাসপাতালে ফাঁকি দিয়ে নিয়ম করে প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী দেখায় ব্যস্ত থাকেন। নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে ইচ্ছা মতো হাসপাতালে আসা-যাওয়া করছেন।

চিকিৎসা নিতে আসা জেলার ফায়ার সার্ভিস মোড়ের খালেদা বেগম বেশ কিছুদিন থেকে ঠান্ডা জ্বরে ভুগছেন। চেম্বারের সামনে অপেক্ষা করতে দেখা যায় তাকে। তিনি জানান, কর্মরত অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বেলা ১১টার আগে হাসপাতালে আসেন না এবং দুপুর ১২টার আগে রোগীর চিকিৎসা করেন না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা নিজেদের ইচ্ছে অনুযায়ী হাসপাতালে আসা-যাওয়া করেন। অথচ পাশের প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে নিয়ম করে রোগী দেখছেন।

সোলেমান নামে আরেক রোগী বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের জন্য সরকারি এই হাসপাতালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। শুধু তাই নয়, কোনো কোনো চিকিৎসক রোগীদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জানা যায়, জেলার সদর হাসপাতালটি ৫০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও সেই অনুযায়ী জনবল বাড়েনি এখনো। ফলে চিকিৎসক সংকটে রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তবে সেই ভোগান্তি মাত্রা ছাড়িয়েছে চিকিৎসকদের ফাঁকিবাজিতে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতালে ২১ জন চিকিৎসক পদের মধ্যে ৯টি পদই শূন্য। ফলে চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের হাসপাতালে এসে বিভিন্ন সময় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এদিকে, হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসককে হাসপাতালের কোয়ার্টারে (আর.এম.ও ভবন) থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে কোনো আবাসিক চিকিৎসক সেখানে বসবাস করেন না। ফলে রাত হলে জেলা সদর হাসপাতালটিতে চিকিৎসা সেবা মেলে না বললেই চলে। অথচ লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আবাসিক চিকিৎসকের বাসভবন পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।

এছাড়া হাসপাতালের নোংরা ও দুর্গন্ধময় পরিবেশ চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। রোগীদের অভিযোগ- দীর্ঘদিন ধরে বেডগুলো অপরিষ্কার থাকে, আশেপাশে নোংরা ময়লা আবর্জনা ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. সাইফুল ফেরদৌস মো. খায়রুল আতার্তুক বলেন, হাসপাতালের ২১ জন চিকিৎসকের মধ্যে ৯ জনের পদ শূন্য রয়েছে। অল্প সংখ্যক চিকিৎসক নিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আবাসিক চিকিৎসক না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। কাজ চালিয়ে নেয়ার জন্য একজনকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এজন্য তিনি হাসপাতালের কোয়ার্টারে থাকেন না।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস