আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলাম বলেই বাংলাদেশ ভালো আছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা, শনিবার   ০৬ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২৩ ১৪২৭,   ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলাম বলেই বাংলাদেশ ভালো আছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:০৫ ২৯ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৩:০৬ ২৯ মার্চ ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, আগে থেকে প্রস্তুত ছিলাম বলেই বাংলাদেশ ভালো আছে। আমরা চারটি কমিটি তৈরি করে দিয়েছি। এসব কমিটির মাধ্যমেই সমস্ত কাজ চলছে।

রোববার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক মিডিয়া নিউজ করছে, আমরা পিপিই সংকটে আছি। আমাদের মেডিকেল ভেন্টিলেটর নাই। সবাইকে বলব এ ধরনের তথ্য সঠিক না। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আমরা জানুয়ারি থেকে প্রস্তুতি নিয়েছি। আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আমাদের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ৫০০ মেডিকেল ভেন্টিলেটর আছে। আমার জানার মতে, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ৭০০ ভেল্টিলেটর আছে।

মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য ইতোমধ্যে ৩ লাখ পিপিই (পারসোনাল প্রোটেকশন ইকুপমেন্ট) দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ব্যক্তিগত উদ্যোগেও অনেক পিপিই দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ৫ লাখ পিপিই এপ্রিলের মধ্যে চলে আসবে। বেসরকারি হাসপাতালে পিপিই বিতরণ আমরা করি না। তাদেরগুলো তাদেরই ব্যবস্থা করতে হবে।

জাহিদ মালিক বলেন, সর্দি বা কাশি হলেই সে করোনা আক্রান্ত এ কথা ঠিক নয়। আপনারা চিন্তিত না হয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নেন।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে আমাদের আলাপ হয়েছে। তারা কিছু গাইডলাইন দিয়েছে। আমরা এরইমধ্যে বেশকিছু হাসপাতালকে প্রস্তুত রেখেছি। শুধুমাত্র ঢাকাতেই তিন হাজার বেড প্রস্তুত রয়েছে।

এর আগে আইইডিসিআর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আমাদের হটলাইনে দুই হাজার ৭২৬টি কল এসেছে। আমরা ১০৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করেছি। নতুন করে কোনো করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়নি।

ব্রিফিংয়ে করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে নাগরিকদের করণীয়ও তুলে ধরেন তিনি।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাস এখন বৈশ্বিক মহামারি। বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এ ভাইরাসটি। এখন পর্যন্ত এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৬ লাখ ৬৪ হাজার ২২১ জন এবং মারা গেছেন ৩০ হাজার ৮৮৮ জন। অপরদিকে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ৪২ হাজার ৩৬৩ জন।

বাংলাদেশে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে গত ৮ মার্চ। করোনার বিস্তাররোধে দেশের সব স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েতের ওপর। 

বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দেশের সব বিপণিবিতান। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে আদালতও। এমনকি একাধিক এলাকাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ সব ধরনের গণপরিবহন। এ কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার জন্য দেশের সব জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/টিআরএইচ