Alexa সরকারি চাকরি বাঁচাতে ধর্ষিতাকে বিয়ে

ঢাকা, সোমবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৯ ১৪২৬,   ২৪ মুহররম ১৪৪১

Akash

সরকারি চাকরি বাঁচাতে ধর্ষিতাকে বিয়ে

জামালপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:০৫ ১২ জুন ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জামালপুরের বহুল আলোচিত, মেলান্দহ উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার (এটিও) মাজেদুল হক চাকরি বাঁচাতে সাত মাসের মৃত সন্তানের বাবার স্বীকৃতি ও ধর্ষণের দায় স্বীকার করেছেন। অভিযোগের দায় মাথায় নিয়ে ধর্ষিতা আকলিমাকে বিয়ে করার মাধ্যমে দ্বিতীয় স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঘরে তুলেছেন।

ওদিকে দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গত রোববার ৯ জুন জামালপুর আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান।

মঙ্গলবার (১১ জুন) একদল সাংবাদিক সরেজমিনে রঘুনাথপুর গ্রামে মাজেদুলের বাড়িতে গেলে তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক আব্দুল মোতালেব মাষ্টার ও বড় ভাই স্কুল শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় মাতব্বরদের পরামর্শ ও সহযোগিতায় গত মে মাসে আমার ছোট ভাই মাজেদুলের সঙ্গে আকলিমার কোর্ট কাবিন হয়। এরপর থেকে আকলিমাকে আমার বাড়ির বউ হিসেবে মেনে নিয়েছি। তারা আরো বলেন, আমরা আকলিমার নামে প্রতিবেশী ঢেংগারগড় গ্রামের সিংগারবিলে দুই বিঘা জমি রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছি। ব্যাংকে আকলিমার নামে কোনো টাকা রাখা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, না আমরা তার নামে কোনো টাকা পয়সা রাখেনি বা দেয়নি।

এদিকে এলাকাবাসী জানান, চাকরি বাঁচাতে এলাকার শিক্ষা কর্মকর্তা মাজেদুল আকলিমাকে বিয়ে করেছেন। চাপে পড়ে বিয়ে করেছেন সত্য কিন্তু যখন মামলা থেকে তিনি রেহায় পাবে তখন আকলিমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিবে। 

স্থানীয়রা আরো বলেন, মাজেদুল যেহেতু ধর্ষণের দায় মাথায় নিয়ে আকলিমাকে বিয়ে করেছেন তাহলে তার কঠোর শাস্তি হওয়া চাই। 

এদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার সূত্র বলছে, গত কয়েক বছর আগে ওই কিশোরীর বাবা মারা যান। তার পরিবার খুবই দরিদ্র। তার মা ওই শিক্ষা কর্মকর্তার বাড়িতে কাজ করতেন। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে মায়ের পরিবর্তে ওই কিশোরী বাড়িতে কাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে ২০১৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে বাড়িতে একা পেয়ে ওই শিক্ষা কর্মকর্তা তাকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের বিষয়টি কাউকে না বলতে হুমকিও দেন। এরপর থেকে ওই শিক্ষা কর্মকর্তা এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময় তাকে ধর্ষণ করে আসছিলেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ধর্ষণের বিষয়টি ধামা চাপা দেয়ার জন্য কৌশলে তাকে গত ৮ মার্চ-২০১৯ইং তারিখে বিয়ে দেন শিক্ষা কর্মকর্তা। বিয়ের দুই মাসের মাথায় অর্থাত ১০ মে তিনি সাত মাসের একটি মেয়ে শিশু প্রসব করেন। যা জন্মের পরই মারা যায়। এ সময় শ্বশুরবাড়ির লোকজন ওই কিশোরীকে তাড়িয়ে দেন। এরপরই গ্রামের লোকজনের কাছে বিষয়টি প্রকাশ পেলে তারা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এদিকে ঘটনাটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা ওই শিক্ষা কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। আইনি সহায়তা পেতে স্থানীয় লোকজনই ওই কিশোরীকে থানায় নিয়ে আসেন। এ ঘটনার পর ওই কর্মকর্তা ঘর ছেড়ে পালিয়েছেন।

কথা হয় ভিকটিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার কোনো ভাই-বোন নেই। আমি আর আমার মা ছাড়া কেউ নেই। কাজ করেই আমরা কোনো রকম চলতাম। আমার মা ওই বাড়িতে কাজ করতেন। মায়ের পরিবর্তে ওই বাড়িতে আমি কাজ শুরু করি। তার (শিক্ষা কর্মকর্তা) স্ত্রী স্কুলের চাকরি করতেন। চাকরির সুবাদে সপ্তাহের শনিবার বাড়িতে কেউ থাকত না। শুধু তিনি (শিক্ষা কর্মকর্তা) থাকতেন। সে সুযোগে তিনি আমাকে ধর্ষণ করতেন। প্রথমদিকে আমাকে নেশা জাতীয় দ্রব্যও খাইয়ে ধর্ষণ করতো। এসব বিষয়ে আমি বাধা দিলে তিনি আমাকে হুমকিও দিতেন। তারা আমাকে বিয়েও দিয়েছিল। পেটে বাচ্চা হওয়ার পর আমাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। আমি ১১ মে-২০১৯ইং তারিখে আসামি মাজেদুলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছি। 

এদিকে গত শনিবার মাজেদুলকে গ্রেফতার ও তাকে আইনের আওতায় আনার দাবিতে বিক্ষুব্ধ লোকজন জামালপুরে মানববন্ধন করেছেন। এদিকে ওই কিশোরীর গর্ভ থেকে ভূমিষ্ট হওয়া সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে স্থানীয়রা মাজেদুলকে চাকরি থেকে বরখাস্তের দাবি জানিয়েছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম