সরকারি অনুদানের নামে অর্থ আত্নসাৎ

ঢাকা, শুক্রবার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ২১ ১৪২৭,   ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

সরকারি অনুদানের নামে অর্থ আত্নসাৎ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৫১ ১২ মার্চ ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার ইউপি সদস্য সুমাইয়া পারভীনের বিরুদ্ধে সরকারি নানা অনুদান ও কার্ড দেয়ার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতারিত দুঃস্থরা বিচার দাবি করে সোমবার দুপুরে স্থানীয় এমপি, সিরাজগঞ্জের ডিসিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দফতর বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ইউএনও'র কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ সময় প্রতারিতদের অভিযোগটি আমলে নিয়ে সেটি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকতাকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন ইউএনও। 

প্রতারিত বড়হর ইউপি সদস্য মোছা. রুমি বেগম অভিযোগ করেন, প্রায় এক বছর আগে সলপ ইউপি সদস্য সুমাইয়া পারভীন তার নিকট আত্মীয় বড়হর গ্রামের শাহাদাৎ হোসেন ও মো. সবুজকে দিয়ে বড়হর মধ্যপাড়া, দক্ষিণপাড়াসহ কয়েকটি গ্রাম থেকে দুঃস্থদের সরকারি অনুদানের বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, সেলাইমেশিন ও বিনামূল্যের ঘর দেয়ার কথা বলে প্রায় শতাধিক লোকের কাছ থেকে ৪-১০ হাজার টাকা করে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেছেন। 

দুঃস্থরা বিভিন্ন সমিতি এনজিও থেকে ঋণ করে এসব টাকা তাদের দিলেও কোন অনুদানের সুবিধা পায়নি। তাদের কাছে দুঃস্থরা টাকা ফেরত চাইলে তারা কোন প্রকার টাকাও ফেরত দেয়নি। উল্টো প্রতারিতরা টাকা ফেরত চেয়ে নানা ভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে।

বড়হর মধপাড়া মহল্লার রানু খাতুন, হাজেরা খাতুন, আলেয়া বেগম, রোকেয়া খাতুনসহ অনেকেই বলেন, ইউপি সদস্য সুমাইয়া পারভীন তার লোক দিয়ে আমাদের ভুল বুঝিয়ে বিভিন্ন সরকারি অনুদানের কথা বলে টাকা নিয়েছে। সেই সরকারি অনুদানের ভাতা, কার্ড আমরা এখনো পাইনি। টাকা চাইলেও টাকা দিচ্ছে না। এ নিয়ে আমরা ইউএনও'র কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। আমরা এর বিচার চাই।

বড়হর মধ্যপাড়া গ্রামের রাশিদা বেগম বলেন, আমার ছেলের মামলা নিষ্পত্তি করে দেয়ার কথা বলে বিষয়ে ইউপি সদস্য সুমাইয়া পারভীন দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন। সে নিজেকে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের আত্নীয় পরিচয় দিয়ে মামলার কাগজ ও টাকা নিয়েও কোনো কাজই করেনি। এ নিয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করেছেন বলে উল্লেখ করেন। 

ইউপি সদস্য সুমাইয়া পারভীনের নামে দুঃস্থদের কাছ থেকে নানা অনুদান দেয়ার কথা বলে টাকা আদায়ের কথা স্বীকার করে বড়হর গ্রামের শাহাদৎ হোসেন ও সবুজ হোসেন বলেন, তারা এই এলাকা থেকে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকা আদায় করে ইউপি সদস্য সুমাইয়া পারভীনকে দিয়েছেন। দুঃস্থরা সুবিধা না পেয়ে টাকা ফেরত চেয়ে তাদের উপর ব্যাপক চাপ দিচ্ছে। আমরা ইউপি সদস্য সুমাইয়ার কাছ থেকে এরইমধ্য প্রায় তিন লক্ষাধিক টাকা আদায় করে দুঃস্থদের পরিশোধ করেছি। বাকি টাকাও দিয়ে দিব। 

এ বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে সলপ ইউপি সদস্য সুমাইয়া পারভীন বলেন, আমি ব্যক্তিগত কারো কাছ থেকে কোন সরকারি সুবিধা দেয়ার কথা বলে টাকা পয়সা নেইনি। আমার নাম দিয়ে সুবিধা দেয়ার কথা বলে কেউ টাকা পয়সা নিলে এ জন্য আমি দায়ী নই। আমার প্রতিপক্ষ একটি মহল এ ঘটনায় আমাকে অন্যায়ভাবে জড়াচ্ছে।  

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উল্লাপাড়া ইউএনও মো. আরিফুজ্জামান বলেন, দুঃস্থরা তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্বে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস