‘সময় মাত্র একমাস, প্রস্তুতি নিন’

.ঢাকা, শুক্রবার   ২৬ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ১৩ ১৪২৬,   ২০ শা'বান ১৪৪০

বিএনপির কর্মীদের প্রতি নেতাদের আহ্বান

‘সময় মাত্র একমাস, প্রস্তুতি নিন’

 প্রকাশিত: ১৫:৩৩ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৮:২৪ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বিএনপির অনশনে নেতারা

বিএনপির অনশনে নেতারা

কারাবন্দি বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় করতে বিএনপির হাতে একমাসের মতো সময় আছে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।

আন্দোলন ছাড়া সংকটের সমাধান হবে না জানিয়ে নেতাকর্মীদের ‘সর্বাত্মক প্রস্তুতি’ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। 

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের সামনে এক প্রতীকী অনশনে বসেন দলটির নেতাকর্মীরা। সেখান থেকেই দলের শীর্ষ নেতারা এ ঘোষণা দেন।

কারাগারে অসুস্থ খালেদা জিয়াকে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেয়ার দাবি জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘যেহেতু আমাদের নেত্রী এই সরকারের কারাগারে রয়েছেন সেহেতু তাকে সুচিকিৎসা দেয়া তাদের দায়িত্ব। সবার আগে তার সুস্থ হওয়া জরুরি।’

অবিলম্বে বিএনপি নেত্রীর মুক্তি দাবি করে মোশাররফ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া গণতন্ত্র মুক্তি পাবে না। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে বাক্সে বন্দি করে রেখেছে। আজকে সব রাজনৈতিক দলকে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।  ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই গণতন্ত্র রক্ষা পাবে। এজন্য সবার আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি দরকার।’

দেশ-বিদেশের সবাই বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায় উল্লেখ করে বিএনপির এই নীতি নির্ধারক বলেন, ‘এজন্য খালেদা জিয়া বা বিএনপিকে ছাড়া নির্বাচন হতে পারে না, হতে দেয়া হবে না। ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি নীল নকশার নির্বাচন করতে চায় সরকার। কিন্তু এবার সেই নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি হবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকার আতঙ্কিত। এজন্য গায়েবি মামলা দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করে হয়রানি করছে সরকার।

পুলিশ প্রশাসনকে বলবো, আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আপনাদের ভবিষ্যতে অন্য সরকারের অধীনে কাজ করতে হবে। সুতরাং এই সরকারের কথায় বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন করবেন না।’

এ সময় তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ সরকার গঠন,  নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং নির্বাচনকালীন সময়ে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের দাবি করেন তিনি। সব রাজনৈতিক দলকে এই ইস্যুতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলারও আহ্বান জানান মোশাররফ।

খালেদা জিয়াকে নির্জন কারাগারে রাখাকে অসাংবিধানিক অভিহিত করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

তিনি বলেন, ‘কারাগারে আদালত বসানো অসাংবিধানিক। তার ছয় মাস কেন, ছয় দিনও জেলে থাকার কথা নয়। উচ্চ আদালত জামিন দিলেও সরকার নিম্ন আদালতকে ব্যবহার করে তার জামিন আটকে দিয়েছে।’

‘‘আমি মনে করি আইনী প্রক্রিয়ায় তাকে মুক্ত করা সম্ভব নয়, রাজপথই একমাত্র সমাধান। এজন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নিতে হবে।  হাতে মাত্র একমাস সময় আছে। এরইমধ্যে প্রস্তুতি সেরে ফেলতে হবে। এবার আন্দোলন সফল না করে কেউ বাড়ি ফিরে যাবেন না। এমন কর্মসূচি দিতে হবে যাতে সরকারের নৌকা পানিতে ভেসে যায়।”

গ্রেপ্তার-হামলা-মামলা করে বিএনপির নেতাকর্মীদের দমানো যাবে না জানিয়ে স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, খালেদা জিয়াকে নিয়েই আমরা ঘরে ফিরবো।

খালেদা জিয়াকে ছাড়া এদেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না জানিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘এই সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। কারণ তাদের অধীনে ভোট দেয় পুলিশ আর তাদের নেতাকর্মীরা।

এ সময় দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘১/ ১১ এর মতো বেঈমানি করে কেউ যদি এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার কথা বলে তাহলে রাজপথে নেমে তাদের প্রতিহত করা হবে।’  

বিএনপির আরেক নীতি নির্ধারক ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বিএনপি ভাঙার ষড়যন্ত্র চলছেই। কিন্তু কোনোভাবেই সরকার সফল হচ্ছে না। তারা ভেবেছিলো, খালেদা জিয়াকে জেলে নিয়ে গেলেই বিএনপি দুর্বল হয়ে পড়বে। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। দেশের মানুষ খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করে নির্বাচনের মাধ্যমে তাকে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী করবেন।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনশনে বিএনপির নেতাদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন সেলিমা রহমান, আহমদ আজম খান, আমানউল্লাহ আমান, আবুল খায়েল ভুইয়া, মিজানুর রহমান মিনু, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, আতাউর রহমান ঢালী, ফজলুর হক মিলন, এমরান সালেহ প্রিন্স, শিরিন সুলতানা, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান ও ছাত্রদলের রাজীব আহসান প্রমুখ।

২০ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে লেবার পার্টিল মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার লুৎফর রহমান, ন্যাপ ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, কল্যান পার্টির শাহিদুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর মিয়া গোলাম পরোয়ার।

সকাল ১০টায় অনশন শুরু হয়ে চলে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত। ১২ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ বিএনপির নেতাদের পানি পান করিয়ে প্রতীকী অনশন ভাঙান।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে/আরআই