Alexa সময় একটি বিভ্রম!

ঢাকা, বুধবার   ২১ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৭ ১৪২৬,   ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

সময় একটি বিভ্রম!

 প্রকাশিত: ১৪:৩২ ৬ জুন ২০১৮   আপডেট: ১৪:৩৪ ৬ জুন ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সময় কি? কেউ কেউ বলে এটি চতুর্থ মাত্রা। কিন্তু তিন মাত্রাতেই একটি ধনাত্মক দিক আবার একটি ঋণাত্মক দিক আছে। সময়ে তাহলে কেন নেই?

আইনস্টাইন বলছেন, “সময় একটি বিভ্রম মাত্র। অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যতের মধ্যে পার্থক্য খুবই সূক্ষ্ম তবে তবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ”।



অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যতের কথা বলতে গিয়ে জর্জ হ্যারিসন বলেন, “বর্তমান সময়ে উপস্থিত থাকাটিই গুরুত্বপূর্ণ। অতীত ও ভবিষ্যৎ বলতে কিছু নেই। সময় খুবই বিভ্রান্তিকর। যা কিছু আছে সবই বর্তমান। আমরা অতীত থেকে অভিজ্ঞতা নিতে পারি, সেখানে পুনরায় যেতে পারিনা। ভবিষ্যতের আশা করতে পারি কিন্তু জানিনা আদৌ কোনো ভবিষ্যৎ আছে কিনা”।

আমরা আসলে সময়কে যেভাবে দেখি সময় কি আসলেই তাই?

উইলিয়াম পেইন বলেন, “সময় হল এমন এক জিনিস যা আমরা সবাই বেশি বেশি চাই কিন্তু সবচেয়ে খারাপ ভাবে ব্যবহার করি”।

আমরা কথায় কথায় বলে থাকি সময় এবং স্রোত কারোর জন্য অপেক্ষা করে না। বলি সময় চলে যাচ্ছে। সময় আসলে দুটো ঘটনা ঘটার ব্যবধানকে পরিমাপের জন্য আমরা ব্যবহার করছি। এটি একটি আপেক্ষিক ধারণা।
সময় নিয়ে কিছু মজার মজার বিষয় আছে যা আপনাকে চমকে দেবে।

> যেহেতু আলো কিছুটা সময় নেয় আমাদের চোখে আসতে, তাই আসলে আমরা যা কিছু দেখছি সবই অতীত। যেই সূর্য আপনি জানালার বাইরে দেখছেন সেটি আসলে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড আগের সূর্য। আকাশের পৃথিবীর সবচাইতে নিকটতম যেই তারার আলো আপনাকে মুগ্ধ করছে বলতে পারেন তা কত পুরনো? ৪বছরেরও বেশি সময় পূর্বের।

> ধরেন আপনি দাঁড়িয়ে আছেন। আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সূত্রানুযায়ী আপনার পা অপেক্ষা মুখের জন্য সময় তাড়াতাড়ি অতিবাহিত হবে। কারণ যত পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হবেন সময় ততই ধীরগতিতে অতিবাহিত হয়। এবং এটি শুধুই থিওরী নয় বরং এটি পরিমাপ করা হয়েছে। পাহাড়ের চূড়ায় অতিবাহিত এক বছর সমুদ্র উচ্চতায় অতিবাহিত এক বছর সময় হতে ১৫ মাইক্রোসেকেন্ড কম।

> এক সেকেন্ড বলতে আপনি কি বুঝেন? বিজ্ঞানের ভাষায় কিন্তু এক মিনিটের ৬০ ভাগের ১ ভাগ বলে সেকেন্ড কে সংজ্ঞায়িত করা হয় না। বিজ্ঞানের ভাষায় সেকেন্ডের সংজ্ঞা হল “সিজিয়াম-১৩৩ পরমাণুর নিস্তেজ অবস্থায় ২টি হাইপারফিন লেভেলের মধ্যে হওয়া বিকিরণের ৯,১৯২,৬৩১,৭৭০ টি পর্যায়কাল এর সমান সময়”।



> আমরা বলি ২৪ ঘন্টায় একদিন। রাত ১২টা থেকে পরদিন রাত ১২টা ২৪ ঘন্টাই-তো। আবার দিন বলতে আমরা বোঝাই পৃথিবী ঠিক কতটা সময়ে নিজ অক্ষে সম্পূর্ণ একবার ঘুরে আসে। আর সেই হিসাবে একটি সম্পূর্ণ দিন হল ২৩ঘন্টা ৫৬মিনিট ৪.২ সেকেন্ড। কিন্তু তারপরও একটি সূর্যোদয় হতে আরেকটি সূর্যোদয়ের পার্থক্য ২৪ ঘন্টা হয় কারণ প্রতিদিন পৃথিবী নিজের অক্ষে ঘোরার পাশাপাশি সূর্যের চারপাশেও ঘুরছে এবং এই অবস্থানের পরিবর্তন দিনের দৈর্ঘ্য সামান্য বাড়িয়ে দেয়।

> আমাদের ৩৬৫ দিনে বছর হয়। কিন্তু যখন ডায়নোসর ছিল এই পৃথিবীতে তখন কিন্তু ৩৭০ দিনে এক বছর হত। পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি ধীরে ধীরে কমছে চাঁদের আকর্ষণের কারণে। প্রতি শতকে দিনের দৈর্ঘ্য প্রায় ১.৭ মিলি সেকেন্ড করে বেড়ে যায়।

> পৃথিবীতে সময় পরিমাপের সবচাইতে ক্ষুদ্রতম একক হল “প্ল্যাঙ্ক টাইম”। খুব দ্রুত ভাবে চোখের পলক ফেলতে আপনার সময় লাগবে ৫৫০হাজার ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন “প্ল্যাঙ্ক টাইম”।

> বুধগ্রহের একটি দিন এই পৃথিবীর দুই বছরের সমান দীর্ঘ। ভাগ্যিস, আমরা পৃথিবীর বাসিন্দা নাহলে এক বছর ধরে রোযা রাখা লাগত ?!!!

> বিজ্ঞান বলছে নতুন কোনো অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে অতিবাহিত সময় আপনার কাছে অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ মনে হবে পরিচিত ঘটনার থেকে। আর এই জন্যই মানুষ এর বয়স বাড়ার সাথে সাথে সময় দ্রুত অতিবাহিত হচ্ছে বলে মনে হয়। একে বলা হয় “অডবল ইফেক্ট”।

> আপনি যত দ্রুত গতিতে চলতে থাকবেন আপনার জন্য সময় ততটাই ধীরে অতিবাহিত হবে। ধরেন, আপনি আলোর বেগের শতকরা ৯৯ ভাগ গতিতে লুব্ধকে গিয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরে এলেন। এসে দেখবেন পৃথিবীতে যাদের রেখে গিয়েছিলেন তাদের বয়স ১৭ বছর বেড়ে গেছে যেখানে আপনার বয়স বেড়েছে মাত্র আড়াই বছর।



> ইফতার বা সেহরীর সময় দেখা যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম বা অন্যান্য শহরের সময় ঠিক একই নয় তাহলে দেশজুড়ে ঘড়িতে একই সময় ব্যবহার করা হয় কেন? এই ব্যবস্থার শুরু হয় ১৮৪০ সালে ইংল্যান্ডে। লন্ডল এবং ব্রিস্টলের সময় পার্থক্য প্রায় ১১মিনিট। আগে শহরভিত্তিক সময়ব্যবস্থা চালু থাকায় বেশির ভাগ লোকজনই ট্রেন মিস করত। তাই পুরো দেশে লন্ডন এর সময়কে স্ট্যান্ডার্ড ধরে পুরো দেশে এক সময় ব্যবস্থার চল শুরু হয়।

> ৩৬৫ দিনে আমাদের একবছর হয় আবার ৪ বছর পর পর ৩৬৬ দিনে হয়। সেই বছরটিকে বলা হয় লিপ ইয়ার। কারণ ৩৬৫ দিনে আমরা বছর হিসাব করলেও আসলে বছর পূরণ হয় ৩৬৫ দিন এবং ৬ঘন্টার সামান্য কিছু কম সময়ে। তাই ৪ বছর পর পর একটি দিন বেশি গণনা করে সেই সময়কে ঠিক রাখা হয়। কিন্তু তাতেও একটি সমস্যা দেখা যায়। প্রতি শতকে তা সময়ের হিসাবকে কিছুটা বাড়িয়ে দেয়। এইজন্য একটি জটিল হিসাবের মাধ্যমে লিপ ইয়ার নির্ধারণ করা হয়। হিসাবটি এমনঃ

যদি বছরটি ৪ দিয়ে বিভাজ্য না হয় তবে তা লিপ ইয়ার নয়।

যদি বছরটি ৪ দিয়ে বিভাজ্য হয় কিন্তু ১০০ দিয়ে বিভাজ্য না হয় তবে তা লিপইয়ার।

যদি বছরটি ১০০ দিয়ে বিভাজ্য হয় কিন্তু ৪০০ দিয়ে বিভাজ্য না হয় তবে তা লিপইয়ার নয়।

যদি বছরটি ৪০০ দিয়ে বিভাজ্য হয় তবে তা লিপইয়ার।



সময় অনেক সহজ আবার এটি নিয়ে বেশি ভাবলে সেটি অনেক বেশি জটিল। শেষ করি ডেনিস ওয়েটলির একটি উক্তি দিয়ে, “সময় সকলকে সমান সুযোগ দেয়। প্রতিটি মানুষ একটি দিনে সমান সময়, সমান ঘন্টা এবং মিনিট পায়। ধনীরা নতুন করে টাকা দিয়ে ঘন্টা কিনতে পারেনা। বিজ্ঞানীরা নতুন করে মিনিট আবিষ্কার করতে পারেনা। এবং আপনি সময়কে তুলে রেখে পর দিন এর জন্য বেশি ব্যবহার করতে পারবেন না। তারপরও, সময় অত্যন্ত ন্যায্য এবং ক্ষমাশীল। অতীতে আপনি যতই সময় নষ্ট করে থাকেন না কেন, আপনার সামনে তারপরও ভবিষ্যতের সম্পূর্ণ একটি দিন রয়েছে”

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে

Best Electronics
Best Electronics