সময়ের পরিবর্তনে বদলে গেছে চালচিত্র-অর্থনীতি

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৫ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১১ ১৪২৬,   ২০ শাওয়াল ১৪৪০

সময়ের পরিবর্তনে বদলে গেছে চালচিত্র-অর্থনীতি

 প্রকাশিত: ১৬:৫২ ১৮ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ১৫:৫৫ ১৯ জুলাই ২০১৮

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

সময়ের পরিবর্তনে বদলে গেছে আগের চালচিত্র-অর্থনীতি। এক সময় ধান-পাট ও সবজি চাষ করে কোনোরকমে জীবিকা নির্বাহ করত উত্তরাঞ্চলের মানুষ। আর এখন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ফলের বেশিরভাগই উৎপাদন হয় উত্তরাঞ্চলের।

ফলনির্ভর বহুমুখী ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় চাঙ্গা হয়ে উঠছে এ অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতি। এক সময় কাজের অভাবে বছরের বেশিরভাগ সময় অবসরে কাটাতেন চাষিরা। ফলে এই অঞ্চলের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্টে জুড়ে যায় ‘মঙ্গা’ শব্দটি। এখন আর সেদিন নেই।

জানা যায়, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুরের আম, দিনাজপুরের লিচু দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। এসব ফল কিনতে ও দেখতে সারাদেশ থেকে আসছেন পাইকাররা। আর পাইকাররা আসায় জমে উঠেছে এ অঞ্চলের আবাসিক হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলো।

অন্যদিকে ফল রাখা ও সুরক্ষিতভাবে বিভিন্নস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাঁশের খাঁচা ও ডালি তৈরি করতে বাঁশ শিল্পের কারিগরদের কাছে ফল ব্যবসায়ীদের ভীড় বাড়ছে। ফলে অর্থনৈতিকভাবে বাঁশ শিল্পের কারিগরসহ এ অঞ্চলের সব ব্যবসায়ী লাভবান হচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে ফল নিয়ে যেতে আয় বেড়েছে পরিবহন ব্যবসায়ীদেরও।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, দেশের আম উৎপাদনকারী জেলাগুলোর মধ্যে শীর্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ। এ জেলার প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়। এরপরই রয়েছে রাজশাহী। এখানে এ বছর প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। আর রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলায় ৪-৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমের ফলন হয়েছে। এর মধ্যে হাঁড়িভাঙ্গার ফলন হয়েছে ২৪৫০ হেক্টরে।

এ ছাড়া দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।  প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে মাদ্রাজী, বোম্বাই, বেদানা, চায়না থ্রী, হাড়িয়া, কাঁঠালিসহ বিভিন্ন জাতের লিচু আবাদ হয়েছে। এ ছাড়া বাণিজ্যিকভাবে লালমনিরহাট, দিনাজপুর, নাটোর, নওগাঁ, ঠাকুরগাঁও এলাকায় থাই পেয়ারা, কুলবড়ই, আপেলকুল, কমলা ও মাল্টার চাষ হচ্ছে।

দিনাজপুরের লিচুর সবচেয়ে বড় ব্যবসাকেন্দ্র কালীতলা নিউমার্কেটের আড়ৎদার আব্দুল জলিল ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, কিছুদিন আগে প্রায় প্রতিদিন শতাধিক গাড়িতে বিভাগীয় শহরগুলোর বড় বড় বাজারে লিচু পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন জেলার খুচরা ব্যবসায়ীরাও পিকআপ ভ্যান এবং ট্রেনে করে লিচু নিয়ে গেছেন। এ জেলায় আমের উৎপাদন তেমন না হলেও কিছু কিছু এলাকায় হাড়িভাঙ্গা  বেশ ভাল হয়েছে। বর্তমানে এখান থেকেও  কিছু হাড়িভাঙ্গা আম বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।

বাংলাদেশ আম উৎপাদন ও ব্যবসায়ী সমিতির হিসাব মতে, দেশে বর্তমানে আমের অভ্যন্তরীণ বাজার দাঁড়িয়েছে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা। শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমকে কেন্দ্র করে বছরে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। এ ছাড়া পঞ্চগড়, নাটোর, নওগাঁ, ঠাকুরগাঁও, পাবনা, দিনাজপুর, রংপুর ও লালমনিরহাটে বাণিজ্যিকভাবে আম চাষ হচ্ছে।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, এ বছর প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে লিচু আবাদ হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় লিচু সরবরাহ ও চাহিদা থাকায় কৃষকরা দামও ভাল পেয়েছে। তবে কাঁঠালি জাতের লিচু সবার শেষে পাকে বলে এর দাম থাকে  চড়া। তাই কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের এ জাতের লিচু আবাদে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এ জাতের লিচুর আকার ও ফলন অনেক গুণে ভাল হয়।

রংপুর কৃষি বেতার তথ্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু সায়েম ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ অঞ্চলে আমের ফলন ভাল হয়েছে। তাই ফল চাষিরা দেশের বিভিন্ন স্থানে আম বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।

লালমনিরহাট কৃষি অধিদফতরের উপ পরিচালক বিধূ ভূষণ রায় ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, হাড়িভাঙ্গা জাতের আমের ফলন ভাল হওয়ায় লালমনিরহাটের অনেক কৃষক আমবাগান করেছে। এবার তারা কল্পনাতীত ফলন পেয়েছে। একদিকে আম চাষিরা যেমন লাভবান হচ্ছে অন্যদিকে ক্রেতারাও অল্প দামে আম কিনতে পাচ্ছে। আগামীতে তাদের দেখে অন্য চাষিরাও আম চাষে আগ্রহী হবেন। শুধু আম নয় এ অঞ্চলে পেয়ারা, কুলবরই, আপেলকুল, কমলা ও মাল্টার চাষও বেশ ভাল হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ