সময়ের আগে যৌবন প্রাপ্তি: ‘প্রি-কোশিয়াস পিউবারটি’

ঢাকা, বুধবার   ২২ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৮ ১৪২৬,   ১৬ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

সময়ের আগে যৌবন প্রাপ্তি: ‘প্রি-কোশিয়াস পিউবারটি’

ডাঃ শাহজাদা সেলিম

 প্রকাশিত: ১৬:৫২ ২ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৯:৩০ ২ ডিসেম্বর ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

অনেক বাবা মাই তার ছেলে-মেয়েদের অতি অল্প বয়সে যৌবন প্রাপ্তির সমস্যা নিয়ে বিব্রত বোধ করেন ও চিকিৎসকের সরনাপন্ন হন। 

এটি আসলে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ারই অসময়ের বহি:প্রকাশ, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদন্ড অনুসারে বয়ো:প্রাপ্তির গড় সময়ের ২ এসডি আগে হলে ধরে নেওয়া হবে। 

ছেলে এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে এ সময় ভিন্ন রকমঃ মেয়েদের ক্ষেত্রে ৮ বছর এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে ৯ বছরের পূর্বে হলে তাকে বেশিরভাগ দেশে প্রি-কোশিয়াস পিউবারটি হিসাবে ধরা হয়ে থাকে। 

বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েদের ক্ষেত্রে কোন বয়সটি আগে বয়ো:সন্ধিকাল দেখা দিলে তাকে প্রি-কোশিয়াস পিউবারটি বলা হবে, তা নিয়ে কিছুটা ঐক্যমত্যের ঘাটতি রয়ে গেছে। তবে কারো কারো মতে এটি ৭ এবং ৮ বছর (বালিকা ও বালক যথাক্রমে) আগে বয়ো:সন্ধিকাল দেখা দিলে তাকে প্রি-কোশিয়াস পিউবারটি বলা যেতে পারে। আট বা নয় বছর বয়সে বালক ও বালিকাদের যৌবন প্রাপ্তির দৈহিক পরিবর্তন দেখা দিতে থাকে। 

বালিকাদের ক্ষেত্রে ৮ বছর বয়সের পর প্রথমে মানসিক প্রস্তুতি শুরু হতে থাকে এবং দ্রুতই দৈহিক পরিবর্তন দেখা দেয়। দৈহিক ওজন বৃদ্ধি পাওয়া শুরু করে এবং শরীরের নির্দিষ্ট অংশ (বুক ও নিতম্ব) নারী সুলভ হতে থাকে। স্তন বৃদ্ধি পেতে থাকে, ত্বকের কোমলীয়তা বৃদ্ধি পায়, গলার স্বর মিহি হতে থাকে। ইতোমধ্যে ঋতস্রাব শুরু হয়ে যায় এবং আবেগেরও হঠাৎ পরিবর্তন হতে থাকে। 

বালকদের ক্ষেত্রে মানসিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দৈহিক কাঠামোতে পুরুষালী অবয়োব প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে। ঘাম বৃদ্ধি পাই, অন্ডকোষের ত্বকের গাড়ত্ব বৃদ্ধি পাই, কন্ঠ গভীর হতে থাকে এবং আবেগও বৃদ্ধি পাই। পুরুষ যৌনাঙ্গের আকৃতি বৃদ্ধি পাই। এসময় বালকদের মাঝে আগ্রাসি মনোভাবও দেখা দিতে পারে। 

বহুবিধ কারণে প্রি-কোশিয়াস পিউবারটি হতে পারে। হাইপোথ্যালামাস বা পিটুইটারি গ্রন্থির অতি কার্যকারীতা (কেন্দ্রীয় প্রি-কোশিয়াস পিউবারটি) অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া মস্তিস্কের নীচের অংশে ইনফেকশন, আঘাত, অপারেশন ইত্যাদিও এ সমস্যা তৈরি করতে পারে। কিছু কিছু ক্যান্সারও এ রোগের কারণ হতে পারে। 

পেরিফেরাল প্রি-কোশিয়াস পিউবারটি সাধারণত: হরমোন নিস্বরণকারী গ্রন্থিগুলোর কোনো একটি টিউমারের কারণ হতে পারে, যেমন- এড্রেনাল গ্রন্থির টিউমার, অন্ডোকোষের টিউমার ইত্যাদি। কোনো কোনো বালক-বালিকার ওষুধ বা খাবার থেকে যৌন হরমোন দেহে প্রবেশের কারণেও প্রি-কোশিয়াস পিউবারটি হতে পারে।    

রোগীটির শারীরিক পরিবর্তান কী ভাবে শুরু হলো সেটিকে খেয়াল করলেই অনেক সময় প্রি-কোশিয়াস পিউবারটির কারণ অনুমান করা যেতে পারে। আবার এ পরিবর্তনের হার লক্ষ্য করে রোগটি কোথায় অবস্থিত সে বিষয়েও ধারণা করা সম্ভব। কোনো ক্ষেত্রেই বিব্রত বোধ না করে, হরমোন বিশেষজ্ঞের সরনাপন্ন হয়ে সঠিক সমাধানে পৌঁছানো উচিত। 

হরমোন বিশেষজ্ঞ ছেলে বা মেয়েটির দৈহিক পরিবর্তন ও বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করবেন, শারীরিক পরিবর্তনের পরিমাপ করবেন এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় হরমোন পরীক্ষা ও অন্যান্য পরীক্ষার পরিকল্পনা করবেন। এরমধ্যে যৌন হরমোনগুলো যেমন দেখা হবে, তেমনি থায়রয়েড হরমোন থেকে শুরু করে আনুসঙ্গিক আরো কিছু হরমোনের মাত্রা জেনে নিবেন। অনেক ক্ষেত্রেই পেটের আল্ট্রসনোগ্রাম খুব সহায়ক হয়। চিকিৎসক প্রয়োজন ভিত্তিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রি-কোশিয়াস পিউবারটি শনাক্ত করবেন এবং চিকিৎসার পরবর্তী পরিকল্পনা নির্ধারণ করবেন। 

অধিকাংশ ক্ষেত্রে মুখে খাবার ওষুধ বা ইনজেকশন দিয়ে চিকিৎসা করা গেলেও, কিছু কিছু ক্ষেত্রে অপারেশনের দরকার হতে পারে। 

লেখক: ডাঃ শাহজাদা সেলিম
সহকারী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ 

কমফোর্ট ডক্টর’স চেম্বার : ১৬৫-১৬৬, গ্রীনরোড, ঢাকা 
ফোন : ৮১২৪৯৯০, ৮১২৯৬৬৭ এক্স- ১১৯
মোবাঃ ০১৭৩১৯৫৬০৩৩, ০১৫৫২৪৬৮৩৭৭, ০১৯১৯০০০০২২
Email:
[email protected]

 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে

Best Electronics