Alexa সমুদ্রে কমছে অক্সিজেন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ১৬ ১৪২৬,   ০৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

সমুদ্রে কমছে অক্সিজেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৫৩ ৭ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২১:৫৮ ৭ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্র দূষণের কারণে সমুদ্রের তলদেশে অক্সিজেন কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে গবেষকরা। আর এর ফলে সমুদ্রে বসবাসকারী বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে বলে হুশিঁয়ার করে দিয়েছে তারা।

সম্প্রতি পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক সংস্থা আইইউসিএন- এর এক গবেষণায় এসব তথ্য জানাগেছে।

গবেষণাটির বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, বহু দশক ধরেই বিজ্ঞানীরা জানতেন যে, মহাসাগরগুলোতে পুষ্টিমান কমে যাচ্ছে। এখন গবেষকরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অক্সিজেন হ্রাস পরিস্থিতিকে মারাত্মক করে তুলছে। ফলে হুমকিতে পড়ছে টুনা, মার্লিন, হাঙ্গরের মতো অনেক মাছ। কারণ বড় মাছগুলোর বেশি শক্তির দরকার হয়।

সারা বিশ্ব জুড়ে সাতশ’রও বেশি সামুদ্রিক এলাকা এখন অক্সিজেন স্বল্পতায় ভুগছে। ১৯৬০ এর দশকে এই সংখ্যা ছিলো মাত্র ৪৫টি।

গবেষকরা বলছেন, কৃষি খামার ও শিল্প কারখানা থেকে নাইট্রোজেন এবং ফসফরাস সমুদ্রের পানিতে গিয়ে মেশার কারণেই পুষ্টি-দূষণের ঘটনা ঘটছে। সেই সঙ্গে এসব কারণে সমুদ্রের পানিতে থাকা অক্সিজেনের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে বলে বিজ্ঞানীরা জানতেন। এতদিন ধারণা করা হতো, এটি শুধুমাত্র উপকূলীয় এলাকার সমুদ্রেই প্রভাব ফেলছে।

এতোদিন তাদের ধারণা ছিল, শুধু উপকূলীয় এলাকার সমুদ্রেই  এমন প্রভাব পড়ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই হুমকির মাত্রা অনেক বেশি পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, ১৯৬০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে সমুদ্রের পানি থেকে অক্সিজেনের মাত্রা হ্রাস পেয়েছে ২ শতাংশ। সারা বিশ্বের বিবেচনায় এই পরিমাণ কম মনে হলেও কোন কোন গ্রীষ্মপ্রধান এলাকায় এই হার ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

এই বিষয়ে আইইউসিএনের কর্মকর্তা মিন্না ইপস বলেন, ‘অক্সিজেন হ্রাস পাওয়ার ব্যাপারটি আমরা জানতাম। কিন্তু সেটার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক এবং কতটা হুমকি তৈরি করছে সেটা আমাদের জানা ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘গত ৫০ বছরে অক্সিজেন কমে যাওয়ার হার যে শুধুমাত্র চারগুণ হয়ে গেছে তাই নয়, এমনকি যেসব জায়গায় কার্বন নিঃসরণ কম হয়েছে, সেখানেও মহাসাগর থেকে অক্সিজেন কমে যাচ্ছে। এর ফলে টুনা, মার্লিন, হাঙ্গরের মতো অনেক প্রাণী সমুদ্রের উপরের দিকে এসে থাকতে শুরু করেছে। এ কারণে এসব প্রাণী মাছ-শিকারিদের সহজ লক্ষ্যে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতেও পড়ে যাচ্ছে।’

বিশ্বের দেশগুলো যদি কার্বন নিঃসরণের ক্ষেত্রে বরাবরের মতো মনোভাব দেখিয়ে যায়, তাহলে ২১০০ সাল নাগাদ মহাসাগরে অক্সিজেনের মাত্রা ৩-৪ শতাংশ কমে যাবে। গ্রীষ্মপ্রধান এলাকাগুলোয় এই হার হবে আরো অনেক বেশি। বেশিরভাগ ক্ষতি হবে সমুদ্রের প্রথম একহাজার মিটারের মধ্যে, যেখানে সবচেয়ে বেশি জৈববৈচিত্র রয়েছে। কম মাত্রার অক্সিজেনের ফলে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য চক্রের মতো মৌলিক ক্ষেত্রেও হুমকি তৈরি হবে।

ইপস বলেন, ‘আমরা যদি সাগর থেকে অক্সিজেন হারিয়ে ফেলি, তাহলে সেখানে প্রাণীগুলোর আবাসস্থল নষ্ট হবে, জৈববৈচিত্র নষ্ট হবে এবং আরো বেশি জেলিফিশের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে। এটা সেই সঙ্গে মহাসাগরের শক্তি এবং জৈব রাসায়নিক চক্র পাল্টে দেবে। ফলে আমরা এখনো জানি না, এসব জৈববৈচিত্রের এবং রাসায়নিক পরিবর্তন মহাসাগরের ভেতরে কী ঘটাবে?’

গবেষণাটির সহ-লেখক ও আইইউসিএন- এর গবেষক ড্যান ল্যাফোলে বলছেন, মহাসাগরের অক্সিজেন কমে যাওয়ায় সমুদ্রের তাপমাত্রা ও অ্যাসিড বেড়ে যাওয়ার ফলে এর মধ্যেই ক্ষতির মুখে পড়েছে সমুদ্রের পরিবেশ।

তিনি পরামর্শ দিয়ে বলছেন, আমাদের দ্রুততার সঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমাতে হবে। সেই সঙ্গে কৃষি খামার ও অন্যান্য উৎসের কারণে সমুদ্রে যে পুষ্টি-দূষণ হয় সেটাও বন্ধ করতে হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী