Alexa সমালোচিত নতুন ভিডিও সম্পর্কে যা বললেন রিফাতের স্ত্রী মিন্নি

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২২ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৬ ১৪২৬,   ২২ সফর ১৪৪১

Akash

সমালোচিত নতুন ভিডিও সম্পর্কে যা বললেন রিফাতের স্ত্রী মিন্নি

বরগুনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫২ ৯ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১৮:০১ ৯ জুলাই ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে নতুন একটি ভিডিও ফের আলোচনায় এনেছে রিফাতের স্ত্রী মিন্নিকে।

৬ জুলাই ভাইরাল হওয়া এ ভিডিও দেখে স্বামীকে বাঁচাতে মিন্নির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ভিডিওতে দেখা গেছে, সন্ত্রসীরা কলেজ গেট থেকে রিফাত শরীফকে টানতে টানতে সামনে নিয়ে যাচ্ছে, মিন্নি তখন স্বাভাবিকভাবে তাদের পেছনে হাঁটছেন। কয়েক সেকেন্ড পর রিফাতকে কোপানোর সময় মিন্নি ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। কখনো নয়ন বন্ড, কখনো রিফাত ফরাজীকে বাধা দিচ্ছিলেন। সন্ত্রাসীরা চলে যাওয়ার পর রিফাত শরীফ হেঁটে রিকশায় ওঠেন। মিন্নি তখন ব্যাগ ও জুতা তুলে রিফাতকে খুঁজতে সামনে এগিয়ে যান।

ভিডিওতে এ দৃশ্য দেখার পর মিন্নি কেন রিফাতকে কলেজের ভেতর নিয়ে যাচ্ছিলেন, সন্ত্রাসীরা রিফাতকে নিয়ে যাওয়ার সময় কেন স্বাভাবিকভাবে হাঁটছিলেন, শেষে রিফাতের দিকে না গিয়ে কেন জুতা-ব্যাগ তুলতে গেলেন? এসব নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে সামাজিক মাধ্যমে।

নতুন ভিডিওটি নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে মিন্নির সঙ্গে কথা হয় ডেইলি বাংলাদেশের এ প্রতিবেদকের। মিন্নি বলেন, তখন সোয়া দশটা হয়তো, রিফাত আমাকে বলে, আব্বু আসছেন, চলো তোমার সাথে দেখা করবে। আমি ওরে বলছিলাম আমার কাজ শেষ করে বের হই, ও আপত্তি করে বলে, বাবা গেটে অপেক্ষা করছে, আমি তখন ওর সাথে বের হই। গেটের বাইরে এসে এদিক ওদিক তাঁকিয়ে দেখি ওর বাবা কোথাও নেই। তখন আমি বলি তুমি মিথ্যে বলেছ, চলো রুটিন নিয়ে আসি। আমি ওরে নিয়ে ভেতরে যেতে চাই।

মিন্নি আরো বলেন, ঠিক তখন ১০-১২ জন আমাদের ঘিরে ধরে। রিশান ফরাজী ওর পথরোধ করে বলে, তুই আমার বাবা মা তুলে গালি দিছিস? ও বলে না, তখন রিফাত ফরাজী এসে বলে আমার চোখের দিকে তাঁকিয়ে বল। এরপর আরো কয়েকজন ওকে জোর করে সামনে নিয়ে যায়।

ভিডিও সম্পর্কে মিন্নি বলেন, ঘটনার আকস্মিকতায় আমি হতভম্ব হয়ে ওদের পেছনে হাঁটতে থাকি। পরে ওরা আক্রমণ করলে প্রতিরোধের চেষ্টা করি। অনেকের কাছে হেল্প চাইছি, কেউ আসেনি। ওরা চলে যাওয়ার পর রিফাত নিজেই হেঁটে রিকশায় ওঠে, আমার পা কেটে যাওয়ায় হাঁটতে পারছিলাম না, তাই জুতা পায়ে দেই। তখন একজন আমার হাতে ব্যাগ তুলে দেয়। পরে আমি দ্রুত রিফাতকে নিয়ে হাসপাতালে যাই। ওই সময় দুজন মোটরসাইকেল নিয়ে আমাদের রিকশা ফলো করছিলো।

বিতর্ক প্রসঙ্গে মিন্নি বলেন, কেউ কেউ বিষয়টি ভিন্ন দিকে নেয়ার চেষ্টা করছে। আমি বলবো, বিয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় স্বামীকে নির্মমভাবে খুন হতে দেখেছি। মানসিকভাবে আমি প্রচণ্ড বিধ্বস্ত। আপনাদের কাছে অনুরোধ, আমি তো আপনাদের মেয়ে। আপনারা না জেনে কোনো মন্তব্য কইরেন না। এ মুহূর্তে আমার পাশে কেউ নেই, আমি সবাইকে পাশে চাই। 

বরগুনার এসপি মারুফ হোসেন বলেন, এটি একটি নারকীয় হত্যাকাণ্ড। আমরা কাউকে টার্গেট করে না, সার্বিক বিষয় নিয়েই তদন্ত করছি। মিন্নি এ মামলার প্রধান সাক্ষী। তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়িতে পাহারা বসানো হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর