Alexa সমস্যায় বিবর্ণ থিয়েটার

ঢাকা, শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৫ ১৪২৬,   ২০ মুহররম ১৪৪১

Akash

সমস্যায় বিবর্ণ থিয়েটার

কুমিল্লা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:২৪ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১২:০৭ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ অডিটোরিয়াম। উচ্চ মাধ্যমিক থেকে অনার্স-মাস্টার্সসহ সব মিলিয়ে ২৭ হাজার ছাত্র-ছাত্রীদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, জাতীয় দিবস, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীসহ সব অনুষ্ঠানের একমাত্র মিলনায়তন এটি।

২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দৃশ্যমান কোনো সংস্কার বা উন্নয়ন হয়নি। ফলে জরাজীর্ণ মিলনায়তনে বাধ্য হয়ে অনুষ্ঠান করছে সংগঠন ও বিভাগগুলো।

ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ সূত্র বলছে, উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রি ছাড়াও ২২টি বিষয়ে স্নাতক ও ২০টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়ানো হয় এই কলেজে। সব বিভাগের বিদায়-বরণ অনুষ্ঠান এ অডিটোরিয়ামে হয়। রয়েছে এক ডজনেরও বেশি সামাজিক সংগঠন। রয়েছে বিভাগ ভিত্তিক সমিতি। এছাড়াও রয়েছে শিক্ষক পরিষদ, কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ। অডিটোরিয়ামের বেহাল দশার ফলে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বৃষ্টির পানিতে পরিবেশ স্যাঁতস্যাতে হয়ে গেছে। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। অডিটোরিয়ামের তিনপাশে মশার আস্তানা। মুছে গেছে অডিটোরিয়ামের নাম। আর ভেতরে মঞ্চ ভাঙা, পর্দার কাপড়গুলো ছিড়ে গেছে বহু আগেই। দর্শকদের বসার অধিকাংশ চেয়ার ভাঙা। মঞ্চের দুই পাশের সাজ-সজ্জার কক্ষটিও ব্যবহারের অযোগ্য।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বিতর্ক পরিষদের একজন নিয়মিত নারী সদস্য জানান, অডিটোরিয়ামের বেহাল দশার কারণে একান্ত বাধ্য না হলে কেউ এখানে আসতে চায় না। অনুষ্ঠান করার আগে কর্মীদের রুম নয় শুধু ময়লা কাঁদাও পরিষ্কার করতে হয়। 

কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ও কলেজ মুখপত্র ক্যাম্পাস বার্তার সম্পাদক মাহাদী হাসান বলেন, বিগত কয়েক বছরে কলেজের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তবে কলেজ অডিটোরিয়ামে পরিবর্তনের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। 

রক্তদাতাদের সংগঠন বাঁধনের সভাপতি আলি আকবর টিপু জানান, অডিটোরিয়ামটি প্রায় পরিত্যক্ত হওয়ার পথে। বিকল্প কোনো পথ নেই বলে এখানেই বাধ্য হয়ে অনুষ্ঠান করতে হয়। প্রতিটি অনুষ্ঠানে আয়োজকদের হিমশিম খেতে হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংগঠন প্রতিনিধিদের দাবি অল্প সময়ে সংস্কার করে ব্যবহারের উপযোগী করা হোক।

এর সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তির সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা অবশ্যক। প্রতি মাসে ১৫-২২টি অনুষ্ঠান এখানে হয়ে থাকে। সাউন্ড সিস্টেম ভাড়া করে আনতে হয়। অডিটোরিয়ামে নিজস্ব সাউন্ড সিস্টেম থাকা জরুরি।

বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের উপদেষ্টা মশিউর রহমান ভূঁইয়া বলেন, এ কলেজের একমাত্র সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্রটি বহুদিন বেহাল হয়ে পড়ে আছে। যা সত্যি দুঃখজনক। অডিটোরিয়াম আধুনিকায়নের জোর দাবি জানাচ্ছি।

ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, সম্পতি একটি বরাদ্দ এসেছে। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘ সময় অডিটোরিয়ামটি পরিপূর্ণভাবে সাজানো সম্ভব হয়নি। আশা করি দ্রুত সংস্কার করতে পারবো।

তবে ২৭-২৮ হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে এ কলেজে ৩০০ আসনের এ অডিটোরিয়াম যথেষ্ট নয়। চার হাজার আসনের একটি মিলনায়তন তৈরির জন্য চাহিদাপত্র তৈরি করা হয়েছে। যা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও অত্যাধুনিক হবে। আশা করি আমরা এ বরাদ্দ পাবো। এ জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম