ঢাকা, সোমবার   ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৬ ১৪২৫,   ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪০

সমন্বিত খামারে স্বাবলম্বী

মেহেরপুর প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৪:৩৩ ৮ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৪:৩৩ ৮ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় সমন্বিত খামার গড়ে স্বাবলম্বী হয়েছে খোরশেদ আলম। তার খামারে রয়েছে দেশীয় ও টার্কি মুরগি, ছাগল, কোয়েল পাখি ও কবুতর। 

এখানে শুধু টার্কি মুরগির খামারই নয় জেলায় একমাত্র টার্কির বাচ্চা উৎপাদন খামারটিও তার। তার এ কাজে সহযোগিতা করেছেন তার বড় ভাই আনারুল ইসলাম বাবু।

এক সময়ে বেকারত্ব ঘুচাতে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন খোরশেদ আলম। সেখানে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার কারণে কয়েক বছরের মধ্যে তিনি দেশে ফিরে আসেন। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং মানসিকভাবে তিনি ভেঙে পড়েন। পরে তিনি চাকরির পিছু না ছুটে ডিস ক্যাবলের ব্যবসা শুরু করেন। সেখানেও নানা প্রতিযোগিতা ও প্রতিহিংসার মধ্যে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হন। পরে বড় ভাই আনারুল ইসলামের পরামর্শে তিনি সমন্বিত খামার গড়েন।

এখানে পরীক্ষামূলকভাবে দেশীয় মুরগির খামারো গড়ে তুলেছেন খোরশেদ আলম। বিভিন্ন মেশিন দ্বারা টার্কি মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করা হয় এখানে। প্রাথমিকভাবে প্রতি মাসে তিনশ বাচ্চা উৎপাদন করছেন। সমন্বিত এ খামার থেকে তার প্রতি মাসে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। তবে খামারটি আরো বড় হলে আয়ের পরিমাণ আরো বাড়বে বলে আশা করেন তিনি।

গাংনীর ছোট খামারি মশিউর রহমান বলেন, খোরশেদ আলমের সমন্বিত খামার থেকে কোয়েল পাখি ও টার্কি মুরগি কিনি। এখানে সব থেকে বেশি সুবিধা একের ভিতর সব। টার্কি, টার্কির বাচ্চা অথবা ডিম সবই এখানে পাওয়া যায়। ফলে খোরশেদ আলমের সমন্বিত খামারে এলেই সব কিছুই একসঙ্গে পাওয়া যায় বিধায় আমাদের হয়রানি হতে হয় না।

উপজেলার রাইপুর মাধ্যমিক বিদ্য্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, শিক্ষিত বেকার যুবকদের চোখ খুলে দিয়েছে খোরশেদ আলম। দেশ আয়তনে ছোট হলেও জনসংখ্যায় বেশি। অল্প জায়গায় খোরশেদ আলমের মত করে অনেকগুলো খামার দেশের বিভিন্ন জায়গায় যদি গড়ে উঠলে শিক্ষিত বেকার যুবকেরা মাদক সেবন কিংবা নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তো না।

সমন্বিত খামারের উদ্যোক্তা খোরশেদ আলম বলেন, বিভিন্ন টেলিভিশন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে জানতে পারি সমন্বিত খামারের কথা। সেখান থেকে মাথায় আসে পরিকল্পনা। শুরু করি সমন্বিত খামারের কাজ। এখন খামারে সব ধরনের পুষ্টিকর মাংস উৎপাদন হচ্ছে। দেশীয় মাংসের পাশাপাশি দেশে পুষ্টির অভাব পুরণে এ খামারো ভূমিকা রাখবে। তবে বিভিন্ন ব্যাংকগুলো যদি অল্প সুদে খামারিদের লোন দিলে অনেক বেকারত্ব দূর হতো।

সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের ভেটেরিনারি সার্জন মো. নূর আলম বলেন, পশু-পাখির রোগ বালাই দূর করতে খামারিদের সব ধরনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। জনবলের অভাবে খামারিদের সেবা দিতে কিছুটা সমস্যা  হচ্ছে প্রাণী সম্পদ বিভাগের। স্বল্পসুদে ব্যাংক ঋণের সুবিধা যেন চাষিরা পায় তা দেখভাল করা হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর