সব রোগের এক চিকিৎসক

ঢাকা, বুধবার   ০৩ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২০ ১৪২৭,   ১০ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

সব রোগের এক চিকিৎসক

মুরাদনগর ( কুমিল্লা ) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০৫ ৬ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ১৫:১১ ৬ এপ্রিল ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দোকানের ভেতর তিনটি বেড। আর এতেই চলে সিজার, ডায়াবেটিস, চোখ, কান, নাক, গলা, বক্ষ, হার্ট, ফোড়া, পচা-গলা, চর্ম-যৌন, মা ও শিশু বিষয়কসহ নানা জটিল রোগের চিকিৎসা। এতসব রোগের চিকিৎসা দেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মেটংগর বাজারের শ্রী জহুর লাল দেবনাথ।

চিকিৎসাবিদ্যায় তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সনদ নেই। তারপরও নির্বিঘ্নে তিনি রোগীকে দিয়ে যাচ্ছেন তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের এন্টিবায়োটিক।  

সরেজমিনে জানা যায়, হাতুড়ে এ চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় পান্ডুঘর এলাকায় বেশ কয়েকজন রোগীর মৃত্যুও হয়েছে।

তার ভুল চিকিৎসার কারণে মানবেতর জীবন যাপন করছেন পান্ডুঘরের কামাল মোল্লা। তার সহযোগী হিসেবে আছেন তারই ছেলে সেতু দেবনাথ। সেতুও তার প্যাডে রোগীকে তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের এন্টিবায়োটিক লিখেন। সে নিজেকে ঢাকার শিশু হাসপাতালের চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকেন।   

আরো জানা যায়, জহুর লাল দেবনাথ প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ কাগজ কলমে অভিযোগ করার সাহস পায় না।

ভোক্তভোগী পান্ডুঘর গ্রামের মানিক মিয়া বলেন, কয়েক বছর আগে আমার স্ত্রীকে জহুর লাল দুটি ইনজেকশন পুশ করেন। তারপর আমার স্ত্রী আর বাড়ি আসতে পারেননি। জহুর লালের দোকান থেকে বের হয়ে সড়কেই সে মৃত্যুবরণ করে।

মানিক মিয়া আরো বলেন, তার  প্রতিবেশী বাচ্চু মিয়ার ছেলে সুমনের অকাল মৃত্যু হয় এই জহুর লালের ভুল চিকিৎসায়।

পান্ডুঘরের কামাল মোল্লা বলেন, আমি বিদেশে থাকতাম। দেশে আসার পর পায়ে একটি ছোট ফোড়া হয়। ওই ফোড়ার চিকিৎসা করি কুমিল্লায়। কুমিল্লা থেকে বাড়ি আসলে জহুর লাল বলেন, আপনি কষ্ট করে কুমিল্লায় গিয়ে ড্রেসিং না করে আমার কাছে আসুন আমি ড্রেসিং করে দিলে ঠিক হয়ে যাবে। জহুর লাল আমাকে ড্রেসিং করলে পায়ের পচন বেড়ে যায়।  

পরবর্তীতে কুমিল্লা গেলে ডাক্তার বলেন, আপনার আঙ্গুল রাখা যাবে না, কেটে ফেলতে হবে। তারপর পায়ের চারটি আঙ্গুল ফেলে দিতে হয়েছে। পা নিয়ে চলাফেরা করতে অসুবিধা হয় বলে এই চা দোকানে বউ বাচ্চা নিয়ে থাকি।

কামাল মোল্লার স্ত্রী বলেন, আমার স্বামীকে জহুর লাল পঙ্গু বানিয়ে দিলো। জহুর লালের কারণে আজ ছেলে মেয়ে নিয়ে  দোকানের ভেতর থাকতে হয়। আমি জহুর লালের বিচার চাই।

এ ব্যাপারে জহুর লাল বলেন, রোগী মরলে ভালো কথা, কেউ আমার কাছে অভিযোগ করেনি। আপনাদের কাছে অভিযোগ থাকলে ভালো। কামাল মোল্লার পা কাটার ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন চিকিৎসা করছি ভালোর জন্য সবাই কী ভালো হয়?    

মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা  ডা. নাজমুল আলম  বলেন, পল্লী চিকিৎসকদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে প্রাথমিক চিকিৎসার বাইরে তারা কোনো ধরনের চিকিৎসা দিতে পারবেন না। কোনো ধরনের অপারেশন করতে পারবেন না। এন্টিবায়োটিক লিখতে পারবেন না। এ বিষয়ে যদি সুনিদিষ্ট কোনো অভিযোগ পাই তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ওই পল্লী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ