সব থাকতেও টেস্ট হয় প্রাইভেট হাসপাতালে

ঢাকা, সোমবার   ২৪ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১২ ১৪২৬,   ১৯ শাওয়াল ১৪৪০

শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল

সব থাকতেও টেস্ট হয় প্রাইভেট হাসপাতালে

ফাহিমা আক্তার পিংকি, শরীয়তপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:০১ ১৩ জুন ২০১৯   আপডেট: ১৮:২৪ ১৩ জুন ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সব ব্যবস্থা থাকলেও রোগীদের পাঠানো হচ্ছে প্রাইভেট ক্লিনিকে। আর এসবের জন্য সদর হাসপাতালে তৎপর রয়েছে দালালচক্র। শহরে ক্লিনিকের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেড়ে চলেছে দালালের সংখ্যা।

বৃহস্পতিবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, জেলার ৬টি উপজেলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা হাসপাতালের গেটে এসেই পড়ছেন দালালদের খপ্পরে। সেখান থেকেই ধরে নিয়ে যাওয়া হয় প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোয়। প্রথম ধাপে পাশ কাটিয়ে যেতে পারলেও যে কোনো টেস্টের জন্য সেই দালালদেরই শরণাপন্ন হতে হয়। প্রাইভেট হাসপাতালগুলোই যে টেস্টের ভরসাস্থল!

নড়িয়া উপজেলার কদমতলী থেকে আসা আব্দুল হাই বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে পেটের বা-পাশে ব্যথা করছে। এসেছিলাম ডাক্তার দেখাতে। তিনি কয়েকটা টেস্ট দিলেন। এগুলো করাতে হবে নাকি বাইরে থেকে। অত টাকা তো সাথে করে নিয়ে আসিনি।’

কয়েকজন রোগী অভিযোগ করেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার হলে তা চিকিৎসক লিখে দেন। এসময় রোগীরা চিকিৎসকের রুম থেকে বের হওয়ার পরে হাসপাতালে পরীক্ষা করার ব্যবস্তা আছে কিনা তা জনার বা পরীক্ষার কোনো সুযোগ দেন না দালালরা। ওৎপেতে থাকা দালালরা রোগীর ব্যবস্থাপত্র ছিনিয়ে নিয়ে তাদের পছন্দের ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখান থেকে মোটা কমিশনই দালালদের উপার্জেনের উৎস।

জানা যায়,  সিবিসি পরীক্ষা সরকারি হাসপাতালে ১৫০টাকা ও আরবিএস ৬০টাকা দিয়ে করা গেলেও ক্লিনিকে গিয়ে সিবিসি ৪০০ টাকা ও আরবিএস ২০০টাকা দিয়ে করাতে হয়। আর ২০০টাকার ডিজিটাল এক্সরে ৫০০টাকা দিয়ে করাতে হচ্ছে রোগীদের। এসবের জন্য আবার চিকিৎসকদের দায়ী করলেন এক দালাল। (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) তিনি বলেন, আমরা গরীব মানুষ। কষ্ট করে দু’টাকা আয় করি। এতগুলা দালালের মধ্য থেকে রোগী পাওয়া কম কষ্টের না। কিন্তু আসল ননী তো খেয়ে নেন ডাক্তাররা। যে ক্লিনিকেই রোগী টেস্ট করাক; ডাক্তারের কমিশন নিশ্চিত। প্রেসক্রিপশনে ডাক্তারের নাম দেখে কমিশন তুলে রাখা হয়। 

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আব্দুল্লাহ এ বিষয়ে বলেন, আমাদের কিছু সংকটের কারণে বাইরে টেস্টের জন্য পাঠানো হয়। তবে কোনো ডাক্তার সেখান থেকে কমিশন খান না। খেলেও আমার জানা নেই। প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমাদের এখানে ডিজিটাল এক্স-রে ও বায়োকেমিস্ট্রি এনালাইজার মেশিন স্থাপনের কাজ চলছে। আসা কারি জুলাই মাস থেকে হাসপাতালের সকল পরীক্ষা করা যাবে। তখন রোগীদের আর ক্লিনিকে গিয়ে পরীক্ষা করানো লাগবে না। বিভিন্ন বিষয়ে আমি সবার পরামর্শ নিচ্ছি। 

দালালদের দৌরাত্মর কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, আগের চাইতে দালালের সংখ্যা অনেকটা কমেছে। অতি দ্রুত দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর সিসি ক্যামেরা আমার রুমে নয় তাই আমি দালালদের চিনতে পারি না।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর/এস