Alexa সব আমল নষ্টের মূলে শিরক (পর্ব-২)

ঢাকা, শনিবার   ২০ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৬ ১৪২৬,   ১৭ জ্বিলকদ ১৪৪০

সব আমল নষ্টের মূলে শিরক (পর্ব-২)

প্রিয়ম হোসেন

 প্রকাশিত: ২০:৪৯ ১২ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ২১:৫৯ ১২ জানুয়ারি ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

শিরক হচ্ছে সব পাপের বড় পাপ। যা আল্লাহ তায়ালা কখনোই ক্ষমা করবেন না। যদি কোনো ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে শিরক করে মারা যায় তাকে চিরস্থায়ী জাহান্নামে থাকতে হবে। 

শিরকের ভয়াবহতা এত বেশি যে, শিরক মানুষের সব আমল নষ্ট করে দেয়, মানুষকে চিরস্থায়ী জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়।

প্রিয় পাঠক, শিরক নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনার আজ দ্বিতীয় পর্ব দেয়া হলো। আসুন, আমরা শিরক থেকে মুক্ত থাকি।

গায়েব জানার শিরক: আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো মানুষ, হোক নবী, রাসূল, বুজুর্গ গায়েব জানেন এমনটা বিশ্বাস করা শিরক। (সূরা নামল- ২৭:৬৫, সূরা আনআম- ৬:৫০-৫৯)

মানুষের অন্তরের কথা: আলাহ ছাড়া অন্য কেউ মানুষের মনের কথা জানেন না। এর বিপরীতে বিশ্বাস করা শিরক। (সূরা মুলক- ৬৭:১৩,১৪)

আল্লাহ ছাড়া সন্তান-সন্তুতি কেউ দিতে পারে: আল্লাহ যাকে চান সন্তান দিতে পারেন। অন্য কারো এই ক্ষমতা নেই। (সূরা শুরা- ৪২:৪৯-৫০)

আল্লাহ ছাড়া সুস্থতা: একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই মানুষকে সুস্থতা দান করতে পারেন, অন্য কেউ নয়। (সূরা শুআরা- ২৬:৭৮-৮২) 

কাজ করার শিরক: আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কেউ ইচ্ছা করলেই কোনো ভালো কাজ করতে পারবে বা কোনো খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে পারবে এমন মনে করা শিরক। (সূরা হুদ-১১: ৮৮) 

ক্ষতির শিরক: আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কেউ কারো ক্ষতি করতে পারে এমনটা মনে করা শিরক। (সূরা ফাতহ- ৪৮:১১) 

জীবন মৃত্যু: আল্লাহ ছাড়া কেউ কাউকে বাঁচাতে পারে বা মারতে পারে এমন মনে করা শিরক। (সূরা মুমিন- ৬৮) 

আল্লাহ ছাড়া সবাই মৃত: যদি কেউ মনে করেন আল্লাহ ছাড়াও অন্য কোনো নবী, রাসূল, গাউস, কুতুব সর্বদা জীবিত রয়েছেন তাহলে সে শিরক করছে। (সূরা রাহমান- ৫৫:২৬-২৭,সূরা ইমরান- ৩:১৮৫,১৪৪, সূরা জুমার- ৩৯:৩০)

আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ বিশ্ব পরিচালনা করেন: কোণো নবী, রাসূল, গাউস, কুতুব, ওলি বিশ্ব পরিচালনায় অংশ নেন, একথা মনে করা শিরক। আল্লাহ তায়ালা সময়কেও নিয়ন্ত্রন করেন। তাই সময় বা যুগকে গালি দেয়া গর্হিত কাজ। (সূরা রাদ- ১৩:২,সূরা ইউনুস- ১০:৩১, সূরা সাজদাহ-৩২:৫)

অন্তরের পরিবর্তন: একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই কারো অন্তরের পরিবর্তন ঘটাতে পারেন। এর ব্যতিক্রমে বিশ্বাস করা শিরক। (সূরা আনফাল- ৮:২৪) (তিরমিজি- ৩৫২২)

যাদু-টোনা, বাণ মারা।

ওরশ: অনেক মাজার ও পীরের দরবারে অমাবস্যা, পূর্ণিমা, পীরের জন্ম বা মৃত্যু তারিখ নির্দিষ্ট করে ওরশ হয়ে থাকে। বেপর্দা অবস্থায় নারী-পুরুষ একত্রে বসে জিকির করে, কাওয়ালী গান শোনে। ভন্ড পীর, ফকীররা এ সব ওরশে ওয়াজ নসীহতের নামে শরী‘আত বিরোধী আক্বীদা-বিশ্বাস প্রচার করে। শাহী তবারক রান্না করা হয়। ওরশের পরে যে টাকা অবশিষ্ট থেকে যায়, তা পীর ও তার খাদেমদের পকেটে চলে যায়। ওরশ মূলতঃ আনন্দোৎসব ও টাকা উপার্জনের পন্থা হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

খাজা বাবার ডেগ: একদল লোক বিশেষত যুবকেরা রজব মাস এলেই পথে-ঘাটে, বাজারে যেখানেই সুযোগ পায় সেখানেই একটা ডেগ বা বড় হাড়ি বসায়। লালসালু কাপড় বিছিয়ে, বাঁশ দিয়ে ছাউনি দিয়ে, বিজলী বাতি জ্বালিয়ে, রং বেরংয়ের কাগজ এবং বিভিন্ন ধরনের রং লাগিয়ে ঘর সাজিয়ে তার মধ্যে স্থাপন করে ডেগ। তারা একে বলে ‘খাজা বাবার ডেগ’। এটা একটা বিনা পুজির ধর্মব্যবসা।

ন্যাংটা বাবায় বিশ্বাস: এরুপ বিশ্বাস করা যে ন্যাংটা বাবা ভবিষ্যত বা গায়েব জানেন তার ভালো-মন্দ করার ক্ষমতা আছে।

প্রাণীর ছবি, চিত্র, প্রতিকৃতি, মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিমা ইত্যাদির হুকুম: কোনো নেতা, লিডার বা স্মরণীয়-বরণীয় ব্যক্তিবর্গের ছবি, চিত্র, প্রতিকৃতি, মূর্তি ভাস্কর্য ইত্যাদি তৈরি করা, মাঠে-ঘাটে, অফিস-আদালতে ও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এগুলো স্থাপন করা, এগুলোকে সম্মান করা, এগুলোর উদ্দেশ্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ ইত্যাদি করা।

তাছাওউফের শায়েখ বা পীরের কল্পনা: তাছাওউফের শায়খ বা পীরের চেহারা, আকৃতি ইত্যাদি কল্পনা করে মোরাকাবা, ধ্যান, জিকির বা অন্য যেকোনো ইবাদত করা শিরক।

গায়রুল্লাহর নামে জিকির বা অযীফা: আল্লাহর জিকিরের ন্যায় কোনো নবী বা রাসূল, পীর, ওলী-আওলিয়া, বুযুর্গ, আলিমের নাম জপ করা, বিপদের পড়লে তাদের নামের অযীফা পড়া। যেমন- ‘ইয়া রাহমাতুল্লিল আলামীন’, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ’, ‘নূরে রাসূল, নূরে খোদা’, ‘হক বাবা, হক বাবা’ ইয়া বড়-পীর আব্দুল কাদির জিলানী, ইয়া গাউছুল আজম, ইত্যাদি।

সুতরাং আসুন, দুনিয়া এবং পরকালের মুক্তি লাভের জন্য আমরা শিরক থেকে মুক্ত থাকি। হে আল্লাহ, তোমার কাছে আমরা যাবতীয় শিরক থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহুম্মা আমীন।

আরো পড়ুন>>> সমাজে প্রচলিত শিরক (পর্ব-১)

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে