Alexa সবুজে ঘেরা ভূতের গ্রাম!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৮ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৩ ১৪২৬,   ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪০

সবুজে ঘেরা ভূতের গ্রাম!

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২৩:২০ ১৯ জুন ২০১৯   আপডেট: ২৩:২১ ১৯ জুন ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

গ্রামটি দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলো। এই গ্রামের পুরোটা জুড়েই শুধু সবুজ আর সবুজ। প্রতিটি বাড়ির ছাদ পরম যত্নে সবুজ লতাপাতায় ঢাকা। শুধু ঘরবাড়িই নয় রাস্তাঘাট, উঠোনসহ পুরো গ্রামটাই সবুজের কার্পেটে মোড়ানো। তবে সবুজে ঘেরা এই গ্রামটিতে কোনো মানুষ বাস করেন না। তাই অনেকেই গ্রামটির নাম দিয়েছেন ভূতের গ্রাম!

চীনের সাংহাই উপকূল থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরত্বে শেংশান দ্বীপের ছোট্ট একটি গ্রাম নামের নাম হাওটাওয়ান। সাংহাই থেকে নৌপথে গ্রামটিতে যেতে প্রায় ৫ ঘণ্টার মতো সময় লাগে।

চীনের তরুণ ফটোগ্রাফার কুইং জিয়ান ২০১৫ সালে এই গ্রামের সন্ধান পান। তিনি এই গ্রামের বেশ কিছু ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। এরপর থেকেই গ্রামটি বিশ্ববাসীর নজর কাড়ে।

গ্রামটি ১৯৫০ সালের দিকে পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়। মাছ ধরাই অধিকাংশ গ্রামবাসীর পেশা ছিলো। ১৯৮০ সালে সেখানে ৩ হাজারের ওপরে মানুষ বাস করতেন। তবে শহর থেকে দূরে হওয়ায় হাওটাওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ খুব কষ্টকর ছিলো। খাবার ও পানির জন্য গ্রামবাসীকে অনেক পথ পাড়ি দিতে হতো। এসব কারণে ১৯৯০ সালের দিকে সেখানকার অধিবাসীরা শহরে পাড়ি জমান। এরপর থেকে গ্রামটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। 

পরে ২০০২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রামটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। নিষিদ্ধ ঘোষণার ১০ বছরের বেশি সময় পরে সমুদ্রের ধারের এই গ্রামটিতে গিয়ে দেখা যায়, সবুজের চাদরে পুরো গ্রাম ঢাকা পড়েছে। বাড়িগুলোর কোনো কোনোটিতে এখনো আসবাবপত্র রয়েছে। 

বর্তমানে পর্যটনকেন্দ্র হাওটাওয়ানের পরিচিতি বেড়েছে। এখন সরকারই গ্রামটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছে। গ্রামটি ঘুরে দেখতে পর্যটকদের গুণতে হবে প্রবেশ ফি।

শেংশান দ্বীপটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন চেন বো নামে এক কর্মকর্তা। তিনি জানান, হাওটাওয়ানে এখন পর্যটকের সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। পর্যটকদের কাছে আমাদের অনুরোধ ঘুরে দেখার সময় কোনভাবেই যেন গ্রামটির ক্ষতি না হয়। এজন্য সবাইকে আহ্বান জানান তিনি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর