সবাই আন্তরিক হলে সেশনজট থাকবে না: শেকৃবি ভিসি

ঢাকা, রোববার   ০৫ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৩ ১৪২৬,   ১২ শা'বান ১৪৪১

Akash

সবাই আন্তরিক হলে সেশনজট থাকবে না: শেকৃবি ভিসি

শেকৃবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫২ ৭ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৪:৫৩ ৭ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ। ২০১৬ সালের ১৪ আগস্ট নিয়োগ পান তিনি। কৃষি শিক্ষা, গবেষণা, সম্প্রসারণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন ডেইলি বাংলাদেশের শেকৃবি প্রতিনিধি আবু হানিফ

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক বিষয় জানতে চাই
-১৯৩৮ সালের ১১ ডিসেম্বর শেরেবাংলা একে ফজলুল হক বেঙ্গল এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০১ সালের ১৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করেন। শেকৃবি ক্যাম্পাসটি ৮৬.৯২ একর অর্থাৎ ৩৫.১৯ হেক্টর জমির উপর অবস্থিত।

চারটি অনুষদ আছে। ১. কৃষি অনুষদ ২. অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ ৩. ফিসারিজ একোয়াকালচার অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদ ৪. এগ্রি বিজনেস ম্যানেজম্যান্ট অনুষদ। ভর্তি প্রক্রিয়া হচ্ছে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার আওতায়। হল আছে পাঁচটি। ছাত্রদের তিনটি। ১. শেরেবাংলা হল (প্রায় ৫০০জন থাকতে পারে) ২. কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল (প্রায় ৮০০জন থাকতে পারে) ৩. নবাব সিরাজউদ্দউলা হল (১০০০জন) থাকতে পারে। ছাত্রীদের দুইটি হল আছে। ১. বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল (প্রায় ৫০০জন থাকতে পারে) ২. কৃষকরত্ন শেখ হাসিনা হল (১০০০ জন থাকতে পারে)

কৃষি শিক্ষা ও গবেষণায় শেকৃবির অবদান কেমন?
-দেশের কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে শেকৃবির একক অবদান রয়েছে। জনগণের খাদ্য ঘাটতি পূরণে গ্র্যাজুয়েটরা ভূমিকা রাখছে। ১৯৮০ সাল পর্যন্ত তারা প্রায় সব ধরনের কৃষিজাত অবিষ্কারে অবদান রাখেন। এরপর অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েরও অবদান রয়েছে।

উপাচার্য হিসেবে আপনার প্রাপ্তি কী?
-৩৫২ কোটি ৬৮ লাখ টাকার বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। চেষ্টা করছি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান, অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে। শিক্ষকদের পাঠদানের মান বাড়াতে ৩৬টি কর্মশালা করেছি। অফিসার-কর্মকর্তাদের জন্য কর্মশালা করেছি। কম্পিউটার অপারেটরদের কাজের গতি বৃদ্ধিতে কর্মশালা করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে মালীদের নিয়ে গাছ পরিচর্যার জন্য প্রাথমিক জ্ঞানের উপর তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। ১৭-১৮টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। 

শেকৃবির গবেষণা কার্যক্রম কেমন চলছে?
-বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার মানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেয়ার জন্য কাজ করছি। এখন অন্য সময়ের তুলনায় সবচেয়ে বেশি মানসম্মত গবেষণা হচ্ছে। শিক্ষকরা দেশের নানা সমস্যা সমাধানের জন্য গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। জলবায়ু পরিবর্তন ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের উপায় নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। ঢাকা শহরকে সবুজে আচ্ছাদিত করার জন্য ছাদ বাগান নিয়ে চলছে ব্যাপক গবেষণা। সুন্দরবনের সব ধরনের প্রাণীর জেনেটিক বারকোড নির্ণয় ও বিভিন্ন ফসলের জাত উদ্ভাবনসহ আন্তর্জাতিক মানের মৌলিক ও ফলিত গবেষণা করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত জমি নেই। এ জন্য কি কোনো পদক্ষেপ রয়েছে?
-গবেষণার জন্য একটি আলাদা জায়গা খোঁজা হচ্ছে। এজন্য কমিটিও করা হয়েছে। তাদের বলছি, ১০০ কিংবা ২০০ একর একটি খাস বা স্বল্পমূল্য জমি খুঁজতে। এটার নাম হবে ফিল্ড ল্যাবরেটরি। 

নতুন কোনো অনুষদ চালু করার পরিকল্পনা আছে কি না?
-চারটি অনুষদ চালু রয়েছে। প্রকৌশলী ও খাদ্য বিজ্ঞান অনুষদ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে ফুড প্রসেসিং, আইসিটিসহ কয়েকটি ডিগ্রি খোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

ক্যাম্পাসে সহ-শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা কেমন অংশগ্রহণ করছেন?
-ক্যাম্পাসে প্রায় ২৭-২৮ টি সংগঠন রয়েছে। এসব সংগঠনের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। এছাড়া নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও আমাদের শিক্ষার্থীরা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। প্রতিবছর সাংস্কৃতিক সপ্তাহ চলে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে থাকে। এভাবে শিক্ষার্থীরা নানা সহ-শিক্ষা কার্যক্রমে জড়িত রয়েছে।

সেশনজট নিরসনে আপনি বিশেষ কোন উদ্যোগ নিবেন কী?
-বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে শিক্ষক সংকট ছিল। নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা তুচ্ছ কারণে পরীক্ষা পিছাতে আসে। সবাই আন্তরিক হলে আশাকরি আগামীতে সেশনজট থাকবে না। প্রশাসন থেকে আমরা আরো পদক্ষেপ নিচ্ছি।

আবাসিক হল ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে আসন সংকট নিরসনে ব্যবস্থা নিবেন কী?
-ছেলেদের তিনটি, মেয়েদের দুইটি হল আছে। ছেলেদের জন্য ১০ তলা নতুন একটি হলের কাজ শুরু হয়েছে। মেয়েদের জন্যও আরেকটি ১০ তলা হল করা হবে। আর লাইব্রেরি ৬ তলা কমপ্লিট। ফার্নিচার কেনা হবে শিগগিরই। তখন আর কোনো আসন সংকট থাকবে না।

বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?
-মিনি বলধা গার্ডেন বানানো হবে। গ্রিন হাউজ করা হবে। প্রশাসনিক ভবনের সামনে ৬০ ফুটের বঙ্গবন্ধুর একটি মনুমেন্ট সংবলিত স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হবে। কৃষি অনুষদের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং মুক্তমঞ্চ নির্মাণ করা হবে। প্রবেশদ্বারে দুটি অত্যাধুনিক গেট নির্মাণ করা হবে। লাইব্রেরিতে বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপন করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম