সবজির বাজার চড়া হলেও কমেছে মুরগির দাম

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৪ ১৪২৬,   ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

সবজির বাজার চড়া হলেও কমেছে মুরগির দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৩৫ ৩ মে ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

রোজা সামনে রেখে রাজধানীর বাজারগুলোতে শাক-সবজি ও মাছের দাম আগের মতই চড়া রয়েছে। তবে কমেছে সব ধরনের মুরগির দাম কমেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে বয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা এবং সোনালী মুরগির দাম ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এর আগে গত সপ্তাহে ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা কমে। চলতি সপ্তাহে নতুন করে বাড়েনি পেঁয়াজের দাম।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

রামপুরা ও খিলগাঁও অঞ্চলের বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা বয়লার মুরগির কেজি বিক্রি করছেন ১৫০-১৫৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬০-১৬৫ টাকা। গত সপ্তাহে ২১০-২২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া লাল লেয়ার মুরগির দাম কমে ১৮০-১৯০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর সোনালী মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৪০-২৫০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৭০-২৮০ টাকা কেজি।

মুরগির দাম কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে গরু ও খাসির মাংসের দাম। বাজার ভেদে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৩০-৫৫০ টাকা কেজি। আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮৫০ টাকা কেজি।

মুরগির দামের বিষয়ে রামপুরার এক ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিবছরের মার্চ-এপ্রিল মাসে বয়লার মুরগির দাম বেড়ে যায়। এবারও বেড়েছে। তবে এবারের দাম বাড়ার প্রবণতা আগের থেকে বেশি ছিল। এখন দাম কমতে শুরু করেছে। সামনে আরও কমবে। কারণ রোজার সময় বয়লার মুরগির চাহিদা কম থাকে। তিনি আরো বলেন, বাজারে সব থেকে বেশি চলে বয়লার মুরগি। যে কারণে বয়লার মুরগির দাম বাড়া-কমার ওপর অন্য মুরগির দাম নির্ভর করে। এখন বয়লার মুরগির দাম কমার কারণে লেয়ার ও সোনালী মুরগির দামও কমেছে।

আফজাল নামে কারওয়ান বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, রোজার সময় বয়লার মুরগির চাহিদা কম থাকে। ফলে দাম কমে যায়। এ কারণে মুরগির দাম কমছে। রোজায় বয়লার মুরগির দাম কমে ১২০ টাকায় চলে আসতে পারে।

এদিকে টানা দুই সপ্তাহ দাম কমার পর ডিমের দাম কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। শুধু ডিম বিক্রি করেন এমন ব্যবসায়ীরা গত সপ্তাহের মতো ডিমের ডজন বিক্রি করছেন ৮০-৮৫ টাকায়। আর খুচরা বিক্রেতারা প্রতি পিস ডিম বিক্রি করছেন ৭-৮ টাকায়। ডিমের পাশাপাশি অপরিবর্তিত রয়েছে পেঁয়াজের দাম। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা গত সপ্তাহের মত ভালোমানের দেশি পেঁয়াজের পাল্লা (৫ কেজি) বিক্রি করছেন ১২৫-১৩০ টাকায়। আর খুচরা বাজারে ভালোমানের দেশি পেঁয়াজ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকা।

পেঁয়াজ ব্যবসায়ী রুবেল মিয়া বলেন, গত সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম একটু বেড়েছিল। তবে এ সপ্তাহের নতুন করে পেঁয়াজের দাম বাড়েনি। রোজায় পেঁয়াজের দাম খুব বেশি বাড়বে না। কারণ এবার পেঁয়াজের ফলন খুব ভালো হয়েছে। বাজারে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই।

এদিকে বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। বাজার ও মানভেদে কাঁচা পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৫০-৭০ টাকা কেজি। শসা ৫০-৬০, বেগুন ৬০-৭০, পাকা টমেটো ৩০-৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পটল ৪০-৫০, সজনে ডাটা ৬০- ৮০, বরবটি ৬০-৭০, কচুর লতি ৭০-৮০, করলা ৬০-৭০, ধুন্দুল ৭০-৮০, গাজর ৩০-৪০, ঢেঁড়স ৪০-৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারও আগের মতো চড়া রয়েছে। প্রতি কেজি তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকা, পাঙাশ ১৫০-১৮০, রুই ২৮০-৬০০, পাবদা ৫০০-৬০০, টেংরা ৫০০-৮০০, চাপিলা ৬০০ টাকা, চিতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৮০০ টাকা, শিং আকারভেদে সাড়ে তিনশো থেকে ৫শ' টাকা কেজি দরে। বাজারে ইলিশ মাছেরও যোগান ভালো।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস