সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আদ্যোপান্ত

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২০ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৭ ১৪২৬,   ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আদ্যোপান্ত

 প্রকাশিত: ১৩:০৬ ১৮ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ১৩:০৬ ১৮ জুলাই ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের একটি অন্যতম অংশ হল ফেসবুক। বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের কাছে এটি খাওয়া-দাওয়া, ঘুমের মতই অবিচ্ছেদ্য। বর্তমান বিশ্বের সবচাইতে জনপ্রিয় সোশ্যাল সাইট এই ফেসবুক। এই ফেসবুকের বাস্তবরূপ লাভ কি করে হল সেটিই বলব আজ।

২০০৪ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ফেসবুকের জন্ম হয়। হার্ভার্ড বিশেবিদ্যালয়ের ছাত্র মার্ক জুকারবার্গ এবং তার রুমমেট এডুয়ার্ডো সাভেরিন যৌথভাবে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমে কেবল হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই এর সদস্য হতে পারলেও পরবর্তীতে বোস্টনের কিছু কলেজে এবং আরো পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ সকলের জন্য এটি খুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে একটি বৈধ ইমেইল এড্রেস বিশিষ্ট ১৩ বা তদোর্ধ্ব বছর বয়সের যেকোনো ব্যক্তি ফেসবুকের সদস্য হতে পারেন। 

ফেসবুকের পূর্বে যা ছিল, তার নাম হল ফেসম্যশ। মার্ক জুকারবার্গ যখন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন তখন তিনি অর্থাৎ ২০০৩ সালে ফেসম্যাশ তৈরি করেন। তিনি এই ওয়েবসাইটটি তৈরি করেন মূলত হার্ভার্ডের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘হট অর নট’ নামক একটি গেম হিসেবে। এখানে পাশাপাশি দুইজন নারীর ছবি রেখে তুলনা করে মত দেওয়া যেত যে কে হট আর কে না।

জুকারবার্গ ওয়েবসাইটটি লেখার সময় নিম্নের ব্লগ দুটি প্রকাশ করেন,

I'm a little intoxicated, not gonna lie. So what if it's not even 10 pm and it's a Tuesday night? What? The Kirkland dormitory, facebook is open on my desktop and some of these people have pretty horrendiedous facebook pics. I almost want to put some of these faces next to pictures of some farm animals and have people vote on which is more attractive.

— 2:49 pm

Yea, it's on. I'm not exactly sure how the farm animals are going to fit into this whole thing (you can't really ever be sure with farm animals...), but I like the idea of comparing two people together.

— 11:10 am

ফেসম্যাশ অনলাইনে আসার চার ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ৪৫০ দর্শক এবং প্রায় ২২,০০০ ছবির মতামত আকৃষ্ট করে। সাইটটি পরে দ্রুত কয়েকটি ক্যাম্পাসের সার্ভারে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু কিছুদিন পরেই হার্ভার্ড প্রশাসন এটি বন্ধ করে দেয়। কপিরাইট লঙ্ঘন, নিরাপত্তায় হুমকি সৃষ্টি এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের দায়ে মার্কের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং তাকে বহিষ্কার করা হয় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য মামলা থেকে তাকে অব্যহতি দেয়া হয়। তখন মার্ক তার এই প্রজেক্টকে আরো ব্যবহারোপযোগী করার সিদ্ধান্ত নেন এবং একে আর্ট বিষয়ক একটি সোশ্যাল স্টাডি টুল-এ রূপ দেন। অসংখ্য চিত্র তিনি এতে আপলোড করেন এবং চিত্রগুলোর নিচে কমেন্টবক্সে আনুষঙ্গিক মন্তব্য যুক্ত করে তার সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করেন।

২৫শে অক্টোবর, ২০১০ তারিখে রাহুল জাইন নামের একজন উদ্যোক্তা ও ব্যাংকার এই ফেসম্যাশ ওয়েবসাইটটি জনৈক এক ক্রেতার কাছে ৩০,২০০ মার্কিন ডলারে বিক্রি করে দেন।

ফেসবুক তৈরির মূল লক্ষ্য ছিল মৌলিক তথ্য ও ছবি সম্বলিত একটি শিক্ষার্থী ডিরেক্টরি। ২০০৩ সালের দিকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অনলাইন সার্বজনীন শিক্ষার্থী ডিরেক্টরি ছিল না। ২০০৪ সালের জানুয়ারিতে মার্ক জুকারবার্গ একটি নতুন ওয়েবসাইটের কোড লেখার কাজ শুরু করেন যা ‘দ্য ফেসবুক’ নামে পরিচিতি লাভ করে। ঐ বছরই ফেব্রুয়ারির ৪ তারিখে ফেসবুক.কম ডোমেইনে দ্য ফেসবুক চালু হয়। মার্কের উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি সামাজিক সাইট তৈরি করা যা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে অবস্থানরত মানুষকে সংযুক্ত করতে পারবে।

সাইটটি চালু করার মাত্র ছয়দিনের মাথায় হার্ভার্ডেরই তিনজন শিক্ষার্থী- ক্যামেরন উইঙ্কলভস, টেইলর উইঙ্কলভস এবং দিব্য নরেন্দ্র অভিযোগ করেন যে, মার্ক তাদেরকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধোঁকা দিয়েছেন। মার্ক তাদেরকে বলেছিলেন যে তারা একসাথে একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক তৈরি করবেন যার নাম হবে হার্ভার্ডকানেকশন.কম। কিন্তু মার্ক তা না করে তাদের আইডিয়া নকল করে একাই একটি অনুরূপ সাইট প্রতিষ্ঠা করেন। উক্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পত্রপত্রিকা অনুসন্ধান শুরু করে। পরবর্তীতে আদালতে এই অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়।

ফেসবুকের সদস্যপদ প্রাথমিকভাবে শুধু হার্ভার্ডের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রযোজ্য ছিল। প্রথম মাসের মধ্যেই হার্ভার্ডের অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী এই সামাজিক যোগাযোগ সেবার অন্তর্ভুক্ত হয়। শীঘ্রই এই ওয়েবসাইটের উন্নয়ন সাধনের জন্য এডুয়ার্ডো সাভারিনকে ব্যবসায়িক খাতে, ডাস্টিন মেসকোভিটসকে প্রোগ্রামার হিসেবে, এন্ড্রু ম্যাককুলামকে গ্রাফিকস ডিজাইনার হিসেবে এবং ক্রিস হিউগসকে নিয়োজিত করা হয়। ২০০৪ সালের মার্চ মাস নাগাদ ফেসবুক স্ট্যানফোর্ড, কলম্বিয়া ও ইয়েল পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে। ফেসবুকের সম্প্রসারণ আরো ত্বরান্বিত হয় যখন এটি আইভি লিগ এবং বোস্টনের সকল স্কুলে ছড়িয়ে পড়ে।

২০০৪ এর গ্রীষ্মে ফেসবুকের কর্পোরেট যাত্রা আরম্ভ হয়। শন পার্কার, যিনি মার্ক জুকারবার্গকে ফেসবুক সংক্রান্ত পরামর্শ প্রদান করে আসছিলেন, তিনি কোম্পানির প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিযুক্ত হন। মার্ক জুকারবার্গ হন সি.ই.ও। সে বছর জুন মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টো-তে ফেসবুকের প্রধান কার্যালয় স্থাপন করা হয়। ২০০৫ সালে যখন কোম্পানিটি ২,০০,০০০ মার্কিন ডলার ব্যয়ে ‘ফেসবুক’ ডোমেন নামটি ক্রয় করে, তখন থেকে এর নামে ‘দ্য’ বাদ পড়ে যায়। বর্তমানে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ২.৯৩ বিলিয়ন এবং বাংলাদেশে প্রায় ২ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ