সফল অনেকেই ছিলেন স্কুলে অবহেলিত
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=133063 LIMIT 1

ঢাকা, বুধবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ৮ ১৪২৭,   ০৫ সফর ১৪৪২

সফল অনেকেই ছিলেন স্কুলে অবহেলিত

মোস্তাফিজুর রহমান নাঈম, কুয়েট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১৬ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৭:৩০ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

স্কুলে তাদের অন্যচোখে দেখা হতো। যারা পেছনের বেঞ্চে বসতেন। তাদের বলা হতো, তোমরা অমনোযোগী। তোমাদের দিয়ে কিচ্ছু হবে না। পেছনের বেঞ্চে বসে ঘুমাও, তোমাদের ক্যারিয়ার বলে কিচ্ছু থাকবে না।  

কিন্তু পেছনে বসা এসব শিক্ষার্থীরাই পৃথিবীকে দেখিয়েছেন অনেক কিছু। সব যুগান্তকারী আবিষ্কার, উদ্ভাবন ও আইডিয়া নিয়ে এসেছেন তারাই। আজকে তাহলে এসব স্কুলে পেছনের বেঞ্চে বসা এমন কিছু শিক্ষার্থীর গল্প জানা যাক।

আলবার্ট আইনস্টাইন

এই আইনস্টাইন সম্পর্কে এখন সবারই জানা। পড়ালেখায় তার তেমন মনোযোগ ছিলো না। কারণ শিক্ষকদের তার পছন্দ হতো না। তারা ভাবতেন আইনস্টাইনের শেখার কোনো আগ্রহ নেই। অথচ সেই তিনিই পদার্থবিজ্ঞানের সাড়া জাগানো আপেক্ষিক তত্ত্বের জনক। ফটো ইলেক্ট্রিক ইফেক্ট আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯২১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছিলেন।

ভিলহেল্ম কনরাড রন্টগেন

ভিলহেল্ম কনরাড রন্টগেন একজন জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী। তিনি এক্স রে আবিষ্কার করেন। তার নামানুসারে এক্সরেকে রঞ্জন রশ্মিও বলা হয়। এই বিজ্ঞানীকেই স্কুল থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল। কারণ লেখাপড়া বাদ দিয়ে তিনি শিক্ষকদের কার্টুন আঁকতেন। অথচ ১৯০১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছিলেন।

লুই পাস্তুর

স্কুলে ভীষণ খারাপ ছাত্র ছিলেন লুই পাস্তুর। জার্মানির উচ্চ শিক্ষার নিয়মে তিনি হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়েই ভর্তি হতে পারতেন না। কারণ তার ভালো রেজাল্ট ছিল না, কোনোভাবে পাশ করতেন আরকি। ফেল করার কারণে একই ক্লাসে তার কয়েকবার করে পড়তে হয়েছে। কারণ বাড়ি ছেড়ে লেখাপড়া করতে ভাল লাগতো না তার। কিন্তু এই ফেল করা খারাপ ছাত্রটিই পরে টিকা ও সংক্রমক রোগের বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী হন।

বাজে ফলাফলের কারণে স্কুল ছাড়তে হয়েছিল ভিলহেল্ম ভিয়েনকে। ১৯১১ সালে তিনিই জিতে নেন পদার্থ বিজ্ঞানের নোবেল।

টমাস লিন্ডাল

বিখ্যাত রসায়নবিদ টমাস লিন্ডাল। স্কুলের এক শিক্ষক তাকে খুব অপছন্দ করতেন, টমাস লিন্ডালও সেই ব্যাপারটা বুঝতে পারতেন। সেই শিক্ষক টমাস লিনডালকে এক বিষয়ে ফেল করিয়ে দেন। বিষয়টি ছিল রসায়ন। মজার ব্যাপার হলো টমাস লিন্ডালই একমাত্র রসায়নে নোবেল বিজয়ী যে কি না স্কুলে রসায়নে ফেল করেছিল। টমাস লিন্ডাল ২০১৫ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান।

মার্ক জাকারবার্ক

ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সবাই তাকে জানেন। ১২ বছর ড্রপ আউট থাকার পর কিছুদিন আগে হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ডেকে নিয়ে হাতে সার্টিফিকেট ধরিয়ে দিলেন।

সুন্দর পিচাই

তার নাম তো সবারই জানা। তিনি গুগলের চিপ এক্সিকিউটিভ অফিসার। তিনি মাদ্রাজে আইআইটিতে ইলেকক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভর্তির জন্য পর্যাপ্ত মার্ক তার ছিল না। তাই তাকে ভর্তি হতে হয়েছিল খরবপুর আইআইটিতে।

বিল গেটস

বিল গেটস একজন সফল প্রযুক্তিবিদ। বাবা মায়ের ইচ্ছা ছিল তিনি আইনজীবী হবেন। তাই তাকে হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তা আর হলো কই? তিনি হয়েছেন একজন সফল প্রযুক্তিবিদ। কারণ তিনি কম্পিউটারের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন তখন। হাভার্ডের ছোট্ট রুমেই জন্ম নেয় এক মাইক্রোসফ্ট নামের প্রতিষ্ঠান। বিল গেটস তার উচ্চ শিক্ষার সার্টিফিকেট হাতে নেয়ার আগেই বিশ্ববিদ্যায় ছাড়তে হয় কিন্তু তার গড়া সেই ছোট্ট মাইক্রোসফ্ট আজকে তাকে বানিয়েছে ৯২ বিলিয়ন ডলারের মালিক।

এডিসন

এডিসনের নাম অনেকেই শুনেছেন? হ্যা টমাস আলভা এডিসন। তিনি ইলেকট্রিক বাল্বের আবিষ্কারক। এডিসন তখন স্কুলে পড়েন। স্কুলের প্রিন্সিপালের একটা চিঠি নিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে মায়ের কাছে এলো ছোট্ট এডিসন। মাকে খুব আগ্রহ নিয়ে চিঠিটা দিল। মাকে পড়ে শুনাতে বললো চিঠিটা। মা এডিসনকে পড়ে শুনালেন, ‘আপনার সন্তান অত্যন্ত মেধাবী এবং বুদ্ধিমান। আপনার ছেলেকে পড়ানোর মত শিক্ষক এই স্কুলে নেই, তাকে অন্য ভালো কোনো স্কুলে ভর্তি করুন।’

টমাস এডিসন এই কথা শুনে খুবই উৎসাহিত হলো। এডিসনের গ্র্যাজুয়েশন করা হয়নি। কিন্তু ততদিনে ম্যাশ কম্যুউনিকেশন, ইলেট্রিক পাওয়ার জেনারেশন, মোশন ফটোগ্রাফি, রেকর্ডিং আবিষ্কার করে হইচই ফেলে দিয়েছেন। একদিন তার পুরোনো জিনিসগুলো গুছাতে গিয়ে প্রিন্সিপালের দেয়া সেই চিঠিটা খুজে পেল।

এডিসন সেই চিঠিটা খুলে দেখলো। তাতে লেখা ‘আপনার ছেলে পাগল, তাকে স্কুল থেকে বের করে দেয়া হলো।’ চিঠিটা পড়তে পড়তে এডিসনের চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পরতে লাগল।
সেইদিন সেই মা এডিসনকে মিথ্যে না বললে হয়তো আমরা আজকে এডিসনকে পেতাম না, হয়তো পৃথিবী অন্ধকারেই থাকতো।

ছেলেমেয়েদের বিশ্বাস করুন, তাদের বুঝতে শিখুন। বিসিএস ক্যাডার, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বানানোর চক্করে পড়ে একজন এডিসন যেন হারিয়ে না যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম