Alexa গারো মা-মেয়ে হত্যায় সন্দেহের তীর ভাগ্নের দিকে

ঢাকা, রোববার   ২০ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৫ ১৪২৬,   ২১ সফর ১৪৪১

Akash

গারো মা-মেয়ে হত্যায় সন্দেহের তীর ভাগ্নের দিকে

 প্রকাশিত: ২১:৪০ ২১ মার্চ ২০১৮   আপডেট: ২১:৪৭ ২১ মার্চ ২০১৮

রাজধানীর গুলশানের কালাচাঁদপুরে গারো মা বেছথ চিরান (৬৫)ও মেয়ে সুজাত চিরান (৪০)হত্যার পেছনে পুলিশের সন্দেহের তীর নিহত সুজাতের ভাগ্নে সঞ্জীব চিরান ও তার তিন বন্ধুর দিকে।

হত্যকোন্ডের দিন মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে সঞ্জিব ও তার তিন বন্ধু কালাচাদপুরের ক-২৫ নম্বর বাড়িতে যায়।ওই বাড়িতে দুই ঘন্টার মত থেকে তারা বেরিয়ে যায়।তারা চলে যাওয়ার কিছুক্ষন পর সুজাতের মেয়ের স্বামী পিলেস্তা ওই বাসায় যান।তিনি বাইরে থেকে দরজা বন্ধ দেখতে পান।দরজা খুলেই দেখতে পান দু’জনের লাশ।

বুধবার এ ঘটনায় সুজাতের স্বামী আপশীষ মানখিন গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে সঞ্জিব চিরান ও তার তিন বন্ধুকে।

গুলশান থানার পরিদর্শক(তদন্ত) সালাহ্ উদ্দিন বলেন,হত্যাকান্ডের সময় ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে।ধারণা করা হচ্ছে,একাধিক ব্যক্তি এ হত্যাকান্ডে জড়িত।ঘটনাস্থলের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।ওই বাড়ির নিচতলায় থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়েছে।ফুটেজে দেখা গেছে ওই দিন বিকেল ৪টার দিকে সুজাতের বোনের ছেলে সঞ্জিব ও তার তিন বন্ধুকে নিয়ে ওই বাসায় যায়।প্রায় দুই ঘন্টা পর তারা বেরিয়ে যায়।

পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে সুজাতের বড় মেয়ে মায়াবীর স্বামী পিলেস্তা বাসায় গিয়ে বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগানো দেখতে পান।ভেতরে ঢুকে তিনি লাশ দু’টো দেখতে পান।

সুজাতের স্বামী আশীষ মানখিন জানান,সুজাতের বড় বোনের ছেলে সঞ্জিব বেকার। তাদের বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ির মরিয়মনগরে।সঞ্জিব মাঝে মাঝে তার খালার (সুজাত)কাছে টাকা-পয়সা চাইত।এসব থেকেই হয়তো এ ঘটনা হয়ে থাকতে পারে।

এদিকে বুধবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহগুলোর ময়নাতদন্ত হয়েছে।পরে ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাটের জয়রামপুর গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বেছথ চিরান ও সুজাত চিরানের মরদেহ।ওখানেই তাদের সমাহিত করা হবে।

অপরদিকে নিহত সুজাতের মেয়ে মায়াবী চিরান বলেন, আমরা সন্দেহ করছি আমার মা ও নানীর খুনের পেছনে আমার বড় খালার ছেলে সঞ্জিব জড়িত থাকতে পারে।খুনি যারাই হোক তাদের গ্রেফতার করে সাজা দেয়া হোক।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক প্রদীপ কুমার বিশ্বাস বলেন,সুজাতা চিরানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে খুন করা হয়েছে।তার গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ১৪টি ধারালো অস্ত্রের আঘাত পাওয়া গেছে।অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। আর তার মা বেছেথ চিরানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

গুলশান বিভাগের ডিসি মোস্তাক আহমেদ জানান, হত্যা রহস্য বের করতে পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করছে।প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে,পারিবারিক বিরোধেই মা ও মেয়ে হত্যা হতে পারে।জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চালছে বলেও জানান তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসবি/এলকে