সন্তান হত্যা করে হাসপাতালে মা, প্রহর গুনছেন জেলখানার

ঢাকা, শুক্রবার   ০৩ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২০ ১৪২৬,   ০৯ শা'বান ১৪৪১

Akash

সন্তান হত্যা করে হাসপাতালে মা, প্রহর গুনছেন জেলখানার

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:৩৩ ১২ মার্চ ২০২০   আপডেট: ২২:৪০ ১২ মার্চ ২০২০

আত্মহত্যার চেষ্টা করা মা আখতারুন্নেছা পপি ও ইনসেট দুই সন্তান

আত্মহত্যার চেষ্টা করা মা আখতারুন্নেছা পপি ও ইনসেট দুই সন্তান

দুই সন্তানকে গলা কেটে করলেন হত্যা। এরপর আত্মহত্যার জন্য গায়ে লাগিয়েছিলেন আগুন। তবে এ যাত্রায় মৃত্যু হয়নি তার। সন্তানদের হত্যা করে এখন তীব্র অনুশোচনার যন্ত্রণায় ভুগছেন তিনি। আর সুস্থ হলেই যেতে হবে জেলখানায়। এমন সমীকরণ নিয়ে  ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন আখতারুন্নেছা পপি নামের সেই হত্যাকারী।

গত ৭ মার্চ রাজধানীর খিলগাঁওয়ের গোড়ানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন পপি। এ ঘটনায় তার স্বামী মোজাম্মেল হক বিপ্লব বাদী হয়ে স্ত্রীকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন।

পপির পারিবারিক একটি সূত্র জানায়, পপির শারীরিক যন্ত্রণাকেও ছাপিয়ে গেছে তার মানসিক যন্ত্রণা। নিজের কৃতকর্মের অনুশোচনায় প্রতিমুহূর্তে দগ্ধ হচ্ছেন তিনি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন পপি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত। তবে ১৮ শতাংশ পুড়ে যাওয়া পপির সুস্থ হতে এখনো দেড় মাস সময় লাগবে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানা যায়, দিনের পর দিন আর্থিক অস্বচ্ছলতায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পপি দুই সন্তানকে হত্যা করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পুলিশের কাছেও সন্তানদের হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পপি পুলিশকে জানান, তাদের বিবাহিত জীবনের ১৩ বছরের মধ্যে ৯ বছরই তিনি সন্তানদের নিয়ে গোড়ানে বাবা-মা’র সঙ্গে থাকতেন। স্বামী বিপ্লব সবসময়ই মুন্সিগঞ্জে ছিলেন। সেখানে নিজের ভাইয়ের সঙ্গে ইলেকট্রিকের ব্যবসা করতেন।

তার দুই মেয়ে মেহজাবীন আলভি (১২) ও জান্নাতুল ফেরদৌস(৭) পড়াশোনা করতো ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলে। কিন্তু তার স্বামী ঠিকমত সংসারের খরচ দিত না। মাসে সংসার খরচ হিসেবে দিত মাত্র ১১’শ টাকা। এই টাকা দিয়ে সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয় ও সংসার খরচ মেটাতে পারতেন না তিনি। টাকার কথা বললেই তাকে বকাঝকা করতো। সংসার জীবনে তিনি ছিলেন চরম অশান্তিতে। দিনের পর দিন এভাবে চলতে থাকায় একসময় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন পপি। আর এই হতাশা থেকেই তিনি সন্তানদের হত্যা করেন বলে জানান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা খিলগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাহাত খান জানান, পপি এই মামলার একমাত্র আসামি। তিনি নিজে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাকে আরো জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন আছে।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, পপির সুস্থ হতে এক থেকে দেড় মাস সময় লাগবে। এরপর তাকে নিয়ে আদালতে জবানবন্দি দেয়া হবে। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পপি যদিও হত্যার কথা স্বীকার করছে কিন্তু একজন মা এত সহজে নিজ সন্তানদের হত্যা করতে পারে না। অবশ্যই এর পেছনে আরো অনেক কারণ আছে। তদন্তে আমরা সেগুলোই বের করার চেষ্টা করবো।

এদিকে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি পপি মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েছেন। দুই সন্তানকে হত্যা করে এখন তিনি তীব্র অনুশোচনার যন্ত্রণায় ভুগছেন। স্বজনরা রাত-দিন তার পাশে থেকে চেষ্টা করছেন সেইসব দুঃসহ স্মৃতি আড়াল করতে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসসি/আরএইচ/আরএ