Alexa সন্তান জন্মের পরই স্বামীর ঘরে প্রবেশের অনুমতি মেলে!

ঢাকা, বুধবার   ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ৬ ১৪২৬,   ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

ডগন জাতির আজব রীতি!

সন্তান জন্মের পরই স্বামীর ঘরে প্রবেশের অনুমতি মেলে!

কানিছ সুলতানা কেয়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:১০ ২৮ জানুয়ারি ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি স্থান। যেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবার চোখকে ধাঁধিয়ে দেয়! সেটি মূলত ডগন রাজ্যের অন্তর্গত। কঙ্গোর মালি এলাকার বান্দিয়াগারার পাহাড়ি ঢালে ডগন গোত্রের বসবাস। 

এরা প্রাচীন মিশর থেকে আগত একটি জাতি। যাদের রয়েছে স্বতন্ত্র ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতি। ডগনরা এতোটাই অনন্য জাতিগোষ্ঠী যে, বান্দিয়াগারা অঞ্চলটিকে ডগন রাজ্য বলা হয়। তাদের রীতিনীতি বেশ অদ্ভুত ধাঁচের। যা সবাইকে অবাক করে তুলে।

গ্রীষ্মের মর্মান্তিক তাপদাহ এখানকার নদীগুলোর প্রাণ শুষে নেয়। শুধুমাত্র কিছু বিচ্ছিন্ন ডোবা থেকে যায়, যেগুলো থাকে মাছে পরিপূর্ণ। ডগনরা এ সময় মরু-মাছ শিকারে মেতে ওঠে। এসময় অ্যান্টাগো লেকে হাজার হাজার প্রতিযোগীর আগমন ঘটে। একটি মাছ ধরাও অনেক গৌরবের। সবাই যে কোনো মূল্যে মাছ ধরতে চায়, ফলে প্রতিযোগিতা এখানে আকাশচুম্বী।

নিজেদের সংস্কৃতি নিয়ে মগ্ন তারাসে সময় লেকের পাড় খুব দ্রুতই পূর্ণ হয়ে যায়। অন্য যে কোনো দিনে, এই পানিতে মাছ শিকার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এ রীতিনীতির মধ্য দিয়েই সেখানকার বয়স্করা একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য ভাণ্ডার আগলে রাখেন চরম খরা মৌসুমের জন্য। এছাড়াও অ্যান্টাগো লেকের রয়েছে এক অলিখিত আইন। অনুষ্ঠানের প্রধান লেকের খারাপ আত্মাদের দূরে সরিয়ে দেয়ার জন্য প্রার্থনা করেন।

তিনি একটি মাছের খাঁচা মাথায় পরিধান করেন। বিশ্বাস করা হয় মাছের খাঁচা কথিত মন্ত্রগুলোকে সুরক্ষিত রাখে। প্রার্থনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পানিতে নামা নিষেধ। এরপর মন্ত্র পাঠ করা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একযোগে সবাই লেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুহূর্তেই জায়গাটি মাছ শিকারের উৎসব কেন্দ্রে পরিণত হয়। 

ডগনরা তাদের ঝুড়ি পানিতে চেপে ধরে মাছকে বন্দির চেষ্টা করেন। এখানে কারোরই নম্রতা দেখানোর মতো সময় নেই। লেকে মাত্র ১৫ মিনিট এ উৎসব থাকে। ১৫ মিনিট পর সব গোলযোগ উধাও হয়ে যায়। মাছের পরিমাণ অল্প হলেও বছরের এই সময়ে এগুলো অমূল্য সম্পদ। এজন্যই হয়তো বয়োজ্যেষ্ঠ ডগনরা রীতিনীতির অন্তরালে এই লেককে অক্ষত রাখেন। 

পাহাড়ের গায়ে বসবাস তাদেরএছাড়াও এ জাতির রয়েছে নানা অদ্ভুত নিয়ম- 

ডগন পুরুষদের তিন বছর বয়সের মধ্যেই খতনা করান হয়। নতুন খতনা করা পুরুষদের প্রক্রিয়া শেষে এক মাস পর্যন্ত তারা নগ্ন হয়ে ঘুরে বেড়ায়। যাতে বয়সের দিক থেকে তাদের অর্জন উপজাতির দ্বারা প্রশংসিত হতে পারে। এই প্রথাটি প্রজন্ম ধরে চলে আসছে। আর এটি করা হয় শীতকালে। 

একবার ছেলের খতনা হওয়ার পরে, সে যুবক বয়সে পরিণত হয়। এরপর সে তার বাবার বাড়ি থেকে চলে যায়। তার বয়সী সমস্ত পুরুষই বিবাহ ও সন্তান না হওয়া পর্যন্ত দ্বীপে একসঙ্গে থাকেন। তারা বেশ কয়েকটি আফ্রিকান নৃগোষ্ঠীর মধ্যে একটি যারা নারী খতনাও অনুশীলন করেন। ডগন জাতির মধ্যে বহু বিবাহের রীতি দেখা যায়। ডগন পুরুষেরা বহু বিবাহ করতে পারে।

অত্যাধিক সুন্দর তাদের অঞ্চলটিতবে তাদের স্ত্রীরা আলাদা বাড়িতে বসবাস করে এবং প্রথম স্ত্রী পরিবারে উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত থাকে। সেখানকার নারীরা তাদের প্রথম সন্তান জন্মের পরই তাদের স্বামীর ঘরে থাকতে পারে। এমনকি তারা স্বামীর ঘরে যাবার আগেই তাদের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদে যেতে পারেন। তাদের বিবাহ বিচ্ছেদে পুরো গ্রামের মানুষের উপস্থিত থাকতে হয়। নারীরা বিবাহ বিচ্ছেদের পর প্রথম সন্তান সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন। আর বাকিদের তার স্বামীর কাছে রেখে যেতে হয়। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস