সন্তানের সঙ্গে রাস্তাতেই জন্মদিনের কেক কাটলেন চিকিৎসক মা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০২ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪২৭,   ০৯ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

সন্তানের সঙ্গে রাস্তাতেই জন্মদিনের কেক কাটলেন চিকিৎসক মা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৪৬ ২২ মে ২০২০   আপডেট: ১৩:০৩ ২২ মে ২০২০

ছবিঃ সংগৃহীত

ছবিঃ সংগৃহীত

রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে একটি গাড়ি। আর তার পাশেই জন্মদিনের কেক হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন চিকিৎসক সাবরিনা শাহরিন। এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে থেকেই তিনি নিজের জন্মদিনের কেকটি কাটলেন। সামনেই গাড়ির ভেতরে জানালার গ্লাসে একমাত্র শিশু সন্তান নিস্বর্গের চোখ। কেক কাটতে কাটতে মা ও সন্তান উভয়ের চোখ গড়িয়ে পানি পড়ছিলো। কেউ কাউকেই জড়িয়ে ধরতে পারছিলেন না। গাড়ির গ্লাস মা আর ছেলের মাঝে প্রতিবন্ধক হিসেবে থেকে যায়।

বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে হোটেল লা ভিঞ্চির সামনের রাস্তায় দেখা যায় এই অমলীন দৃশ্য।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেফরোলজি বিভাগের চিকিৎসক সাবরিনা শাহরিন। সম্প্রতি হাসপাতালটিতে চালু হওয়া করোনা ইউনিটে তিনি গত ১৬ মে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। এর ফলে নিয়ম মেনে বাসায় যেতে পারছেন না। হাসপাতালের দায়িত্ব পালন শেষে লা ভিঞ্চি হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হচ্ছে তাকে। বুধবার তার জন্মদিনে তার ১১ বছরের সন্তান নিস্বর্গ বাসা থেকেই মায়ের জন্য কেক তৈরি করে এনেছিলো ওই হোটেলে।

একমাত্র সন্তানের ডাকে চিকিৎসক মা হোটেল কক্ষ থেকে নিচে আসলেও তার মুখে মাস্ক। গাড়ির জানালার ফাঁকা দিয়ে তিনি কেকটি নিলেও অজানা আতঙ্কে আদরের সন্তানকে কোলে তুলে নিতে পারেননি। তাছাড়া দীর্ঘদিন পর মায়ের দেখা পাওয়ার পর সেই একই আতঙ্কে সন্তানও মায়ের মুখে কেক তুলে দিতে পারেনি।

নিস্বর্গের বাবা তৌহিদ মুন্সীও চিকিৎসক। তিনি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সহকারী রেজিস্টার। বাবার সাথেই মায়ের জন্মদিনের কেক নিয়ে এসেছিলো নিসর্গ।

তৌহিদ মুন্সী বলেন, করোনা ইউনিটে দায়িত্বের কারণে নিয়ম অনুযায়ী স্ত্রী বাসায় ফিরতে পারছে না। তিনি নিজেও সারাদিন হাসপাতালে দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফিরে সন্তানের কাছে যেতে ভয়ে পান। ছেলেটা অনেকটা একা হয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, সন্তান তার মায়ের জন্মদিনটার কথা ভুলেনি। তাই বুধবার হাসপাতালের দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফিরতেই মায়ের কাছে কেক নিয়ে যাওয়ার বায়না ধরে ছেলে।

কোনো বেকারি খোলা না পেয়ে বাপ-বেটা বাসাতেই লেগে যান কেক তৈরির কাজে। শেষ পর্যন্ত কেকের মতো কিছু একটা তৈরি করে ইফতারের পর ছেলেকে নিয়ে চলে যান স্ত্রীর হোটেলের সামনে। শেষ পর্যন্ত স্ত্রী সেই কেক কাটলেও বাস্তবতার কারণে কেউ কারো মুখে তুলে দিতে পারেননি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ