Alexa ‘সনদ’ বিক্রি করে কোটি টাকার মালিক, অবশেষে ধরা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২০ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৫ ১৪২৬,   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

‘সনদ’ বিক্রি করে কোটি টাকার মালিক, অবশেষে ধরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৩১ ১৪ জুলাই ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার নুরুল ইসলাম ও আকলিমা খাতুন দম্পতি। ডিপ্লোমা কোর্সের ভুয়া ‘সনদ’ বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান। অবশেষে ধরা পড়লেন এই দম্পতি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তে গিয়ে ভুয়া ‘সনদ’ বিক্রি করে প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া এই দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।

রোববার ঢাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিআইডি কর্মকর্তারা। সিআইডির পরিদর্শক ইব্রাহিম হোসেন জানান, নুরুল ইসলামসহ কয়েকজনের বিভিন্ন ব্যাংকের অস্বাভাবিক লেনদেনের বিষয়টি গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) নজরে আসে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অর্থের উৎস যাচাই করতে গিয়ে নুরুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী সম্পর্কে বেশ চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়।

এই দম্পতি বগুড়া শহরে ভাড়া নেয়া একটি ভবনের মাত্র দুটি ফ্লোরে ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। অনুমোদিত এসব প্রতিষ্ঠানের আড়ালে কৌশলে অনুনোমোদিত ‘চারুকলা ডিপ্লোমা কোর্স’ এবং ‘গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান ডিপ্লোমা কোর্স’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠান খুলে শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়ে সার্টিফিকেট দেয়ার ব্যবসা শুরু করে।

তিনি আরো বলেন, এই সনদ নিলে স্কুলে চাকরি পাওয়া যাবে বলে নিশ্চয়তা দিতেন নুরুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী। আর এজন্য প্রতি সার্টিফিকেট থেকে তারা এক লাখ টাকা নিতেন। সরল বিশ্বাসে গ্রামের ছেলে-মেয়েরা সেখানে গিয়ে টাকা দিয়ে সার্টিফিকেট কিনে প্রতারিত হলেও কোনো কিছু বলার সাহস ছিল না।

তদন্তকালে প্রাথমিকভাবে চারুকলা ডিপ্লোমা কোর্সের ৪৩৬জন শিক্ষার্থীর তালিকা পাওয়া যায় জানিয়ে এই সিআইডি কর্মকর্তা আরো বলেন, এসব শিক্ষার্থী ছাড়াও আরো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতারণা করে ৭ কোটি ৩১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা নিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকের ২৪টি একাউন্টে জমা করে এই দম্পতি। শুধু নুরুল ইসলাম এবং তার স্ত্রীর নামে নয়, তার দুই সন্তান এবং শ্যালিকার নামেও একাউন্ট খুলে এসব টাকা জমা করা হয়েছিল। এরইমধ্যে তাদের সব ব্যাংক একাউন্ট আদালতের আদেশের ভিত্তিতে জব্দ করা হয়েছে।

পরিদর্শক ইব্রাহিম বলেন, প্রায় এক বছর গোপন তদন্ত করে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর রোববার বগুড়া সদর থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়। এরপরেই ঢাকায় অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের গ্রেফতার করা হয়।

মানিলন্ডারিং আইনের এই মামলা ছাড়াও তাদের ‍বিরুদ্ধে এর আগে অনুমোদন ছাড়া প্রতিষ্ঠান চালানোর অভিযোগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মামলা করেছে। এই দম্পতিকে বগুড়ায় নিয়ে সোমবার আদালতে তুলে রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হবে বলে জানান সিআইডির এই কর্মকর্তা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস

Best Electronics
Best Electronics