সতর্কতা সংকেতগুলোর মানে কী?

ঢাকা, রোববার   ১৯ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪২৬,   ১৪ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

সতর্কতা সংকেতগুলোর মানে কী?

আঁখি আক্তার ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:০৪ ২ মে ২০১৯   আপডেট: ১৫:৫৪ ২ মে ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ঝড়ে বাতাস প্রবল বেগে ঘুরতে ঘুরতে ছুটে চলার নামই ঘূর্ণিঝড়। ঘূর্ণিঝড়ের ঘূর্ণন উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে হয়ে থাকে। পৃথিবীতে গড়ে প্রতি বছর প্রায় ৮০ টি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। এর অধিকাংশই সমুদ্রে মিলিয়ে যায়, কিন্তু যে অল্প সংখ্যক উপকূলে আঘাত হানে তা অনেক সময় ভয়াবহ ক্ষতি সাধন করে। ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানলে যদিও দুর্যোগের সৃষ্টি হয়, কিন্তু এটি আবহাওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা পৃথিবীতে তাপের ভারসাম্য রক্ষা করে। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক ঘূর্ণিঝড়ের কোন সংকেতের কি অর্থ-

১ নং দূরবর্তী সতর্ক সংকেতের অর্থ বঙ্গোপসাগরের কোনো একটা অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া বইছে এবং সেখানে ঝড় সৃষ্টি হতে পারে। এটি বোঝাতে একটি লাল পতাকা বাঁধা হয়। 

২ নং দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত ধারা সমুদ্রে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছে বোঝানো হয়। 

৩ নং স্থানীয় সতর্ক সংকেতের অর্থ বন্দর দমকা হাওয়ার সম্মুখীন। এটি বোঝাতে দুইটি লাল পতাকা বাঁধা হয়। 

৪ নং হুঁশিয়ারি সংকেত ধারা বোঝানো হয়েছে বন্দর ঝড়ের সম্মুখীন হচ্ছে, তবে বিপদের আশঙ্কা এমন নয় যে চরম নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৫ নং বিপদ সংকেতের অর্থ হচ্ছে অল্প বা মাঝারী ধরনের ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বন্দরের আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ থাকবে এবং ঝড়টি চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষিণ দিক দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে। তবে মংলা বন্দরের বেলায় পূর্ব দিক দিয়ে অতিক্রম করতে পারে। 

৬ নং বিপদ সংকেতের অর্থ হচ্ছে অল্প বা মাঝারী ধরনের ঝড় হবে এবং আবহাওয়া দুযোগপূর্ণ থাকবে। ঝড়টি চট্টগ্রাম বন্দরের উত্তর দিক দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।এবং মংলা বন্দরের বেলায় পশ্চিম দিক দিয়ে অতিক্রম করতে পারে।

৭ নং বিপদ সংকেতের অর্থ অল্প অথবা মাঝারী ধরনের ঘূর্ণিঝড় হবে এবং এজন্য আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ থাকবে। ঘূর্ণিঝড়টি সমুদ্রবন্দরের খুব কাছ দিয়ে অথবা উপর দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এক্ষেত্রে তিনটি লাল পতাকা বাঁধা হবে। 

৮ নং মহাবিপদ সংকেত ধারা বোঝায় যে প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড় হবে এবং বন্দরের আবহাওয়া খুবই দুর্যোগপূর্ণ থাকবে। ঝড়টি চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষিণ দিক দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে। মংলা বন্দরের বেলায় পূর্ব দিক দিয়ে অতিক্রম করতে পারে।

৯ নং মহাবিপদ সংকেতের অর্থ প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বন্দরের আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ থাকবে। ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম বন্দরের উত্তর দিক দিয়ে উপকূল অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। মংলা বন্দরের বেলায় পশ্চিম দিক দিয়ে অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে।

১০ নং মহাবিপদ সংকেতের অর্থ প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বন্দরের আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ থাকবে এবং ঘূর্ণিঝড়টির বন্দরের খুব কাছ দিয়ে অথবা উপর দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে। 

১১ নং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার সংকেত বোঝাতে ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সাথে সমস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে এবং স্থানীয় অধিকর্তার বিবেচনায় চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।  

নদীবন্দরের ক্ষেত্রে ৪টি সংকেত   
১নং নৌ সতর্কতা সংকেত বোঝাতে বন্দর এলাকা ক্ষণস্থায়ী ঝড়ো আবহাওয়ার কবলে নিপতিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কি.মি গতিবেগের কালবৈশাখীর ক্ষেত্রেও এই সংকেত দেখানো হয়। এই সংকেত আবহাওয়ার চলতি অবস্থার উপর সতর্ক নজর রাখারও তাগিদ দেয়।

২নং নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত ধারা বোঝায়, বন্দর এলাকা নিম্নচাপের সমতূল্য তীব্রতার একটি ঝড়, যার গতিবেগ ঘণ্টায় অনুর্ধ্ব ৬১ কি.মি বা একটি কালবৈশাখী ঝড়, যার বাতাসের গতিবেগ ৬১ কি.মি বা তদুর্ধ্ব। নৌযান এদের যে কোনটির কবলে পরার সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে ৬৫ ফুট বা তার কম দৈর্ঘ বিশিষ্ট নৌযানকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে।    

৩নং নৌ বিপদ সংকেত অর্থ বন্দর এলাকা ঝড়ে কবলিত। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ একটানা ৬২-৮৮ কি.মি পর্যন্ত গতিবেগের একটি সামুদ্রিক ঝড় সহসাই বন্দর এলাকায় আঘাত হানতে পারে। সকল নৌযানকে অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে।

৪নং নৌ বিপদ সংকেত অর্থ বন্দর এলাকা একটি প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার সামুদ্রিক ঝড়ে কবলিত এবং সহসাই বন্দর এলাকায় আঘাত হানবে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি বা তদুর্ধ। সকল প্রকার নৌযানকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ/জেএমএস 

Best Electronics