সজীব বিল্ডার্সের মালিক হত্যার রহস্য উদঘাটন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০১ অক্টোবর ২০২০,   আশ্বিন ১৭ ১৪২৭,   ১৪ সফর ১৪৪২

সজীব বিল্ডার্সের মালিক হত্যার রহস্য উদঘাটন

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:২৪ ৯ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ২০:৫৩ ৯ আগস্ট ২০২০

সজীব বিল্ডার্সের মালিক আবুল খায়ের

সজীব বিল্ডার্সের মালিক আবুল খায়ের

কনস্ট্রাকশন কোম্পানি সজীব বিল্ডার্সের মালিক আবুল খায়ের হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার স্ত্রীর বড় ভাই মূল অভিযুক্ত মো. মিলনকে গতকাল রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মিলন ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা আদালতে স্বীকারও করেছেন।

রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গুলশান বিভাগের ডিসি সুদীপ কুমার চক্রবর্তী তার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

হত্যার নেপথ্য কারণ সম্পর্কে ডিসি সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, নিহত আবুল খায়ের ও মিলন দুজনই নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে তাদের কর্মজীবন শুরু করেন। কিন্তু এক সময় আবুল খায়ের নিজেই একটি কন্সট্রাকশন কোম্পানির মালিক হন। কিন্তু মিলন রয়ে যায় সেই শ্রমিকই। তাদের দুজনের মধ্যে এতোই ভালো সম্পর্ক ছিল যে মিলন তার বোন রুপালীর সঙ্গে আবুল খায়েরের বিয়েও দেন।

খায়ের তার কর্মজীবনে এগিয়ে যায়। অন্যদিকে মিলন সজীবের অধীনেই রড শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে আবুল খায়েরকে ‌বসও ডাকতে হতো মিলনকে। এসবের মধ্যে মিলন তার মজুরি বাবদ খায়েরের কাছে আট লাখ টাকা পায় বলে দাবি করে, যা সে দিচ্ছিল না। এছাড়া খায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণের কন্ট্রাক্ট নিলেও তার লভ্যাংশ দিতো না মিলনকে। এই সব কিছু নিয়ে মিলন খুবই ক্ষুব্ধ ছিল আবুল খায়েরের ওপর।

সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, এ রকম ক্ষোভ থেকে গত বৃহস্পতিবার আবুল খায়েরকে ফোনে বসুন্ধরায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে ডেকে নেয় মিলন। সেখানে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মিলন প্রথমে লোহার রড দিয়ে এবং পরে কাঠ দিয়ে খায়েরকে আঘাত করে সেখান থেকে চলে যায়। পরদিন শুক্রবার ওই ভবন থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শনিবার এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে খাদিজা আক্তার স্বর্ণা বাদী হয়ে ভাটারা থানায় মামলা করেন।

প্রাথমিকভাবে এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে মিলন একাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে উল্লেখ করে ডিসি আরো জানান, তবে এটা পূর্বপরিকল্পিত ছিল না। হিট অব দ্য মোমেন্টে (মেজাজ হারিয়ে) এ হত্যার ঘটনাটি ঘটে। মিলন আদালতে তার দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। খুব শিগগিরিই এ মামলার চার্জশিট দেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জাআ/আরএইচ