.ঢাকা, শনিবার   ২৩ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৯ ১৪২৫,   ১৬ রজব ১৪৪০

সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন চাইবেন সুজাতা

বিনোদন প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ২১:৪৩ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ২১:৪৫ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন অভিনেত্রী সুজাতা।

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে মাইলফলক সিনেমা রূপবান-এ বারো বছর বয়সী নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করে তন্দ্রা মজুমদার নামের এক কিশোরী। পরিচালক সালাহউদ্দিন এই তন্দ্রা মজুমদারের নাম রাখেন সুজাতা। আজও যিনি ‘রূপবান’ হয়েই আছেন দর্শক হৃদয়ে। 

এ অভিনেত্রী প্রায় জীবনসায়াহ্নে পৌঁছে গেছেন। মৃত্যুর আগে বাকিটা জীবন দেশ-জাতির কল্যাণে কাজ করে যেতে চান জীবন্ত এ কিংবদন্তি। সেলক্ষ্যে আওয়ামী লীগের হয়ে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চাইবেন তিনি। 

এ খবর সোমবার রাতে ডেইলি বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন সুজাতা নিজেই। তিনি বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর দেশপ্রেমের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত। একাত্তরের উত্তাল সময়ে আমাদের হাটখোলার বাড়িতে ছিল চলচ্চিত্র শিল্পী-গুণীজনদের পরম আশ্রয়স্থল। সেই কারণে পাকবাহিনীর রোষানলে পড়ি আমরা। রাতের আঁধারে আজিমকে (সুজাতার স্বামী) জোরপূর্বক ক্যান্টনমেন্টে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। মিলিটারি জেরার নামে আজিমের ওপর চলে অকথ্য নিপীড়ন-নির্যাতন। একাত্তরে বন্দীদশা থেকে সাময়িক মুক্তি পেলেও শেষপর্যন্ত জীবন দিয়ে অবর্ণনীয় সেই নির্যাতনের চরম মাশুল দিয়ে গেছেন আজিম। তার ইচ্ছা ছিল রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার। তার সেই ইচ্ছা পূরণ করতেই এবার আমি মনোনয়ন চাইবো। 

তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করা এ অভিনেত্রী বলেন, আজিম সাহেবের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ভালো সম্পর্ক ছিল। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেটা ভালো করে জানেন। আর তিনি আমাকে খুব ভালোবাসেন। দেখা হলেই তিনি বলেন, এই যে আমাদের ‘রূপবান কন্যা’। আর বিগত দিনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের সঙ্গেই যুক্ত ছিলাম। কাদের সাহেব, তারানা হালিমদের সঙ্গে বিভিন্ন সভা সমাবেশে অংশ নিতাম। আমার বয়স হয়েছে জীবনের শেষ ইচ্ছা এ দেশের মানুষের জন্য কাজ করা। আমি সেই ইচ্ছা থেকেই এবার মনোনয়ন চাইবো। আমার বিশ্বাস জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেবেন না। 

সুজাতা অভিনয়ের বাইরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত আছেন সুজাতা। আওয়ামী সাংস্কৃতিক জোট ছাড়াও বঙ্গবন্ধু শিল্পী ঐক্য জোট, শিল্পী সংঘ, শিল্পী সমিতিসহ পরিচালক সমিতি, প্রযোজক সমিতির মতো নানান পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত রয়েছেন।

এই অভিনেত্রী ১৯৬৪ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত প্রায় ৭০টি ছবিতে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেছেন। সব মিলিয়ে তিনশ’ ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় জুড়ে সুজাতার অভিনয় ক্যারিয়ার। সুজাতা অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের তালিকায় রয়েছে ‘রূপবান’, ‘ডাকবাবু’, ‘জরিনা সুন্দরী’, ‘অপরাজেয়’, ‘আগুন নিয়ে খেলা’, ‘কাঞ্চনমালা’, ‘আলিবাবা’, ‘বেঈমান’, ‘অনেক প্রেম অনেক জ্বালা’, ‘প্রতিনিধি’ ইত্যাদি। ১৯৭৭ সালে নায়িকা হিসেবে সর্বশেষ রহিম নেওয়াজ পরিচালিত ‘রাতের কলি’ চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন।

সুজাতা পরিচালিত একমাত্র চলচ্চিত্র ‘অর্পণ’। সুজাতা-আজিমের নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থাগুলো হচ্ছে- ‘সুজাতা প্রোডাকশন্স’, ‘এস এ ফিল্মস’ ও ‘সুফল কথাচিত্র’। এ তিনটি প্রযোজনা সংস্থার ব্যানারে নির্মিত হয়েছে ‘চেনা অচেনা’, ‘টাকার খেলা’, ‘প্রতিনিধি’, ‘অর্পণ’, ‘রূপবানের রূপকথা’, ‘বদলা’, ‘রং বেরং’, ‘এখানে আকাশ নীল’ ইত্যাদি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এনএ/এসআই