Alexa সংরক্ষণ সংকটে শুঁটকি, শত কোটি টাকা লোকসানের ঝুঁকি

ঢাকা, শনিবার   ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৩০ ১৪২৬,   ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

সংরক্ষণ সংকটে শুঁটকি, শত কোটি টাকা লোকসানের ঝুঁকি

এম.এম আরিফুল ইসলাম, নাটোর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২৮ ২ ডিসেম্বর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মৎস্য ভাণ্ডার খ্যাত দেশের সর্ববৃহৎ বিল চলনবিলে প্রতি বছর প্রায় কয়েকশ কোটি টাকার শুটকি উৎপাদন হয়। কিন্তু উৎপাদিত শুটকি সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর এই অঞ্চলে কয়েকশ কোটি টাকার শুঁটকি মাছ নষ্ট হয়। ফলে প্রতিবছর ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় মৎস্যজীবি ও শুটকি উৎপাদনকারীরা।

নাটোরের বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর ও সিংড়া উপজেলা, পাবনার চাটমোহর,  সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়ায় বৃহৎ জলাভূমি অঞ্চল নিয়ে চলনবিল। ভৌগোলিক কারণেই এ অঞ্চলে ব্যাপক হারে মৎস্যজীবীদের বসতি গড়ে উঠেছে। তারা সারাবছর এসব এলাকার জলাশয় থেকে মৎস্য শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে।

মৎস্যজীবি ও শুঁটকি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতায় এ অঞ্চলের মৎস্য রক্ষণাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেনি। এ অঞ্চলের নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর-ডোবা ও জলাশয় প্রভাবশালী ও মৎস্যজীবীদের দখলে চলে গেছে। 

চলনবিলে এখন চাহিদার তুলনায় অনেক কম মাছ উৎপাদন হলেও প্রয়োজনীয় চাহিদা মিটিয়ে উদ্ধৃত্ত মাছ রোদে শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হয়। পুটি, টেংরা, কাটা বাতাসি ও চাঁদা মাছ এ ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহার হয়। এজন্য এ অঞ্চলের বড় জলাশয়ের ধারে গড়ে উঠেছে শুঁটকি তৈরির শতাধিক চাতাল। 

স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানায়, উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাবে এ শুঁটকি মাছ খুব একটা স্বাস্থ্যসম্মতভাবে সংরক্ষণ করা হয় না। স্বাদে ও পুষ্টিমানের গুণ বিচারে বাজারে শুটকি মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বর্ষা ও শীত মৌসুমে শুঁটকির উৎপাদন বেশি হয়। এ সময় বাজারে প্রচুর পরিমাণে শুঁটকি মাছ সরবরাহ হওয়ায় দাম কম থাকে। মাছ সংরক্ষণ করা হলে বছরের অন্যান্য সময় এর চাহিদার সঙ্গে সঙ্গে দামও বেড়ে যায়। 

কিন্তু সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের উন্নত ব্যবস্থা এ অঞ্চলের কোথাও না থাকায় পুরনো পদ্ধতিতে খোলা মাঠে রোদে শুকিয়ে এরা কিছুটা সংরক্ষণ করতে পারলেও বেশির ভাগ শুঁটকি পচে নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু যদি এ অঞ্চলে উৎপাদিত এই শুঁটকি মাছ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা সরকারিভাবে থাকতো তাহলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম হতো। 

চলনবিলের মহিষলুটি এলাকার মৎস্যজীবী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, প্রতিবছর অনেক টাকার শুঁটকি নষ্ট হয়। এ কারণে তারা প্রতিবছর বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হন। তাই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এ অঞ্চলের শুঁটকি সংরক্ষণাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য তারা জোর দাবি জানিয়েছেন। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো জাহাঙ্গীর আলম জানান, শুটকি তেমন বেশি নষ্ট হয় না। উৎপাদনের পরপরই এ অঞ্চল থেকে শুটকি রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যায়। মৎস্যজীবী ও শুটকি উৎপাদনকারীদের ঘরে শুটকি বেশি দিন রাখা হয় না। তৈরির সময় লবণ ছাড়া অন্য কোনো মেডিসিনও মেশানো হয় না ফলে এ শুটকি স্বাস্থ্যসম্মত।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস