Alexa সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের ৩০ সদস্য গ্রেফতার

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ১৪ ১৪২৬,   ০৩ রজব ১৪৪১

Akash

সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের ৩০ সদস্য গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৩৫ ২২ জানুয়ারি ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া পেশাদার সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ৩০ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। 

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এলাকা থেকে মঙ্গলবার তাদের গ্রেফতার করে র‌্যাব-৪। তারা মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) পদ্ধতিতে প্রতারাণা করছে বলে জানায় র‌্যাব।

র‌্যাব-৪ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে উত্তরা পশ্চিম এলাকায় অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ৩০ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন নথিপত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরো জানান, গ্রেফতার আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে, দীর্ঘদিন যাবত তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় অফিস খুলে প্রতারণার করছে। ওই সব আঞ্চলিক অফিসে বিভিন্ন পদ সৃষ্টি করে লোক নিয়োগ দেয় তারা। চক্রের মাঠ পর্যায়ের সদস্যরা নিজেদের ডিস্ট্রিবিউটার ও মার্কেটিং অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন লোভনীয় অফার দিয়ে বেকার যুবক ও তরুণ চাকরি প্রার্থীদের সংগ্রহ করে। এসব চাকরি প্রার্থীদের বলা হয় ১ মাসের প্রশিক্ষণ শেষে চাকরিতে যোগ দিতে পারবে।

পরে তাদেরকে পাঠানো হয় মৌখিক পরীক্ষার জন্য। তথাকথিত পরীক্ষার পর চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেয় প্রতারক চক্রের জোনাল ম্যানেজাররা। এ চক্রের ভুয়া ওইসব অফিসের প্রধান কার্যালয় রয়েছে। চেয়ারম্যান, জিএম ও এজিএমসহ নানান পদে কর্মকর্তা  রয়েছে। মৌখিক পরীক্ষার পর নেয়া টাকা প্রধান অফিসের এজিএম ও জিএমের মাধ্যমে সংগ্রহ করে চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়। 

র‌্যাব আরো জানায়, চাকরিপ্রার্থিদের প্রশিক্ষণের জন্য কথিত অন্য জায়গায় পাঠিয়ে দেয়। চেয়রম্যান চাকরি প্রার্থীদের প্রশিক্ষণে কীভাবে জনবল বৃদ্ধির মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হবে তার প্রেরণা দিয়ে থাকে। একপর্যায়ে প্রার্থীরা বুঝতে পারে তারা প্রতারিত হয়েছে। প্রতারিতরা তাদের দেয়া টাকা ফেরত চাইলে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং তাদের মাধ্যমে নতুন সদস্য সংগ্রহের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। পরে রাতারাতি প্রতারক চক্র অফিস গুটিয়ে পালিয়ে যায়।

অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে ২০৩ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রতারকচক্রটি ৫০ হাজার ৮০০ টাকা করে ১ কোটি ৩ লাখ ১২ হাজার ৪০০ টাকা আত্মসাৎ করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই