Alexa শ্রমিক সংকটে চিন্তিত কৃষকরা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২২ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৬ ১৪২৬,   ২২ সফর ১৪৪১

Akash

শ্রমিক সংকটে চিন্তিত কৃষকরা

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৩৪ ১৪ মে ২০১৯   আপডেট: ১৩:৩৭ ১৪ মে ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ধান কাটার জন্য মিলছে না শ্রমিক তাই বোরো চাষে বাম্পার ফলন হলেও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় নতুন ধানের স্বপ্নে আনন্দের পরিবর্তে বিষাদ ছেয়ে আছে কৃষকের মুখে। এ উপজেলায় চরম শ্রমিক সংকটের কারণে সময় মত ধান কাটতে পারছেন না অনেক কৃষক। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্থানীয় কৃষকদের।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী, উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৫৯০ হেক্টর। চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ৬৬১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। যা গতবারের তুলনা ২০ হেক্টর বেশি। এবার ফলনও হয়েছে বাম্পার। হেক্টর প্রতি গড়ে ৬ থেকে ৮ মেট্রিক টন করে ফলন পাওয়া যাচ্ছে। এ বছর ঘিওরে আবাদকৃত বিভিন্ন জাতের ধানের মধ্যে রয়েছে, উফশি, স্থানীয় এবং হাইব্রিড প্রজাতির ধান। সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে ব্রিধান-২৮ ও ব্রিধান-২৯,৫০,৫৯,৬২,৬৩,৬৪। এছাড়া আবাদ হয়েছে উন্নতমানের জাত ব্রিধান-৫৮। 

বাজারে প্রতি মন ধান বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা। কিন্তু শ্রমিক জন প্রতি মজুরি দিতে হচ্ছে ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা। সঙ্গে দুই বেলা খাবার। এতে গৃহস্থের শুধু ধান কাটাতেই প্রতিমণে ধানের খরচ পড়ছে ৮০০ টাকার মতো। অন্যান্য খরচ (জমি চাষ, সেচ, চারা, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক) তো আছেই। চলতি বোরো মৌসুমে ঝড়, শিলাবৃষ্টি, পোকামাকড়, রোগবালাই নিয়ে কৃষকরা ছিল মহাবিপাকে। এদিকে ধানের ফলন ভালো হলেও বর্গাচাষিদের রয়েছে দুশ্চিন্তা। তাদের উৎপাদন খরচই তুলতেই হিমশিম থেতে হচ্ছে। 

সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঘিওর উপজেলার কেল্লাই এলাকার চকে মোন্নাফ মিয়া নামে স্থানীয় এক কৃষক পাঁচ-ছয়জন শ্রমিক নিয়ে ধান কাটছেন। নিজের কোনো আবাদি জমি নেই তার। অন্যের থেকে তিনি ২৪০ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে বোরো ধান আবাদ করেছেন।
 
তিনি জানান, ‘ভাই ধান বুনা বাদ দিমু। ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া বড়ই কষ্টের। ধান কাটার শ্রমিকের উচ্চমূল্য। মাথাপিছু শ্রমিকদের দেয়া লাগছে ৬শ’ টাকা। তারপর খাবার তো বাকিই আছে।’ 

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এ বছর শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি থাকায় অনেক স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ধান কাটার কাজ করছে। প্রতিটি এলাকায় কম বেশি বোরো কাটা শুরু হয়েছে।

বানিয়াজুরী ইউপির রাথুরা গ্রামের কৃষক কবির খান জানান, আমি এবার আট বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছি। বাজারে ধানের চাহিদা ও বাজারে মূল্য কম থাকায় আমাকে লোকসান গুণতে হচ্ছে। আমাদের প্রতিমণ ধান পেতে খরচ হচ্ছে ৮শ’ থেকে ৮শ’ ৫০টাকা।  

ঘিওর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ বিপুল হোসেন বলেন, বোরো আবাদের জন্য সবকিছুই অনুকূলে ছিল। বিদ্যুৎ, পানি, সার, বীজ-কোনো কিছুরই সমস্যা ছিল না। পোকা-মাকড়ও আক্রমণ করতে পারেনি। এসব কারণেই ধানের ফলন ভালো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বোরো ধানের দাম কম থাকায় আমরা কৃষকদের ধান ভালোভাবে শুকিয়ে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিচ্ছি। যাতে করে সংরক্ষিত ধান পরে বিক্রি করে দামটা ভালো পায়। আর শ্রমিকের সংকট আছে তার বিপরীতে কম্বাইন্ড হারবেস্টার মেশিন কৃষকদের সহজভাবে ধান কাটা মাড়াইসহ বস্তা প্যাকেট জাতকরণে সহজ পদ্ধতিতে ধান উত্তোলনের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম