শেষ হলো স্কাউটদের মিলন মেলা

ঢাকা, সোমবার   ১৭ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৩ ১৪২৬,   ১২ শাওয়াল ১৪৪০

শেষ হলো স্কাউটদের মিলন মেলা

গাজীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২৩:৩৪ ১৪ মার্চ ২০১৯   আপডেট: ২৩:৩৮ ১৪ মার্চ ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গাজীপুরের মৌচাক এলাকায় সাত দিনব্যাপী শালবনে স্কাউদের ১০ম জাতীয় ও তৃতীয় সানসো স্কাউট জাম্বুরি বৃহস্পতিবার বিকেলে শেষ হয়েছে। শুক্রবার সকালে জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র মৌচাক থেকে নিজ নিজ জেলা ও দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন স্কাউটরা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মৌচাকে জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এক সংবাদ সম্মেলনে ১০ম জাতীয় ও তৃতীয় সানসো স্কাউট জাম্বুরি সমাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় কমিশনার ও জাম্বুরি চিফ ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, জাতীয় কমিশনার (সাংগঠনিক) আক্তারুজামান খান কবির, ডেপুটি জাম্বুরি চিফ সারোয়ার মোহাম্মদ শাহরিয়ার, স্কাউট জাম্বুরির উপকমিটির সমন্বয়কারী প্রচার-প্রকাশনা ও ডকোমেন্টারি মীর মোহাম্মদ ফারুকসহ স্কাউটসের কর্মকর্তারা।

জাম্বুরিতে দেশ-বিদেশের প্রায় ১২ হাজার স্কাউট ছেলে-মেয়ে, স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মকর্তা অংশ গ্রহণ করেছেন। এবারের জাম্বুরির থিম নির্ধারণ করা ছিল ‘যোগ্য নেতৃত্ব উন্নত দেশ’। 

জাম্বুরিতে বাংলাদেশের সব জেলা ও উপজেলা থেকে ১০০৩ টি স্কাউট দলের ৯০২৭ জন স্কাউট ও গার্ল ইন স্কাউট অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও ভারত, নেপাল,  ‍ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, আফগানিস্থান, পাকিস্তান, ব্রুনাই দারুস সালাম, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফিলিপাইনের স্কাউট ও কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবকসহ ১১ হাজার স্কাউট ও কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেছেন। 

জাম্বুরি হচ্ছে স্কাউটদের মিলন মেলা। জাতীয় জাম্বুরি প্রতি চার বছর অন্তর অন্তর আয়োজন করা হয়। স্কাউটরা এই জাম্বুরিতে সাত দিন অবস্থান করে শিক্ষামূলক বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত চ্যালেঞ্জগুলো ‘ভেঞ্চার’ নামে অভিহিত করা হয়। ১৪টি ভেঞ্চার ও কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানের সমন্বয়ে আকর্ষণীয়, উদ্দীপনামূলক, শিক্ষণীয় ও প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রাম সাজানো হয় যা ভিলেজ, সাব ক্যাম্প ও কেন্দ্রীয়ভাবে বাস্তবায়িত করা হয়েছে। 

জাম্বুরির ১৪টি ভেঞ্চার যথাক্রমে,  ভোরের পাখি, তাঁবু কলা, ট্যাকল, শিক্ষা সফর, হাইকিং, করি ও শিখি, পাইওনিয়ারিং ও প্রাথমিক প্রতিবিধান, এসডিজি ও জিডিভি, ফান এন্ড গেম, পাশের বাড়ি, ফেইথস এন্ড বিলিফস,সাধারণ জ্ঞান,তাঁবু জলসা ও গ্রীন ডিবেট। 

এছাড়াও জাম্বুরি প্রোগ্রামে কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর মধ্যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, ভিলেজ ভিত্তিক তাবু জলসা, মহা তাবু জলসা, সমাপনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, টপ অ্যাচিভার’স গ্যাদারিং, উডব্যাজার’স গ্যাদারিং, রোভার ভলান্টিয়ার’স গ্যাদারিং। বাঙ্গালি জাতির পিতাকে বর্তমান প্রজন্মের নিকট পরিচিত করার জন্য জাম্বুরি মূল এরিনার নামকরণ করা হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নামে। 

জাম্বুরিতে চারটি ভিলেজ করা হয়। চারটি ভিলেজের নামকরণ করা হয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ঘনিষ্ট সহচর সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামান এর নামে। চারটি ভিলেজের অধীনে ১২টি সাব ক্যাম্প কবি, সাহিত্যিক ও বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের নামে নামকরণ করা হয়। রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, জসিম উদ্দিন, সুফিয়া কামাল, ইমরান নূর, জীবনানন্দ দাশ, এম মহবুবুজ্জামান, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, হুমায়ুন আহমেদ, সৈয়দ শামসুল হক ও  শামসুর রাহমান। 

বৃহস্পতিবার রাতে ১১ থেকে ১৭ বছর বয়সী ছেলে-মেয়ের এই মিলন মেলা শেষ হয়। শুক্রবার সকালে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে ফিরে যাবে। 

বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান জাতীয় কমিশনার ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, ১৭০টি দেশের মধ্যে স্কাউটে ৫ম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে বর্তমানে স্কাউট সদস্য সংখ্যা ১৭ লাখ। ২০২১ সালের মধ্যে স্কাউট সদস্য সংখ্যা ২১ লাখে উন্নীত করার মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। জাম্বুরি থেকে মানসিক শক্তি, অজানাকে জানাসহ অনেক কিছু শেখানো হয়ে থাকে। এখান থেকে ফিরেও যা তাদের কাজে আসবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে