শেষ যুগে ফেতনার বাহাত্তরটি আলামত (পর্ব-২) 

ঢাকা, শুক্রবার   ০৩ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২০ ১৪২৬,   ০৯ শা'বান ১৪৪১

Akash

শেষ যুগে ফেতনার বাহাত্তরটি আলামত (পর্ব-২) 

মাওলানা ওমর ফারুক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৩২ ১ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৬:৩৪ ১ মার্চ ২০২০

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যেসব হাদিসে আগত ফেতনাসমূহের কথা বর্ণিত হয়েছে সেগুলো মুসলমানদের বিশেষভাবে স্মরণ রাখা উচিত।

হজরত মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ লুধিয়ানবি (রহ.) হাদিসের দৃষ্টিতে বর্তমান যুগ নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। গ্রন্থটিতে তিনি ফেতনার যুগ সম্পর্কিত প্রায় সব হাদিসগুলো একত্র করেছেন। তাতে তিনি এমন একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন, যাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফেতনার যুগের বাহাত্তরটি আলামত বলেছেন। হাদিসটি পড়ুন এবং আজকের অবস্থা মিলিয়ে দেখুন। দেখবেন, আজকের অবস্থার সঙ্গে হাদিসের বক্তব্যের কি চমৎকার মিল!

আরো পড়ুনন>>> শেষ যুগে ফেতনার বাহাত্তরটি আলামত (পর্ব-১) 

ফেতনার বাহাত্তরটি নিদর্শন:

হজরত হুজায়ফা (রাদি.) বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কেয়ামতের পূর্বে বাহাত্তরটি বিষয় প্রকাশ পাবে।

১. লোকেরা নামাজে ডাকাতি করবে। অর্থাৎ নামাজের প্রতি মানুষের একদম গুরুত্ব থাকবে না। এ কথাটি আজকের যুগে এতটা আশ্চর্যের নয়। কারণ এ যুগে অধিকাংশ মুসলমানের মাঝেই নামাজের গুরুত্ব নেই। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এ কথা বলেছিলেন তখন নামাজ ঈমান এবং কুফুঁরের মাঝে পার্থক্য সৃষ্টিকারী বিষয় বলে পরিগণিত ছিল। সে যুগে একজন মুসলমান যত খারাপই ছিল না কেন, যত মারাত্মক বদকার ও ফাসেকই ছিল না কেন, তারা কিছুতেই নামাজ ছাড়তেন না। সে যুগে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপরিউক্ত কথাটি বলেছিলেন।

২. আমানতের খেয়ানত করবে। অর্থাৎ তাদের কাছে আমানতরূপে যা কিছু রাখা হবে তা তারা আত্মসাৎ করবে।

৩. সুদের লেনদেন করবে।

৪. মিথ্যা কথা বলাকে হালাল মনে করবে। অর্থাৎ মিথ্যা বলতে পারাকে একটি দক্ষতা ও যোগ্যতা মনে করা হবে।

৫. সামান্য বিষয়ে রক্তপাত করবে এবং অন্যের প্রাণ সঙ্ঘার করবে।

৬. উঁচু উঁচু ভবন নির্মাণ করবে।

৭. দ্বীন বিক্রি করে দুনিয়া উপার্জন করবে।

৮. আত্মীয়দের সঙ্গে বাজে আচরণ করবে।

৯. ইনসাফ উঠে যাবে।

১০. মিথ্যা সত্যতে পরিণত হবে।

১১. রেশমি পোশাক পরিধান করা হবে।

১২. জুলুম-অত্যাচার ব্যাপকরূপ লাভ করবে।

১৩. তালাকের আধিক্য হবে।

১৪. আকস্মিক মৃত্যুর হার বেড়ে যাবে।

১৫. দুর্নীতিপরায়ণ লোকদেরকে সৎলোক মনে করা হবে।

১৬. সৎলোকদেরকে দুর্নীতিপরায়ণ মনে করা হবে।

১৭. মিথ্যাকে সত্য মনে করা হবে।

১৮. সত্যকে মিথ্যা বলা হবে।

১৯. অপবাদ আরোপের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।

২০. বৃষ্টি হওয়া সত্তেও পরিবেশ উষ্ণ থাকবে।

২১. লোকেরা সন্তান লাভের পরিবর্তে সন্তান নেয়াকে অপছন্দ করবে। অর্থাৎ সন্তান লাভের জন্য মানুষ যেভাবে দোয়া করে তার পরিবর্তে সন্তান না হওয়ার জন্য দোয়া করবে এবং বিভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণ করবে। যেমন, আজকাল পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং বলা হচ্ছে ‘দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়।’

২২. নীচ লোকেরা সম্পদশালী হবে এবং অত্যন্ত বিলাসী জীবনযাপন করবে।

২৩. ভদ্রলোকেরা নিগৃহিত হবে।

২৪. রাষ্ট্রপ্রধান, শাসকবর্গ ও মন্ত্রিপরিষদ এবং তাদের সমর্থক ও সহযোগীরা মিথ্যা বলায় অভ্যস্ত হয়ে যাবে এবং সকাল-বিকেল মিথ্যা কথা বলবে।

২৫. আমানতদার ব্যক্তি খেয়ানত করবে।

২৬. নেতৃবর্গ জালেম ও অত্যাচারী হবে।

২৭. আলেম এবং কারি বদকার হবে। অর্থাৎ আলেমও এবং কোরআন শরিফও তেলাওয়াত করে কিন্তু বদকার।

২৮. লোকেরা জীবজন্তুর চামড়া দ্বারা তৈরি উন্নতমানের পোশাক পরবে।

২৯. কিন্তু তাদের দিলগুলো মৃত জন্তুর চেয়ে বেশি দুর্গন্ধময় হবে।

৩০. এবং পাথরের চেয়ে বেশি কঠিন হবে।

৩১. স্বর্ণ সুলভ হবে।

৩২. রূপার মূল্য বেড়ে যাবে।

৩৩. গুনাহর পরিমাণ বেড়ে যাবে।

৩৪. জানমালের নিরাপত্তা কমে যাবে।

৩৫. কোরআন শরিফকে সজ্জিত করা হবে।

৩৬. মসজিদকে কারুকার্যময় করা হবে।

৩৭. উঁচু উঁচু সৌধ নির্মিত হবে।

৩৮. হৃদয়গুলো উজাড় হবে।

৩৯. ব্যাপকভাবে মদ পান করা হবে।

৪০. শরীয়তের দণ্ডবিধিকে অকার্যকর করা হবে।

৪১. দাসীকে স্বীয় মুনিবকে জন্ম দিবে। অর্থাৎ মেয়ে মায়ের ওপর কর্তৃত্ব করবে এবং এরূপ ব্যবহার করবে, যেরূপ মুনিব দাসীর সঙ্গে ব্যবহার করে।

৪২. একসময় যারা খালি পায়ে ও উন্মুক্ত দেহে চলাফেরা করত এরূপ নীচ শ্রেণির লোকেরা দেশের শাসক বনে যাবে।

৪৩. পুরুষ ও নারী যৌথভাবে ব্যবসায় করবে। নারীরা জীবনের সব ক্ষেত্রে পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে।

৪৪. পুরুষরা নারীদের বেশভূষা ধারণ করবে।

৪৫. নারীরা পুরুষদের বেশভূষা ধারণ করবে। দূর থেকে দেখে বুঝা যাবে না, এটা পুরুষ না নারী।

৪৬. গায়রুল্লাহর নামে শপথ করা হবে। অর্থাৎ শপথ শুধু আল্লাহর নামে এবং কোরআনের ওপর বৈধ, অন্য কোনো কিছুর নামে শপথ করা হারাম। কিন্তু ফেতনার যুগে মানুষ আল্লাহ ভিন্ন অন্যান্য জিনিসের নামেও শপথ করবে।

৪৭. মুসলমানরাও বলা ছাড়াই মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত থাকবে। 

৪৮. শুধু পরিচিত লোকদেরকে সালাম দেয়া হবে। অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা হলো,
السَّلاَمَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لَمْ تَعْرِفْ

তুমি যাকে চেন তাকেও সালাম কর এবং যাকে তুমি চেন না তাকেও সালাম কর।

বিশেষ করে পথ চলার সময় পথে কারো সঙ্গে সাক্ষাত হলে তাদের সবাইকে সালাম করা উচিত। কিন্তু গমনাগমনকারী লোকদের সংখ্যা অনেক বেশি হলে এবং সালামের কারণে নিজের কাজে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তখন সালাম না দেয়ারও অবকাশ আছে। কিন্তু একটা সময় আসবে যখন গমনাগমনকারীদের সংখ্যা এক-দুজন হলেও সালাম দেয়া হবে না; সালামের রেওয়াজ একবারেই উঠে যাবে।

৪৯. দুনিয়া লাভের উদ্দেশ্যে দ্বীনের ইলম শিক্ষা দেয়া হবে। শিক্ষা অর্জনকারীদের উদ্দেশ্য হবে এর মাধ্যমে আমাদের ডিগ্রী লাভ হবে, চাকরি পাওয়া যাবে, পয়সা উপার্জন করা যাবে এবং সম্মান ও খ্যাতি অর্জিত হবে।

৫০. আখেরাতের কাজের দ্বারা দুনিয়া উপার্জন করা হবে।

৫১. জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় সম্পদকে নিজের সম্পদ মনে করা হবে।

৫২. আমানতের মালকে লুটের মাল মনে করা হবে।

৫৩. জাকাতকে জরিমানা মনে করা হবে।

৫৪. সমাজের সবচেয়ে নীচ ও নিকৃষ্ট ব্যক্তিকে লোকেরা নিজেদের নেতা বানাবে। 

৫৫. মানুষ নিজের পিতার অবাধ্যতা করবে।

৫৬. এবং মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করবে।

৫৭. বন্ধুদের ক্ষতি করতে দ্বিধা করবে না।

৫৮. স্ত্রীর আনুগত্য করবে।
৫৯. বদকার লোকেরা মসজিদে শোরগোল করবে।

৬০. গায়িকা নারীদের সম্মান করা হবে। অর্থাৎ যে নারীরা গান-বাজনার পেশায় থাকবে তাদেরকে সম্মানের চোখে দেখা হবে।

৬১. বাদ্যযন্ত্র এবং বাজনার বিভিন্ন উপকরণকে বিশেষ যত্ন করা হবে।

৬২. রাস্তার মোড়ে মোড়ে মদের দোকান হবে।

৬৩. জুলুম-অত্যাচার করাকে গর্বের বিষয় মনে করা হবে।

৬৪. আদালতে ন্যায়বিচার বিক্রি হবে। অর্থাৎ বিচারপ্রার্থী ন্যায়ের ওপর হলেও পয়সা দিয়ে রায় নিজের পক্ষে নিতে হবে।

৬৫. পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

৬৬. কোরআন শরিফকে গানের সুরে তেলাওয়াত করা হবে। 
কোরআনকে বুঝার জন্য অথবা সাওয়াব লাভের উদ্দেশ্যে কিংবা দাওয়াতের উদ্দেশ্যে তেলাওয়াত করা হবে না।

৬৭. হিংস্র পশুর চামড়া ব্যবহার করা হবে।

৬৮. উম্মতের শেষ যুগের লোকেরা প্রথম যুগের লোকদের ওপর বিভিন্ন অপবাদ আরোপ করবে। তাদের সমালোচনা করবে এবং বলবে, তারা এই এই কথা ভুল বলেছে। 

আজকের যুগে দেখা যায়, উম্মতের শ্রেষ্ঠ জামাত সাহাবায়ে কিরামের সঙ্গে অনেকে বেয়াদবি করছে। যাদের মাধ্যমে আমরা দ্বীন পেয়েছি, তাদেরকে বেকুব, মূর্খ ও ধর্মান্ধ বলছে।

এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, উপরিউক্ত আলামতগুলো যখন প্রকাশ পাবে তখন,

৬৯. হয়ত তোমাদের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে লালবর্ণের তুফান আসবে।

৭০. অথবা ভূমিকম্প আসবে।

৭১. অথবা লোকদের চেহারা বিকৃত হবে।

৭২. অথবা আকাশ থেকে পাথর বর্ষিত হবে। কিংবা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে অন্য কোনো আজাব আসবে।

উপরিউক্ত আলামতগুলো নিয়ে একটু চিন্তা করলে দেখা যাবে আমাদের সমাজে উপরিউক্ত প্রতিটি আলামত বিদ্যমান এবং সমাজে বর্তমানে যে অশান্তি বিরাজ করছে তা মূলত উপরে বর্ণিত বদআমলগুলোরই ফল।
 
মসিবতের পাহাড় ভেঙ্গে পড়বে:

অন্য একটি হাদিসে হজরত আলি রাদি. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যখন আমার উম্মতের মাঝে পনেরটি কাজ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে তখন তাদের ওপর মসিবতের পাহাড় ভেঙ্গে পড়বে। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেই পনেরটি কাজ কি? উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

১. যখন রাষ্ট্রীয় সম্পদকে লুটের মাল মনে করা হবে...। দেখুন আজকে কীভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করা হচ্ছে। এটা শুধু শাসকবর্গের সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয় বরং যখন ক্ষমতাসীনরা লুটপাট করে তখন জনসাধারণের মধ্য থেকে যারা সুযোগ পায় তারাও লুটপাট করে। অনেক কাজই এরূপ আছে যার কারণে রাষ্ট্রীয় সম্পদ যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, আমরা এ বিষয়টিকে বিলকুল পরোয়া করি না। যেমন, বিদ্যুৎ চুরি; বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ নিয়ে পুরোদমে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদে চুরি। এমনিভাবে সরকারি টেলিফোন রাষ্ট্রীয় প্রয়োজন ছাড়া ব্যবহার করা ও টিকেট ছাড়া ট্রেনে সফর করা কিংবা সেকেন্ড ক্লাসের টিকেট কেটে ফার্স্ট ক্লাসে ভ্রমণ করাও রাষ্ট্রীয় সম্পদে চুরি করা।

রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরি করা সাধারণ চুরির চেয়ে বেশি মারাত্মক। কারণ কেউ যদি কোনো মানুষের ঘরে চুরি করে এবং পরবর্তীতে তার ক্ষতিপূরণ দিতে চায় তা হলে ক্ষতিপূরণ দেয়া সহজ; যত টাকা সে চুরি করেছে ওই পরিমাণ টাকা ফেরত দিয়ে দিবে অথবা তার কাছে যেয়ে মাফ করিয়ে ননেবে যে, ভুলে আমার থেকে কাজটি হয়ে গেছে, আমাকে মাফ করুন। কিন্তু রাষ্ট্রীয় সম্পদ জনগণের; রাষ্ট্রের অর্ন্তগত কোটি কোটি মানুষ এ সম্পদের অংশীদার। যদি কেউ এ সম্পদ চুরি করে কিংবা অপচয় বা অপব্যয় করে তা হলে ক’জনের কাছ থেকে সে মাফ নেবে? যতক্ষণ পর্যন্ত রাষ্ট্রের সব জনগণ থেকে মাফ না করাবে ততক্ষণ পর্যন্ত চুরির অপরাধ মাপ হবে না। তাই সাধারণ চুরি অপেক্ষা রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরি করার পর মাফ নেয়া অনেক কঠিন। আল্লাহ তায়ালার কাছে এ থেকে পানাহ চাই।

২. যখন আমানতের মালকে লুটের মাল মনে করা হবে এবং তাতে খেয়ানত করবে।

৩. যখন লোকেরা জাকাতকে জরিমানা এবং ট্যাক্স মনে করবে।

৪. মানুষ স্ত্রীর আনুগত্য করবে এবং মায়ের অবাধ্যতা করবে অর্থাৎ মানুষ স্ত্রীকে খুশি করার জন্য মাকে অসন্তুষ্ট করবে।

৫. মানুষ বন্ধুর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে এবং পিতার সঙ্গে অসদ্ব্যবহার করবে অর্থাৎ বন্ধুর সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করবে কিন্তু পিতার সঙ্গে রূঢ় ও কঠোর আচরণ করবে।

৬. মসজিদে শোরগোল হবে। মসজিদ বানানো হয় আল্লাহর যিকির করার জন্য। ইবাদতকারী ও যিকিরকারীদের ইবাদত ও যিকিরে যাতে কোনোরূপ বিঘ্ন না ঘটে সেদিকে লক্ষ্য রাখা প্রতিটি মুসল্লির কর্তব্য। কিন্তু লোকেরা মসজিদে উঁচু আওয়াজে কথা বলে এবং শোরগোল করে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। আলহামদু লিল্লাহ! আজকাল তো মসজিদে বিবাহ পড়ানোর রেওয়াজ চালু হয়েছে। এটা ভালো, কিন্তু বিবাহের সময় মসজিদের সম্মানের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয় না; অনেক শোরগোল করা হয়। কিছু কিছু গুনাহ আছে যেগুলো করতে আনন্দ ও মজা লাগে কিন্তু এটি এমন এক গুনাহ, এটি করতে কোনো মজা ও আনন্দ নেই অথচ বিনা প্রয়োজনেই আমরা আমাদের মাথায় এ গুনাহর বোঝা তুলে নেই।

৭. সমাজের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও নীচ ব্যক্তিকে নেতা বানানো হবে।

৮. অনিষ্টের ভয়ে মানুষকে সম্মান করা হবে। কারণ তার সম্মান করা না হলে সে কোনো না কোনোভাবে আমাকে ফাঁসিয়ে দেবে।

৯. ব্যাপকভাবে মদ পান করা হবে।

১০. ব্যাপকভাবে রেশমি কাপড় পরিধান করা হবে।

১১. ঘরে নর্তকী ও গায়িকা রাখা হবে এবং বাদ্যযন্ত্র ও নাচ-গানের উপকরণকে যত্নসহকারে রাখা হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এ কথা বলেছিলেন, তখন অনেকের মনে এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল যে, প্রত্যেক ব্যক্তি কীভাবে ঘরে নর্তকী ও গায়িকা রাখবে? কারণ প্রত্যেক ব্যক্তির এতটুকু আর্থিক সামর্থ্য কোথায় যে, সে নর্তকী ও গায়িকার ব্যয়ভার বহন করবে এবং যখন ইচ্ছা নাচ-গান দেখবে ও শুনবে? কিন্তু আজকাল রেডিও, সিডি-ভিসিডি, টিভি, স্যাটেলাইট টিভি, ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ইত্যাদি বিষয়টিকে সহজ করে দিয়েছে। এখন প্রত্যেক ব্যক্তির ঘরেই রেডিও, টেলিভিশন ও ভিসিডি আছে এবং প্রত্যেক ব্যক্তির পকেটেই মোবাইল ফোন আছে; যখন ইচ্ছা নাচ-গান দেখা ও শোনা যায়। এখন আর বাদ্যযন্ত্র কেনার প্রয়োজন পড়ে না। ব্যস, টিভি অন কর, তা দ্বারাই বাদ্যযন্ত্র, নর্তকী ও গায়িকা রাখার উদ্দেশ্য হাসিল হয়।

১২. এ উম্মতের পরবর্তী লোকেরা পূর্ববর্তী লোকদের ওপর অভিসম্পাত করবে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপরিউক্ত আলামতগুলো বর্ণনা করে বলেন, এ আলামতগুলো যখন মুসলিম সমাজে দেখা দিবে তখন মসিবতের পাহাড় ভেঙ্গে পড়বে। এ আলামতগুলোর অধিকাংশই আজ আমাদের সমাজে বিদ্যমান। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে হেফাজত করুন। চলবে...

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে