শেখ হাসিনার বিকল্প নেই

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৫ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১১ ১৪২৬,   ২০ শাওয়াল ১৪৪০

গোপালগঞ্জ-৩

শেখ হাসিনার বিকল্প নেই

 প্রকাশিত: ১৯:০৬ ১৮ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ১৯:২০ ১৮ জুলাই ২০১৮

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

আওয়ামী লীগের দূর্গ খ্যাত জেলা গোপালগঞ্জ। বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান গোপালগঞ্জের তিন আসনেই রয়েছে দলটির একক আধিপত্য। এরমধ্যে টুঙ্গীপাড়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা এবং কোটালীপাড়া উপজেলার ১২ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ-৩ আসন। এ আসনে রারবরই বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপি বা অন্য দলের প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিলেও ফলাফল সবার জানা। এক কথায় উত্তাপবিহীন নির্বাচনই হয় এখানে।

জেলার অন্য দুটি সংসদীয় আসনে মতই এ আসনের ভোটাররাও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও এ আসনের এমপি শেখ হাসিনাকে মনে প্রাণে ভালবাসেন। তাকে বার বার সর্বোচ্চ ভোটে বিজয়ী করে এমপি নির্বাচিত করেন। এখানকার ভোটাররা তাকে ভোট দিয়ে গর্ববোধ করেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেও এ আসনের ভোটারদের নিয়ে গর্ববোধ করেন।

দলের তৃণমূল পর্যায় থেকে শেখ হাসিনাকে আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছেন বলে নেতাকর্মী সূত্রে জানাগেছে। এখানে শেখ হাসিনার বিকল্প কোনো প্রার্থী নেই।

অন্যান্য দলের অতীতেও কোনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। এখনও নেই। তবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায় বিএনপি। বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এসএম জিলানী, টুঙ্গিপাড়ার শিক্ষক এস এম আফজাল হোসেনের নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়া কোটালীপাড়া উপজেলা জাসদের (ইনু) সভাপতি অরুন চন্দ্র সাহা, রিয়াজুল ইসলাম তালুকদার (আম্মিয়া) নাম শোনা যাচ্ছে। তবে জোট-মহাজোট নির্বাচন হলে এ আসনে মহাজোটের একক প্রার্থী হবেন শেখ হাসিনা। আর জোটের প্রার্থী হতে পারেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এস এম জিলানী।

এর মধ্যে এস এম জিলানী রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ীক কারণে বরাবরই ঢাকায় অবস্থান করেন। মাঝে মধ্যে নিজ নির্বাচনী এলাকায় আসেন। খোঁজ খবর নেন নেতাকর্মীদের। এ আসনে বিএনপির দলীয় কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে না।

গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এসএম জিলানী বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিবে। আর আগামী নির্বাচনে এ আসনে দল আমাকে মনোনয়ন দিবে বলে আমি শতভাগ আশাবাদী। আর জনগণ যদি তাদের ভোটাধিকার প্রযোগ করতে পারে, তবে এই আসনে বিএনপি এবার চমক দেখাবে।

কোটালীপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান মুন বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরাবরের মত এবারো এ আসন থেকে শেখ হাসিনা নির্বাচন করবেন। ছাত্রলীগ কোটালীপাড়া উপজেলা শাখা অতীতের ন্যায় এবারো সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। শেখ হাসিনাকে ৪র্থ বারের মত সরকার গঠনে সর্বাত্বক ভূমিকা পালন করবে ছাত্রলীগ। এখানের ভোটাররা এবারও তাকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী করবেন।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি বিএম তৌফিক ইসলাম বলেন, গোপালগঞ্জ-৩ আসন থেকে বরাবরই শেখ হাসিনা নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। আর বরাবরই তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। আগামী নির্বাচনেও তিনিই আমাদের একমাত্র ভরসা।

কোটালীপাড়া পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী মো. কামাল হোসেন শেখ জানান, কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়ার ভোটারদের প্রাণের মানুষ বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। এখানকার মানুষের ভোটে তিনি তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী। তার বাইরে এ অঞ্চলের মানুষ ভুল করেও কিছু চিন্তা করে না। তিনি ব্যতিত আমাদের অন্য কোনো প্রার্থী নেই বা সম্ভাবনাও নেই। বঙ্গবন্ধু যেমন এ এলাকার মানুষদের মনে প্রাণে ভালবাসতেন। তিনিও একইভাবে আমাদের ভালবাসেন। নিয়মিত সবার খোঁজ খবর রাখেন। অন্যান্যবারের মত এবারো এ আসনের ভোটাররা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে তাকে এমপি নির্বাচিত করবেন এবং আগামীতে তারই অধীনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল বশার খায়ের বলেন, শুধু আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনই নয়। আমাদের নেত্রী (শেখ হাসিনা) যতদিন জীবিত থাকবেন, ততদিনই বঙ্গবন্ধুর নৌকা নিয়ে এই আসনে নির্বাচন করবেন। এটা আমাদের নেতা-কর্মী ও ভোটারদের প্রাণের দাবি। এই আসনের ভোটাররা নৌকা ছাড়া অন্য কিছু চেনে না। আওয়ামী লীগ সরকার গত ৯ বছর ধরে সারা দেশে যে উন্নয়ন করেছে। তাতে করে প্রধানমন্ত্রীর এই আসনে অন্য কোনো দলের প্রার্থী নির্বাচন করলে, তার জামানতই টিকবে না। অতীতেও এমন হয়েছে। আর ভবিষ্যতে এমনই হবে।

গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান বলেন, শেখ হাসিনা একাধিক আসনে নির্বাচন করেন। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর শুধু এই আসনটিই ধরে রেখে অন্য আসনগুলো উপ-নির্বাচনের জন্য ছেড়ে দেন। এই আসনের মানুষের ভালবাসায় তিনি তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী। আগামীতেও এই আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে তিনি ৪র্থ বারের মত সরকার গঠন  করবেন বলে বিশ্বাস রাখি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর