শেকলে বাঁধা জীবন সাইফুলের!

ঢাকা, শনিবার   ২৫ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪২৬,   ১৯ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

শেকলে বাঁধা জীবন সাইফুলের!

 প্রকাশিত: ১৭:২৮ ২১ জুলাই ২০১৭  

দু’বছর শিশু সাইফুলের (১০) পায়ে শেকল পরিয়ে রেখেছে তার পরিবার। যাতে করে শিশুটি দূরে কোথাও যেতে না পারে। হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে দু’পায়ে শেকল পরিয়ে দেয়া হয়েছে। আর দু’পায়ে শেকল থাকায় শিশুটি লাফিয়ে লাফিয়ে চলাফেরা করছে। এমনই এক অমানবিক দৃশ্য দেখা গেছে, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের দক্ষিণ বালাপাড়া গ্রামে। একমাত্র ছেলে সাইফুল ইসলাম ওই এলাকার আশরাফুলের ছেলে। সাইফুলের মা ছালেহা বেগম জানান, জন্মের পরেই সাইফুল মাথায় আঘাত পায়। আর আঘাত পাওয়ার কারণে শিশু সাইফুলের মাথায় সমস্যা দেখা দেয়। সাইফুল আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে আর চিকিৎসাও চলতে থাকে। এক ছেলে আর এক মেয়ের মধ্যে সবার বড় সাইফুল। বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে ছেলের চিকিৎসা করতে করতে নিঃস্ব হয়ে যায় তার পরিবার। এক পর্যায়ে শিশুটির চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়া হয়। শেষে তাকে একটি ঘরের মধ্যে বন্দি অবস্থায় দিন কাটাতে হয়। প্রয়োজন ছাড়া শিশুটিকে বের করা হয় না। ঘরের মধ্যে ছেলেকে বন্দি আর পায়ে শেকল পরিয়ে রাখতে খুব কষ্ট লাগে কিন্তু কিছুই করার নেই। তিনি বলেন, মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেটি যাতে হারিয়ে না যায় এ কারণেই তাকে শেকল পরিয়ে রাখা হয়েছে। এর আগেও একাধিকবার হারিয়ে যায় সাইফুল। পরে বিভিন্ন জায়গায় মাইকিং করে তাকে খুঁজে পাওয়া গেছে। এরপর থেকেই তার পায়ে শেকল পরিয়ে রাখা হয়েছে। সাইফুল তার নিজের নাম, বাবা-মায়ের নামসহ অনেক কিছুই বলতে পারে। স্থানীয়দের ধারণা শিশুটির সঠিক চিকিৎসা করানো হলে সে সুস্থ হয়ে উঠবে। এ জন্য সকলেরও সহযোগিতা কামনা করেন স্থানীয়রা। এবছর প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য তার নাম তালিকায় পাঠানো হয়েছে বলে মহিষখোচা ইউনিয়নের সচিব আজহারুল ইসলাম আতিক জানান। তবে শিশুটির দু’পায়ে শেকল পরিয়ে রাখার বিষয়টিকে কোনভাবেই তিনি সমর্থন করেন না। সাইফুলের চাচা জিয়া ইসলাম জানান, গত দুই বছর পায়ে শেকল পরিয়ে রাখা হয়েছে তাকে। যাতে দূরে কোথাও যেতে না পারে। সাইফুলের বাবা আশরাফুলও একজন প্রতিবন্ধী। দক্ষিণবালাপাড়া ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ হোছত জানান, শিশু সাইফুল যাতে হারিয়ে না যায় আর এ কারণেই তার পরিবার পায়ে শেকল পড়িয়ে রেখেছে। আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাশেম আলী বলেন, একটি শিশুর পায়ে সব সময় শেকল পরিয়ে রাখা খুবই অমানবিক কাজ। তবে যতটুকু পারা যায় তাকে চোখে চোখে রাখতে হবে বলে তিনি মনে করেন। আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসাদুজ্জামান জানান ,শেকল পরিয়ে রাখা খুবই দুঃখজনক। তার চিকিৎসার প্রয়োজন হলে চিকিৎসা করানো উচিত, তবে বিষয়টি সর্ম্পকে খোঁজ খবর নিবেন বলে সাংবাদিকদের জানান তিনি। ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই
Best Electronics