ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৮ ১৪২৫,   ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪০

শুক্রবার টঙ্গীতে তাবলীগ জামাতের বিক্ষোভ

গাজীপুর প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৫:০২ ৫ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৫:০২ ৫ ডিসেম্বর ২০১৮

ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি বাংলাদেশ

টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে তাবলীগের সাথী ও মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের উপর অতর্কিত হামলার বিচারসহ ৬ দফা দাবীতে বুধবার সকালে টঙ্গী প্রেস ক্লাবে উলামা মাশায়েখদের সংবাদ সম্মেলন হয়। 

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুফতি মুহাম্মদ আবু বকর কাসেমী। তিনি শুক্রবার টঙ্গীর সব মসজিদগুলো থেকে বাদ জুম্মা এক বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেন।
লিখিত বক্তব্যে মুফতি মুহাম্মদ আবু বকর কাসেমী বলেন, শনিবার ইজতেমা মাঠে তাবলীগের সাথী ও মাদ্রাসার ছাত্রদের উপর মাওলানা সা’দ অনুসারী বাংলাদেশের ওয়াসিফুল ইসলাম ও নাসিমগং এর কর্মীরা ইজতেমার ময়দানের গেইট ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা চালিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটায়।

এ সময় একজন নিহত এবং হাজারের অধিক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। হামলাকারীরা ভিতরে মাদরাসা ছাত্রদের পাঠ্যপুস্তক ও পবিত্র কোরআন শরীফ তছনছসহ অগ্নিসংযোগও করে।

তবে ঘটনার সময় প্রশাসনের ভূমিকা ছিল নীরব ও রহস্যজনক। পুলিশ দাঁড়িয়ে দর্শকের ভূমিকা পালন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে যোবায়ের অনুসারী স্থানীয় আলেম মুফতী মাসুদুল করিম বলেন, সা’দ পন্থীরা বিনা উস্কানিতে ওই দিন যোবায়ের পন্থীদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে এবং হতাহতের ঘটনা ঘটায়।

বিশ্ব ইজতেমার পরিচালনা করা হয় শুরা সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে। তাদের কোন মতামত ছাড়াই মাওলানা সা’দ নিজেকে আমির বলে দাবি করেন।

এসময় তারা ছয় দফা দাবি পেশ করেন। তাদের দাবিসমূহ হলো-এ হামলার নির্দেশদাতা ওয়াসিফুল ইসলাম ও সাহাবুদ্দিন নাসিমসহ টঙ্গী ও উত্তরা থেকে নেতৃত্বদানকারী এবং হামলার সঙ্গে জড়িত সকলকে অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। আহত-নিহতদের ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

টঙ্গী ইজতেমা ময়দান এতদিন যেভাবে শুরাভিত্তিক তাবলীগের সাথী ও উলামায়ে কেরামের অধীনে ছিল তাদের হাতেই হস্তান্তর করতে হবে। কাকরাইলের সব কার্যক্রম থেকে ওয়াসিফ ও নাসিম গংদেরকে বহিষ্কার করতে হবে। সারাদেশে উলামায়ে কেরাম ও সূরাভিত্তিক পরিচালিত তাবলীগের সাথীদের ওপর হামলা-মামলা বন্ধ করে পূর্ণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার ১ম ধাপ পূর্ব ঘোষিত ১৮, ১৯ ও ২০ জানুয়ারী ২০১৯ইং এবং ২য় ধাপ ২৫, ২৬ ও ২৭ জানুয়ারী ২০১৯ইং তারিখেই হবে।

উক্ত দাবিতে ৭ ডিসেম্বর শুক্রবার বাদ জুমা টঙ্গীর সব মসজিদ ও এলাকা থেকে তৌহিদী জনতার অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেয়া হয়। তবে দাবি বাস্তবায়নে কালক্ষেপণ হলে পরবর্তীতে আরো কর্মসূচি দেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা জাকির হোসাইন, মুফতী মাসউদুল করীম, মাওলানা ইউনুস শাহেদী, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মুফতী মুহাম্মদ আবু বকর কাসেমী, মাওলানা ইসমাইল ওরফে আলমগীর, মাওলানা আব্দুর রাকিব আকন্দ, মুফতী মুহাম্মদ ইয়াকুব, মাওলানা ক্বেরামত আলী, মাওলানা ইকবাল মাসুম, মাওলানা রিয়াজুল ইসলাম মল্লিক, ইঞ্জিনিয়ার শামসুল হক, আবু উবাইদা, তারেক মাহমুদ, আব্দুস সাত্তারসহ প্রমুখ।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস