Alexa শুক্রবার আছড়ে পড়তে পারে ‘ফণি’

ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৮ ১৪২৬,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

‘অতি প্রবল’ ঘূর্ণিঝড় ফণি ধেয়ে যাচ্ছে ওড়িশার দিকে

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৫১ ১ মে ২০১৯   আপডেট: ১৬:৪০ ১ মে ২০১৯

ঘণ্টায় ৭ কিলোমিটার বেগে ভারতের ওড়িশা উপকূলের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে হারিকেনের তীব্রতাসম্পন্ন অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’। ঘূর্ণিঝড়টিতে ঘণ্টায় ১৭০ কিলোমিটার গতির বাতাসের শক্তি রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। 

ভারতের আবহাওয়া অফিস বলছে, শুক্রবার বিকেলে গোপালপুর ও চাঁদবালির উপর ১৮৫-২০৫ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়তে পারে ফণি। ঘূর্ণিঝড়টি উদয়গিরির উপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আমেরিকান জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার।

আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক একে রুহুল কুদ্দুস দুপুরে ব্রিফিংয়ে জানান, ঘূর্ণিঝড় ফণি বাংলাদেশ উপকুলে আঘাত হানবে কি-না তা নিশ্চিত নয়। তবে এ মুহূর্তে ঘূণিঝড়টির যে গতিবিধি তা পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হানার পাশাপাশি বাংলাদেশ ভূখন্ডে আঘাত হানার সম্ভাবনা ৭ ভাগ। 

ঘূর্ণিঝড়টির গতিবিধি যে কোনো সময় পরিবর্তনও হতে পারে বলে জানান একে রুহুল কুদ্দুস।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল থাকায় সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদেরকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণি আরো সামান্য উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।

এটি আজ বুধবার দুপুর ১২ টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১১৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১০৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ১১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরো ঘণীভূত হয়ে উত্তর/উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে তিনি জানান।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টা ১৬০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া অফিসের হিসাবে মঙ্গলবার রাত ১১টায় ওড়িশার পুরি থেকে ৭২০ কিলোমিটার; অন্ধ্রের বিশাখাপত্তম থেকে ৪৯০ কিলোমিটার এবং চেন্নাই থেকে প্রায় ৬৯০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থান করছে ঘূর্ণিঝড়টি।

ওই সময় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬৫ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়োহাওয়ার আকারে ১৯৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এটি আরো শক্তি বাড়িয়ে ওড়িশার দিকে ধেয়ে যাচ্ছে।

শুক্রবার বিকেল নাগাদ ফণি ওড়িশা উপকূলে গোপালপুর ও চাঁদবালির কাছে আছড়ে পড়বে বলে মনে করছে আবহাওয়া অফিস। এর জেরে পশ্চিমবঙ্গ উপকূলেও ঘণ্টায় ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার থেকে ২০৫ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিবেগে ঝড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ওড়িশার আবহাওয়া দফতরের ডিরেক্টের এইচ আর বিশ্বাস জানিয়েছেন, ওড়িশা উপকূলবর্তী অঞ্চলে আঘাত হানার পর ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিমবঙ্গের দিকে বাঁক নেবে। পশ্চিমবঙ্গে ঢোকার সময় ঝড়ের গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ৮০-৯০ কিলোমিটার। এমনকি সেটা ১০০ কিলোমিটারও হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন আবহবিদরা।

সেই সঙ্গে প্রবল বৃষ্টিপাতেরও সম্ভাবনা রয়েছে। মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে দুই মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা এবং কলকাতাতে। এরই মধ্যেই দেশটির দিঘা, মন্দারমণি, বকখালি, সাগরদ্বীপ-সহ উপকূলবর্তী অঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। 

ফণির গতিপথ বিশ্লেষণ করে জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত এ ঝড় অন্ধ্র উপকূলের দিয়ে অগ্রসর হয়ে তারপর উত্তরে বাঁক নিয়ে ওড়িশা উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে হারিকেনের তীব্রতাসম্পন্ন অতি প্রবল এ ঘূর্ণিঝড়। ফণি স্থলভাগে উঠে আসার সময় উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হতে পারে স্বাভাবিকের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে। 

এক প্রতিবেদনে একুওয়েদার জানিয়েছে, যে বিস্তীর্ণ অঞ্চল ফণির তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, সেখানে দশ কোটির বেশি মানুষের বসবাস। 

এই ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে ভারত সরকার এরইমধ্যে অন্ধ্র, ওড়িশা, তামিল নাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জন্য জরুরি সহায়তার বরাদ্দ দিয়েছে। পাশাপাশি জরুরি ত্রাণ সহায়তা ও উদ্ধার কাজে অংশ নেয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সদস্যদের। 

ভারতীয় আবহাওয়া অফিসের রেকর্ড অনুযায়ী, ১৮৯১ সাল থেকে ২০১৭ পর্যন্ত এপ্রিল মাসে বঙ্গোপসারে সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ১৪টি ঘূর্ণিঝড়। তার মধ্যে ২০০৮ সালের নার্গিসই কেবল উপকূল অতিক্রম করেছে।

ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ আশপাশের আকাশ থেকে নিজের কেন্দ্রের দিকে মেঘ টেনে নেয়ায় বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় গত চার দিন বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। আগের দিনের মতই মঙ্গলবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে, ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

দেশের বেশিরভাগ এলাকা তাপদাহে পুড়লেও সিলেটে ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। দিনের সর্বনিম্ন ২০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটেই।   

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ফরিদপুর, রাজশাহী, ঈশ্বরদী, মোংলা, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলের ওপর দিয়ে যে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে তা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে বুধবার।

রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআর

Best Electronics
Best Electronics