শীত রাতের গল্প ।। মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=154266 LIMIT 1

ঢাকা, শুক্রবার   ০৭ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৩ ১৪২৭,   ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

শীত রাতের গল্প ।। মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ

গল্প ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৩৮ ৩ জানুয়ারি ২০২০  

অলঙ্করণ: মিজান স্বপন

অলঙ্করণ: মিজান স্বপন

‘এই সব শীতের রাতে আমার হৃদয়ে মৃত্যু আসে;
বাইরে হয়তো শিশির ঝরছে, কিংবা পাতা,
কিংবা প্যাঁচার গান; সেও শিশিরের মতো, হলুদ পাতার মতো।’ - জীবনানন্দ দাশ

পকেট গেইটের পার্শ্ববর্তী রাস্তার পশ্চিম পাশে একটা বট গাছ। ঠিক পেছনেই ওয়াসার পানির পাম্প। পাম্প ঘরের দেয়ালটা উত্তর-দক্ষিণে প্রসারিত। সামনের রাস্তার সমান্তরালে। দেয়ালের গায়ে সিমেন্টের রিলিফ ওয়ার্ক। ফাঁপা বেলুনের ত্রিমাত্রিক জলের ফোঁটা। চিকণ প্রান্তটা ওপরের দিকে। দেয়ালের গায়ে আটকে আছে। ধূসর নীল রঙের। জল অথবা জীবনের প্রতীক চিহ্ন। রঙটা লাল হলে একে রক্তের ফোঁটার মতন মনে হতো।

গাছটার বয়স ন্যূনতম কয়েক শতাব্দী। কাণ্ড আর শাখা প্রশাখা বয়সের ভারে ন্যুব্জ। সামনে রাস্তা এবং পেছনে সরকারি জায়গার মধ্যবর্তী স্থানে জন্মানোর কারণে ইচ্ছে মতন বেড়ে উঠতে পারেনি। সূর্যমুখী ফুলের মতন যখনই যেদিকে গ্রীবা বেঁকিয়ে বাড়তে গেছে, তখনই ছেঁটে দেয়া হয়েছে। অথবা হাত পা ভেঙে দেয়া হয়েছে। কাক ছাড়া অন্য কোনো পাখি বসে না এর শাখা-প্রশাখায়। গাছের দুইদিকে দুটো মেইকশিফট দোকানের সিমেন্টের দেয়াল কাণ্ডের গোঁড়ার দিকে প্রায়ান্ধকার একটা ফাঁকা জায়গা সৃষ্টি করেছে। মাধ্যাকর্ষণের টানে ভূমির দিকে নেমে আসা বটের ঝুলন্ত শিকড়গুলো সাপের মতন। একে বেঁকে নারীর কপালের ওপরে ভেজা চুলের গুচ্ছের মতন লেপ্টে আছে। শুধুমাত্র এটাই এক ধরণের পৌরাণিক নান্দনিকতা প্রদান করেছে বৃক্ষটিকে। কম্বোডিয়ার এঙ্করভাটের পার্শ্ববর্তী বটগাছের ঝুড়ির মতন।

গাছের কোটরের ভেতরে একটা অতি জীর্ণ চায়ের দোকান। কাক অথবা কবুতরের বাসার মতন। ছাদটা নীল পলিথিন দিয়ে তৈরি। এই পলিথিন ভেদ করে শিকড়গুলো ওপর থেকে নীচে নেমে এসে পুনরায় ডানে বামে চলে গেছে। বিখ্যাত কোন পাঁচ তারা হোটেলের সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশন সিস্টেমের পাইপের মতন। বৃষ্টির ধারা নেমে আসে পলিথিনের ছিদ্র দিয়ে। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা সকল ঋতুতেই এই কোটর কুয়াশা কিংবা সিগারেটের ধুঁয়ায় আচ্ছন্ন থাকে!

আমার ছোট মেয়ের একটা পোষা বিড়াল ছিল। একদিন অকারণেই বিড়ালটা হারিয়ে গেল। আমার মেয়ের খুব মন খারাপ। আমরা গাড়িতে করে যেখানেই যাই না কেন, তার চোখ সারাক্ষণ হারিয়ে যাওয়া বিড়ালটাকেই অনবরত অনুসন্ধান করতে থাকে। জায়গাটা আমার বাসা থেকে কাছেই। একদিন ওকে নিয়ে পকেট গেইট দিয়ে বেরিয়ে রিক্সায় করে পুরাতন কচুক্ষেত বাজারের দিকে যাবার সময়ে সে বলল, ‘পাপা, আমি আমাদের বিড়ালটাকে বটগাছটার কোটরের ভেতরের দোকানের ছাদে দেখেছি। গতকাল বিকেলে।’ রজনীগন্ধা অফিসার্স বাসস্থান এলাকার মসজিদের পশ্চিম পাশে শিশুদের খেলার জন্যে একটা উঁচু স্লাইড আছে। এই স্লাইডের চূড়ায় আরোহণ করলেই এলাকার প্রাচীরের ওপারের সবকিছু দেখা যায়।

সুতরাং বিকেলের দিকে আমি দোকানটায় গেলাম। বিড়ালের খোঁজে। আশেপাশে বিড়ালের টিকিও নেই। শীতের লম্বা কোট পরে এক বর্ষীয়ান ব্যক্তি কোটরের ধোঁয়ার ভেতরে দাঁড়িয়ে আছে। তার এক চোখ অন্ধ। অন্য চোখের রঙ ভীষণ ঘোলাটে। ডায়াবেটিসের রোগীর চোখের মতন। গভীরতা নেই। অথবা দিনের আলোতে আমাদের হারিয়ে যাওয়া বিড়ালের চোখের মতন। কোটরের দোকানের মালিক ইনিই। পেছনের বট গাছের মতই প্রাচীন এই ব্যক্তি। আমি দূর থেকে রাস্তা অতিক্রম করার সময়ে অনেক বারই তাকে দেখেছি। গ্রীষ্মকাল ছাড়া বর্ষা, শরত, হেমন্ত অথবা শীত সব ঋতুতেই সে নিলামের দোকান থেকে কেনা এই পুরনো কোটটা পরে থাকে। তাকে দেখলেই আমার দস্তয়ভস্কির বিখ্যাত এক উপন্যাসের চরিত্র বলে মনে হয়। কখনোই বসে না। সারাক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে চা তৈরি করে। বিক্রি করে। এই দোকানের জন্যেও কি তাকে ভাড়া দিতে হয়? আমি জানি না। হয়তোবা দিতে হয় তাকে। অথবা দিতে হয় না। তবে পুরো এলাকাটা সরকারি।

মাঝে মধ্যেই আমি এই চায়ের দোকানে যেতাম। বিড়াল খুঁজতে যাওয়ার পর থেকে। একটা জনাকীর্ণ উজ্জ্বল নগরের ছোট্ট এই অংশের প্রায়ান্ধকার ভাবটা আমার সত্যিই ভাল লেগে গিয়েছিল। অথবা চা খেতে, বিড়ালের খোঁজে, অথবা বিড়াল চোখের এই মানব এবং তার সঙ্গীদের সাহচর্যের জন্যে আমি সেখানে যেতাম। দোকানে সর্বক্ষণ কয়েকজন বসে থাকে। এরা আমাকে কেউই চিনে না। অথবা চিনলেও প্রকাশ করে না। এমন কি আমার বিষয়ে কোনো ধরণের আগ্রহও প্রদর্শন করে না। বয়স্ক দোকানী লোকটি যত্ন করে সবার জন্যে কন্ডেন্সড মিল্ক এবং অতিরিক্ত চিনি দিয়ে চা বানিয়ে দেয়। কোনো কথাই বলে না। মাঝে মধ্যে মনে হয় সে বোবা। তবে অন্য বিভিন্ন বয়সী মানুষেরা আলাপচারিতা অথবা খোশগল্পে মেতে থাকে। এদের ভেতরে একজন স্থানীয়। সবচেয়ে প্রবীণ। ওয়াসার পাম্পের পেছনেই হয়ত তার বাড়ি। এই লোক সারাক্ষণ স্মৃতিচারণ করেন। পাকিস্তান আমল, কচুক্ষেত সেনানিবাসের সৃষ্টি, বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ির গল্প, সরকার বাড়ির গল্প। তাদের ভূমিহীন হওয়ার গল্প। আমি জানতামই না যে এক সময়ে ঢাকা সেনানিবাসের স্টাফ রোড জায়গাটার নাম ছিল ‘সরকার বাড়ি’। যেখানে বর্তমানে ‘ নক্ষত্র ‘ নামের অট্টালিকা দিবারাত্রি আলোর কিরণ বিতরণ করে যাচ্ছে।

মাঝে মধ্যে দুই একজন আসে, যারা অসাধারণ সব গল্প শোনায়। একদিন একজন এসেই বলল, ‘আজ সকালে গিয়েছিলাম প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদের বাসায়। বিরাট ড্রইং রুম। ৩০/৪০ জন বসে আছে। একটা বিরাট গামলার ভেতরে মুড়ি রাখা আছে। তার পাশেই প্রকাণ্ড এক কাঁঠাল ভেঙে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় ফল। সবাই মনের সুখে খাচ্ছে। প্রায় ঘণ্টা খানেক পর প্রেসিডেন্ট এলেন। লুঙ্গি এবং গেঞ্জি পরিহিত। আমরা সবাই দাঁড়িয়ে গেছি। তিনি এক এক করে সবার সামনে যাচ্ছেন। এক লোক বলল, ‘স্যার, আমার ছেলেটাকে সেনাবাহিনীতে ঢুকাতে চাই’। প্রেসিডেন্ট অবাক। তিনি বললেন, ‘তাহলে আর্মি স্টেডিয়ামে না গিয়ে আমার কাছে এসেছ কেন?’ পরের জন কাঁচুমাচু হয়ে বলল, ‘স্যার, আপনার মোবাইল নম্বরটা আমার দরকার!’ প্রেসিডেন্ট বললেন, ‘পৃথিবীতে এত মানুষ থাকতে আমার মতন বুড়া মানুষের মোবাইল নম্বর তোমার দরকার হলো!’ আমি ভীষণ মজা পাচ্ছি। আমার সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়ে গেল আমার সতীর্থ এক এসএসএফ (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স) অফিসারের কথা, ‘বিচারপতি শাহাব উদ্দিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর প্রথম দিন বঙ্গভবনে এসেছেন। বঙ্গভবনের চারপাশের দেয়ালজুড়ে অসংখ্য সিকিউরিটি পোস্ট। সবগুলোই চতুষ্কোণ আকারের। প্রেসিডেন্ট বিস্মিত কণ্ঠে আমার পরিচিত অফিসারকে বললেন, ‘ওই গুনা কী? পায়খানা নাকি?’ আমি হাসতে হাসতে অস্থির। আমি খেয়াল করেছি বিখ্যাত ব্যক্তিরা অনেক সময়েই সাধারণ মানুষের মতো আচরণ করেন। হেমলক পান করার পূর্বে সক্রেটিসের শিষ্যরা সবাই মিলে তার কাছে গেল তার নিকট থেকে শেষ অমূল্য উপদেশ শোনার জন্যে। সক্রেটিস জ্ঞানগর্ভ কিছুই বললেন না। শুধু তার সবচেয়ে প্রিয় শিষ্যকে কাছে ডেকে নির্দেশ দিলেন যে অমুকের কাছ থেকে তিনি একটা মুরগী নিয়েছিলেন। সেটার দামটা যেন তাকে দিয়ে দেয়া হয়!

প্রতিদিনই রাতের নিশুতি প্রহর কেটে যাবার পর ভোরবেলার নিঃশব্দ প্রস্তুতি শুরু হয় আকাশ মাটিতে। সেই লোকটি তখন দোকানে দাঁড়ায়। প্রত্যাবর্তন করে রাত এগারোটার পর। কোনদিনই এর ব্যত্যয় সে করেনা। আমি প্রায়ই খেয়াল করেছি সারাক্ষণ সঙ্গীদের সঙ্গে থাকার পরেও লোকটা বেশিরভাগ সময়েই অন্যমনস্ক থাকে। জাগ্রত একটা চোখ দিয়ে সে কোনো এক অনির্দেশ্য দৃষ্টিতে সামনের ছোট আকাশটার দিকে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু তার দৃষ্টি রাস্তার অপর পাড় পর্যন্ত প্রসারিত হয় কিনা সে সম্পর্কে আমার প্রচুর সন্দেহ আছে।

একদিন আমি তাকে তার পরিবারের কথা জিজ্ঞেস করি। তার দুই ছেলে, তিন মেয়ে। বড় ছেলেটা তিতুমির কলেজে পড়ে। অন্যটা ক্লাস টেনে। বড় মেয়ে আগে পড়ত। এখন পড়ে না। এই চায়ের দোকানের উপার্জনের ওপর পুরো পরিবার নির্ভর করে। সেনানিবাসের পার্শ্ববর্তী এই রাস্তার সংস্কার কাজ চলছে। রাস্তার পশ্চিম পাশের এই দোকানগুলোকে ভেঙ্গে দিয়ে রাস্তাকে প্রশস্ত করা হবে। ওগুলো ভেঙ্গে দিলে তার এই দোকানও থাকবে না। অতঃপর তার সন্তানগুলো নিয়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তার সে কিছুই জানে না!

পরের বছরের শীতে একদিন আমি তার দোকানে যেয়ে দেখি সে দোকানে অনুপস্থিত। তার জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে এক যুবক। খেয়াল করলেই বোঝা যায় তার বড় ছেলে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘তোমার বাবা কোথায়? অসুস্থ নাকি? না কি দেশে গেছেন?’ ছেলেটা খুব সংক্ষিপ্তভাবে আমাকে জানাল যে তাদের দেশে কোনো ফিরে যাবার জায়গা নেই। মাত্র দুইদিন আগে তার বাবা শেষরাতে চায়ের পানি গরম করে দোকানে যাবার পথে হার্ট ফেইল করে মারা গেছেন! এখন থেকে সেই দোকানে বসবে। আমি ভীষণ অবাক! কাউকে কোনো পূর্ব সঙ্কেত না দিয়ে, সমস্ত দায়িত্ব ফেলে দিয়ে মানুষ এভাবেই চলে যায়!

এর পরেও আমি কয়েকবার সেই দোকানে গিয়েছি। ছেলেটিকে আমি তার কলেজের বন্ধুদেরকে নিয়ে কাস্টমারদের পাত্তা না দিয়ে খোশগল্পে মত্ত হতে দেখেছি। স্মার্ট ফোন, এমনকি আই ফোন নিয়েও কথা বলতে শুনেছি। কিন্তু কিছুদিন পর বন্ধুরাও লাপাত্তা হয়ে গেছে। কারণ ছেলেটার শরীর থেকেও কিছু অদৃশ্য শিকড় বের হয়ে ক্রমশ তাকে স্থবির করে দিচ্ছিল। পৃথিবীতে কিছু কিছু সত্যি আছে যেগুলো দেখা যায় না, কিন্তু অনুভব করা যায়। এটা তেমন এক সত্য। অতঃপর আমি তাকে দেখেছি বাবার মতো অনির্দেশ্য দৃষ্টিতে সামনের ছোট আকাশটার দিকে তাকিয়ে থাকতে। এক সময়ে তার দৃষ্টিও হয়তোবা ক্রমশ ঘোলা হয়ে আসছিল!

সেনাবাহিনী হতে অবসরের পর বাসস্থান পরিবর্তন করে প্রথমে সেনানিবাস রেসিডেন্সিয়াল এরিয়ার ১১ নম্বর রোডে এবং তৎপরবর্তীতে মহাখালী ডিওএইচএস এর রেল লাইনের পাশে বাসা ভাড়া নিয়েছি। সারা রাত ধরে অসংখ্য দুরাগত ট্রেনের হুইসেলের শব্দ শুনি। স্বপ্ন বা জাগরণ দুই সময়েই। স্বপ্নের মাঝে মধ্যে এই শব্দকে মাঝে মধ্যে ইসরাফিলের শিঙার আওয়াজ বলে মনে হয়। আমার অন্তরাত্মার ভেতরে শীতের স্থবিরতা। এক দিন আমরা সবাই স্থির হয়ে যাব।

ডিসেম্বরের শেষ। মাত্র কয়েকদিন পরেই ২০১৭ সন এসে কড়া নাড়বে আমাদের হৃদয়ের দরজায়। এবছর শীত জমে নাই এখনো। তবু দুইদিন পূর্বে সন্ধ্যার পর বনানী-কচুক্ষেত সড়কের ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সেই চায়ের দোকানের কাছে চলে গেলাম। রাস্তাটাকে প্রশস্ত করার জন্য দোকানগুলোকে ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। বট গাছটাকেও কেটে ফেলা হয়েছে। কোথাও সেই দোকানের চিহ্ন মাত্র নাই!

আকাশে চাঁদ উঠেছে। ঘন কুয়াশা ভেদ করে জ্যোৎস্না ঝরে পড়ছে। চরাচরের সবকিছুই অস্পষ্ট অথচ অপরূপ সৌন্দর্যে উদ্ভাসিত। শুধু বট গাছের প্রকাণ্ড গুড়িটা সন্ত্রাসীদের ছোরায় ক্ষতবিক্ষত শরীর নিয়ে হাত, পা, মুণ্ডুহীন হয়ে প্রবল শীতের ভেতরে শুয়ে আছে। আলোআঁধারিতে। চারপাশে প্রবল হিম। ফোটায় ফোটায় বৃষ্টি অথবা শিশির ঝরছে।

(২০১৬ সালের শীত রাতে লেখা)

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর