Alexa শীতে শিশুদের যত্ন

ঢাকা, শনিবার   ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২২ ১৪২৬,   ০৯ রবিউস সানি ১৪৪১

শীতে শিশুদের যত্ন

জুনায়েদ হোসেন

 প্রকাশিত: ১৯:৪৯ ২৯ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৬:৩২ ৩১ জানুয়ারি ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সাধারনত শীতকালেই ঠাণ্ডা, সর্দি, কাশিসহ অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাব একটু বেশি দেখা যায় ও কিছু ভাইরাস ঘটিত রোগ শিশুর স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। 

তাই শীতে শিশুর যত্ন নিতে তার স্বাস্থের প্রতি বিশেষ ভাবে খেয়াল রাখতে হয়। একটু অসাবধানতা ডেকে আনতে পারে অনেক বড় সমস্যা। এই শীতে শিশুর সঠিক পরিচর্যা ও সুস্বাস্থের প্রতি অন্য সময়ের চেয়ে একটু বেশি যত্নবান হোন। 

তাই এই লেখাটি ভালোভাবে পড়ে বুঝে নিন শীতে শিশুর স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায় ও শীতে শিশুর পরিচর্যার কৌশল।

শীতে শিশুর যত্ন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয়:
শিতে শিশুকে উপযুক্ত আরামদায়ক ও কিছু বাড়তি গরম কাপড় গায়ে দিতে দেবেন। তার মাথা, ঘাড়, হাত এবং পা ভালোভাবে গরম কাপড়ে ঢেকে রাখার ব্যবস্থা করুন। সাধারনত প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের চেয়ে শিশুদের এক লেয়ার বেশি কাপড় নিশ্চিত করুন। আর অবশ্যই শিশুদের জন্য কয়েক জোড়া শীতের কাপড় ব্যবহার করবেন এবং দুই থেকে তিন দিন অন্তর অন্তর তা পরিস্কার করে ধুয়ে ভালো করে রোদে শুকিয়ে নিবেন।

শীতের পোশাক:
শীত থেকে বাচ্চাদের নিরাপদ রাখার প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো শিশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণ কাপড় পরানো। শীত থেকে রক্ষা করার জন্য শুধু গরম পোশাক পরালেই চলবেনা। বড়দের চাইতে বাচ্চা বা অল্প বয়স্ক শিশুদের শরীরে শীতের অনুভূতি বেশি থাকে। তাই বাচ্চাদের যাতে ঠাণ্ডা লেগে না যায় তার জন্য শীতের তীব্রতা অনুযায়ী পোশাক পড়াতে হবে।

গোসল:
অনেকেই শীতকালে বাচ্চাদের গোসল করাতে ভয় পান। গোসল করালে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পরবে এটাই বেশির ভাগ বাবা-মায়ের ধারণা। কিন্তু ব্যাপারটি পুরোটাই ভিন্ন। বাচ্চাদের শীতকালে আরো বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। শিশুর শরীরের তেল ও ময়লা ধুয়ে ফেলতে গোসল করানো জরুরি। গোসল করানোর সময় বাচ্চাদের উপযোগী সাবান ব্যবহার করতে হবে। কারণ বড়দের সাবানে অনেক বেশি ক্ষার থাকে এবং এই ক্ষার শিশুদের ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক। গোসলের জন্য কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা ভালো। খুব বেশি সময় ধরে শিশুকে গোসল করাবেন না। গোসল শেষে দ্রুত শরীর ও মাথা ভালোভাবে মুছে ফেলতে হবে। গোসল শেষ করে হালকা রোদে বসতে পারলে শিশু বেশ আরাম পাবে।

ময়েশ্চারাইজ:
শীতে যেকোণো শিশুর ত্বকের যত্নে সব থেকে যেটি বেশি জরুরী সেটা হলো ময়েশ্চারাইজার। শিশুর ত্বক শুষ্ক থেকে আর্দ্র করার প্রক্রিয়াকে ময়েশ্চারাইজার বলে। গোসলের পর বাচ্চাদের উপযোগী অলিভ ওয়েল অথবা ময়েশ্চারাইজিং বেবি লোশন ব্যবহার করুন। শিশুকে গোসল করানোর পর নরম কোনো বেবি টাওয়েল দিয়ে শরীর মুছিয়ে তারপর মশ্চারাইজার লাগাতে হয়।

সুতি কাপড় ব্যবহার:
অন্য মৌসুমের চেয়ে শীত ঋতুর বিষয় একটু ভিন্ন। নবজাতক শিশুর শরীরে তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি হতেও সময় লাগে। তাই যে শিশু কিছুদিন হলো পৃথিবীতে এসেছে তাকে উষ্ণ তাপমাত্রায় রাখতে হবে। যদি ঘরের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি হয়, তবে সুতিকাপড় পরিয়ে কাঁথা দিয়ে জড়িয়ে রাখতে হবে। শিশুর ত্বকের অভ্যন্তরে বাতাস চলাচল করতে সুতি কাপড় খুব উপকারী। এমনকি আপনার শিশুর ত্বক নরম রাখতেও সুতি কাপড় খুব কাজের।

তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রির নিচে হলে সোয়েটার ব্যবহার করা যেতে পারে। শিশুকে ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। বুকের দুধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে শিশু ঠাণ্ডা, কাশি ইত্যাদিতে কম আক্রান্ত হয়। দিনের বেলা জানালা খুলে রোদ ও (ঠাণ্ডা বাতাস এলেও) নির্মল বাতাস ঘরে ঢুকতে দিন। ঘরের মধ্যে কাপড় না শুকিয়ে অবশ্যই রোদে শুকাতে হবে। বাচ্চাকে দোলনায় বা আলাদা মশারির নিচে না রেখে মায়ের কোলঘেঁষে রাখা ভালো। এতে বাচ্চা উষ্ণ থাকবে, মায়ের সঙ্গে আন্তরিকতা বাড়বে এবং বুকের দুধ খাওয়াতে সুবিধা হবে।

বেশি শোষণ ক্ষমতার ডায়াপার ব্যবহার:
শীতকালে ডায়াপার ভিজে গেলে বা লিক করলে বাচ্চার ঠান্ডা লেগে যাবার সম্ভাবনা থাকে। এজন্য অবশ্যই উচ্চ শোষণ ক্ষমতার এবং লিকপ্রুফ ডায়াপার ব্যবহার করতে হবে। প্রতি ছয়ঘন্টা পরপর ব্যবহৃত ডায়াপারটি বদলিয়ে দিন, যদিও তা শুকনো থাকে।

ঠাণ্ডা লেগে গেলে:
শীতে অনেক সময় বাচ্চাদের ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। তখন শিশুর নাক বন্ধ হয়ে গেলে রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। সে কারণে রাতে শুবার আগে দুই নাকে দুই ফোঁটা ন্যাজাল ড্রপ দিয়ে দিলে শিশুর ঘুমের আরাম হবে। শীতে ঠান্ডা লেগে কাশি, শ্বাসকষ্ট কিংবা বুকের ভেতর গড়গড় আওয়াজ অথবা বুকের হাড় শ্বাস নেওয়ার সময় ভেতরের দিকে ডেবে গেলে সঙ্গে সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। হালকা গরম পানির সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করালে ভালো ফল পাওয়া যায়।

শীতে শিশুদের নিউমোনিয়া, সর্দিকাশি এ ধরনের সমস্যা খুবই সাধারণ ব্যাপার। এজন্য শীতের প্রকোপ থেকে শিশুকে রক্ষা করতে বাবা-মাকে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে