ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৭ ১৪২৫,   ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪০

নোয়াখালীতে প্রতিমা শিল্পীদের শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা

নোয়াখালী প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৮:০০ ১০ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ১৮:০০ ১০ অক্টোবর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আর কয়েক দিন পরই দুর্গা পূজা। রঙের কাজ শেষ করে প্রতিমাগুলোর গায়ে কাপড় ও গয়না পড়ানো হবে। বাঁশ-কাঠ আর কাঁদামাটি দিয়ে তৈরি প্রতিমাগুলো রঙ দিয়ে সাজানোর দৃশ্য দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন সনাতন ধর্মের লোকজন।

প্রতিমার রঙের ও সাজসজ্জার কাজ করছে মৃৎশিল্পী অমিত সাহা। তার দুই সহকারি অসুর, সিংহ, মহিষ, গণেশ, সরস্বতী, কার্তিক প্রতিমার গায়ে রঙের কাজ করছেন।

বুধবার দুপুরে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার মন্ডলপাড়ায় গিয়ে এই চিত্র দেখা যায়। ইসকন সদর দপ্তর এবং পৃথিবীর সবচেয়ে বড়মন্দির মায়াপুর অদ্ভূত মন্দিরের আদলে তৈরি হচ্ছে ত্রিনয়নী পূজা মন্ডপ।

একই এলাকায় স্থানীয় কলেজ রোড,চোমুহনীর হিন্দুরা ত্রিশূল মন্দিরে এবারে ‘জীবন্ত দুর্গা’ থিমে হাজির হচ্ছে ‘ত্রিশূল’ পূজা মন্ডপ। দেবীর চক্ষুদান থেকে শুরু করে বোধন সাজসহ সব প্রায় শেষ পর্যায়ে। পূজা উপলক্ষে মন্দির ও তার আশেপাশে সাজসজ্জার কাজ করছে তরুণরা।

এই মন্ডপের মতো নোয়াখালীর প্রতিটি মন্ডপে শারদীয় দুর্গা পূজা ঘিরে প্রতিমার শেষ মুহুর্তের কাজ চলছে। কারিগরদের দম ফেলার ফুসরত নেই।

জানতে চাইলে ছাত্র সমাজের সভাপতি রাজেন সাহা বলেন,‘৫০ বছর ধরে ছাত্র সমাজের আয়োজনে প্রতি বছর এখানে দুর্গা পূজার আয়োজন হয়। আমার বাপ-দাদারা এখানে পূজার আয়োজন করে আসছে। এখন আমরা করছি।  প্রতি বছর বর্তমান প্রেক্ষাপট, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন থিমে দুর্গা মন্ডপকে সাজানো হয়। এবারের থিম নবরূপে নবদুর্গা ও রক্তবীজ বধ।’

থিমের বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘মা নবরূপ শোকহারিণী, জন্মদায়িনী, মানপ্রদায়িনী, শান্তিদায়িনী, শ্রীদায়িনী, প্রাণরূপিনী এই সব রূপেই আমাদের মাঝে বিরাজমান। এই রূপেই নব মহিমাময়ী মা পূজিত হবার জন্য আমাদেরমন্ডপে অধিষ্ঠান হবেন। বিভিন্ন রূপে দূর্গা প্রতিমা গুহাশয়ে বসানো হবে। এছাড়া ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রের মাধ্যমে মা দুর্গা অসুরের রক্ত বীজ বধ হওয়ার দৃশ্যও দেখানে হবে এখানে।’

প্রতিমার তৈরিতে মৃৎশিল্পী গণেশ পাল জানান, প্রতি বছর তিনি মন্ডপে মন্ডপে প্রতিমার কাজ করেন। ২৮ বছর ধরে প্রতি বছর পূজার আগে এসে এখানে কাজ করেন। এক মাস আগে থেকে তিনি প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেছেন।

একই ইউপি মজুমদারখীল সার্বজনীন দুর্গা মন্ডপে প্রতিমার মাটির কাজ শেষ করে রঙের ও সাজসজ্জার  কাজ করছে মৃৎশিল্পী অমিত সাহা। জানতে চাইলে তিনি জানান, এক সেটে দুর্গার সঙ্গে থাকে অসুর, সিংহ, মহিষ, গণেশ,সরস্বতী, কার্তিক প্রতিমা।  আগে একটা প্রতিমা সেট তৈরি করতে খরচ হতো ৩০ থেকে৪০ হাজার টাকা। কিন্তু এখন বাঁশ, কাঠসহ প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম অনেক বেশি। তাই প্রতি সেট প্রতিমা তৈরিতে খরচ হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা।

দুর্গা মন্ডপ পূজা পরিষদের একজন নেতা বলেন ‘পূজা উপলক্ষে পুলিশ-আনসারের পাশাপাশি নিজেদের স্বেচ্ছাসেবক থাকবে।  পূজা উপলক্ষে এখানে সাংষ্কৃতিক অনুষ্টানের আয়োজনও করা হবে।’

বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ নোয়াখালী শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক নির্বানীতোষ সাহা  ভাষ্কর বলেন, ‘গত বছরের মতো এবারও জেলার ১৬৫ টি পূজা মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ১৫ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শুরুহবে। ১৯ অক্টোবর দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই উৎসব। এবার দেবীর আগমন নৌকায় ও প্রস্থান ঘোটকে(ঘোড়ায়)।’

এদিকে পূজা উপলক্ষে নোয়াখালী এসপি ইলিয়াস শরিফ জানান, গুরুত্বপূর্ণ ও অতি গুরুত্বপূর্ণ পূজা মন্ডপে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি বিশেষ নজরদারি রাখা হবে।

নোয়াখালীর ডিসি তন্ময় দাস বলেন, দুর্গা পূজাকে সার্বজনীন উৎসবে পরিণত করতে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এবার পূজা উপলক্ষে নোয়াখালীতে মোট ১৬৫টি মন্ডপে ৫০০ কেজি করে ৮২,৫০০ কেজি চাল বিতরণ করা হবে। সনাতন সম্প্রদায়ের লোকজন নির্বিঘ্নে যাতে পূজা উদযাপন করতে পারে জেলা প্রশাসন সে বিষয়েও সজাগ থাকবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এসকে